Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / কাজের মানুষের মাঝ থেকে সেরা ১০ জন নায়কের একটি তালিকা ।। songbadprotidinbd.com

কাজের মানুষের মাঝ থেকে সেরা ১০ জন নায়কের একটি তালিকা ।। songbadprotidinbd.com

  • ১৪-১২-২০১৭
  • 686ecb3185a0d990fb2d21f8a25d695d-5a322b95c9949সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  কাজের প্রতি নিষ্ঠা আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা থেকে কিছু মানুষ চুপচাপ কাজ করে যান। কাজের গুণেই কেউ কেউ পেয়ে যান নায়ক কিংবা বীরের খেতাব। সিএনএন সম্প্রতি তেমনই কিছু মানুষের মাঝ থেকে সেরা ১০ জন নায়কের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

    ১৭ ডিসেম্বর নিউইয়র্কে আমেরিকান মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে ‘সিএনএন হিরোস: অ্যান অল-স্টার ট্রিবিউট’ শীর্ষক অনুষ্ঠান। বছরের সেরা নায়কদের নিয়ে এটি সিএনএনের ১১তম আয়োজন। এতে পুরস্কার হিসেবে প্রত্যেক নায়কের হাতে তুলে দেওয়া হবে ১০ হাজার মার্কিন ডলার। তাঁদেরই একজনকে ‘সিএনএন হিরো অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করা হবে। তিনি পাবেন এক লাখ মার্কিন ডলার। এবার শুনুন সেই ১০ নায়কের কথা:

    স্ট্যান হাইস। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াস্ট্যান হাইস
    মার্কিন টিভি সিরিজ ‘বারবিকিউ পিটমাস্টার’ প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন স্ট্যান হাইস। বারবিকিউ রান্না করতে করতেই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের মুখে কী করে একবেলা খাবার তুলে দেবেন, সেই ভাবনা তাঁকে নাড়া দেয়। এ থেকেই ২০১১ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘অপারেশন বারবিকিউ রিলিফ’ নামের একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সেই থেকে এই সংস্থার মাধ্যমে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের খাবারের ব্যবস্থা করেন। সাম্প্রতিক সময়ে টেক্সাস ও ফ্লোরিডায় ঘূর্ণিঝড়ের সময় তাঁরা প্রায় ১৭ লাখ মানুষের জন্য খাবার সরবরাহ করেছেন। গত ছয় বছর তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪৫টি প্রাকৃতিক দুর্যোগে খাবার নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়িয়েছেন। তাঁদের এ কাজে সহায়তা করতে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন।

    স্ট্যান হাইস তাঁর কাজ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটা আসলে তেমন কোনো সাহায্য নয়। কিছু ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের, কান্না আর হাহাকার করা মানুষের মুখে একবিন্দু হাসি ফোটানো আমাদের আসল উদ্দেশ্য।’

    সামির লাখানি। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াসামির লাখানি
    কম্বোডিয়ায় একটি কলেজের ২৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী সামির লাখানি। দেশটির বেশির ভাগ মানুষেরই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা নেই। এমনকি অনেক মানুষের নিয়মিত গোসল করার সাবান পর্যন্ত কেনার ক্ষমতা নেই। এ কারণে দেশটিতে প্রতিবছর অনেক শিশু ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়।

    বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৪ সালে সামির একদিন দেখেন, এক মা কাপড় কাচার ডিটারজেন্ট পাউডার দিয়ে তাঁর শিশু সন্তানকে গোসল করাচ্ছেন। এই বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারেননি। কম্বোডিয়ার হোটেলে থাকা সামির রুমে ফিরে ভাবেন, হোটেলের প্রতিটি কক্ষেই তো অতিথি চলে যাওয়ার পর রোজ তাঁদের ব্যবহার করা সাবান বাতিল করা হয়। কোনোভাবে এই বাতিল সাবানগুলো সংগ্রহ করে পুনরুৎপাদন করা গেলেই তা দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করা যাবে। এতে বাঁচবে অনেক শিশুর প্রাণ—এই ভাবনা থেকেই কাজ শুরু করেন সামির। হোটেলে হোটেলে গিয়ে ব্যবহৃত সাবান সংগ্রহ করা শুরু করেন তিনি। প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইকো-সোপ ব্যাংক’ নামের একটি সংস্থা। সারা দেশে এখন এই সংস্থার চারটি শাখা রয়েছে। স্থানীয় ৩৫ জন নারী এখানে চাকরিও করেন। সংগ্রহ করা সাবানের টুকরো গলিয়ে কখনো তরল সাবান কখনোবা বার তৈরি করে দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেন।

    এ বিষয়ে সামির লাখানি বলেন, ‘এত দ্রুত উদ্যোগটি ফলপ্রসূ হবে, তা ভাবতে পারিনি।’

    জেনিফার ম্যাডক্স। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াজেনিফার ম্যাডক্স
    যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো পুলিশের কর্মকর্তা জেনিফার ম্যাডক্স। তাঁর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় কিশোর অপরাধের মাত্রা ক্রমে বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শুধু গ্রেপ্তার করে সামাজিক এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় জেনে পার্কওয়ে গার্ডেনস এলাকায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হাতে নেন তিনি। স্কুল ছুটির পর কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে গল্প করতে বসেন। তাদের জীবনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ সুন্দর করার দিকনির্দেশনা দেন জেনিফার। গল্প করার পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের বাইরের পড়ার প্রতিও কিশোর-কিশোরীকে উৎসাহ দেন। গল্পের ছলে তাদের শেখান অপরাধ কী, সমাজে এর প্রভাবই-বা কী। আর একজন কিশোর অপরাধীর ভবিষ্যৎ কতটা অন্ধকার হতে পারে, তাও মমতা দিয়ে শেখান তিনি। সঙ্গে থাকে হালকা নাশতার ব্যবস্থা। ছয় বছর ধরে পুলিশের চাকরির পাশাপাশি এই কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন জেনিফার। আর এই কর্মসূচির ব্যয় চালাতে অবসর সময়ে বেছে নিয়েছেন ছোট্ট একটি কাজ। সেই অর্থেই চালিয়ে যাচ্ছেন কিশোর-কিশোরীর ভবিষ্যৎ নির্মাণের কর্মসূচি।

    জেনিফার ম্যাডক্স বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করেই অপরাধ নির্মূল করা যাবে না। এই সমস্যা সমাধানে পুরো সমাজকেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সাহায্য করতে হবে। এতেই তৃণমূল পর্যায় থেকে সহিংস অপরাধ দমন করা যাবে।

    রোজি মাশেল। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়ারোজি মাশেল
    দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক স্কুলশিক্ষক রোজি মাশেল। জাতিসংঘের তথ্যমতে, দেশটিতে ৩৭ লাখ এতিম শিশু রয়েছে। এর অর্ধেকের বেশি শিশুর বাবা-মা এইডস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। রোজি মাশেল নিজ উদ্যোগে কেপটাউনে এমন শিশুদের জন্য বিনা মূল্যে একটি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছেন। এ লক্ষ্যে ‘বাফুমেলেলে’ বা ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি’ নামে একটি সংস্থাও প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি কমপক্ষে পাঁচ হাজার এতিম ও অসুস্থ শিশুর দেখভাল ও খাবারের ব্যবস্থা করছেন।

    রোজি মাশেল বলেন, ‘আমার এখানকার শিশুদের কেউ কেউ সমাজকর্মী হতে চায়। তাদের সবার চোখেই স্বপ্ন আছে। তাদের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই আমার লক্ষ্য।’

    অ্যান্ড্রিউ মানজি। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়াঅ্যান্ড্রিউ মানজি
    নৌবাহিনীর কর্মকর্তা হয়ে ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন সার্জেন্ট অ্যান্ড্রিউ মানজি। পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (পিএসটিডি) ও মস্তিষ্কের আঘাতজনিত রোগে বেশ কয়েক বছর ভুগে ২০০৫ সালে চাকরি ছেড়ে ফেরত আসেন তিনি। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় সার্ফিং শুরু করেন। এতে উন্নতি হয় তাঁর।

    এরপরই অ্যান্ড্রিউ ভাবেন, এভাবে অন্য রোগীদের যদি সার্ফিং থেরাপিসহ কিছু প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলেও তাঁরাও সুস্থ হয়ে উঠবেন। এই ভাবনা থেকেই ‘ওয়ারিওর সার্ফ’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সমুদ্রসৈকতের পাশে গিয়ে তিনি বিনা মূল্যে ক্যাম্পেইন করা শুরু করেন। প্রতিটি ক্যাম্পেইনের স্থায়িত্ব ছয় সপ্তাহ করে। গত তিন বছরে এর আওতায় তিনি প্রায় ৩০০ মানুষকে এই থেরাপি দিয়েছেন। যাঁরা উপকৃত হয়েছেন।

    অ্যান্ড্রিউ মানজি বলেন, ‘আমরা শুধু রোগ মুক্তির প্রাকৃতিক উপায়গুলো নিয়ে কাজ করছি।’

    লেসলি মরিসেট। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়ালেসলি মরিসেট
    মাত্র ছয় বছর বয়সে লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হয় লেসলি মরিসেটের ছেলে। ১৯৯৭ সালে আট বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু হয়। সে সময় ইন্টারনেট এত সহজলভ্য ছিল না। তাই বিশ্বে ছেলের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি তেমন কোনো খোঁজখবর নিতে পারেননি। ছেলের মৃত্যুর পর তিনি ভাবেন, আর যেন কোনো সন্তানের এভাবে মৃত্যু না হয়। লিউকেমিয়া বা ক্যানসারে আক্রান্ত হলেও তারা যেন নিজেরাই পুরো বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এ লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে তিনি ‘গ্রাহামটাসটিক কানেকশন’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থা গড়ে তোলেন।

    লেসলির সংস্থা গুরুতর অসুস্থ শিশুদের বিনা মূল্যে কম্পিউটার, আইপ্যাড ও রোবট সরবরাহ করে। এর মাধ্যমে হাসপাতাল বা আরোগ্যসদনে থেকেও ওই শিশুরা বন্ধু, পরিবার ও স্কুলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারে। এখন পর্যন্ত তিনি দেড় হাজার অসুস্থ শিশুকে এ ধরনের উপকরণ দিয়েছেন।

    লেসলি মরিসেট বলেন, ‘আমি দেখেছি, গুরুতর অসুস্থ শিশুরা স্বাভাবিক শিশুদের মতোই থাকতে চায়। তারা স্কুলে যেতে চায়, সহপাঠীদের সঙ্গ চায়। তাই আমরা ওই শিশুদের এ ধরনের উপকরণ সরবরাহ করি। যার মাধ্যমে তারা সবার সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করতে পারে।’

    মোনা প্যাটেল। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়ামোনা প্যাটেল
    মোনা প্যাটেল ক্যালিফোর্নিয়া পলিটেকনিক স্টেট ইউনিভার্সিটি গ্র্যাজুয়েট। ১৯৯০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে একদিন রাস্তায় হাঁটার সময় এক মদ্যপ চালক তাঁর ওপর গাড়ি উঠিয়ে দেন। সে সময় তাঁর পা দুটো ভেঙে যায়। পরে হাসপাতালে দুই পা কেটে ফেলতে হয় তাঁর। এরপর শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। ঘরবন্দী একলা জীবনে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে পড়েন তিনি। পরে তিনি ভাবেন, এ ধরনের অঙ্গহানি হওয়া মানুষকে একত্র করলে কেমন হয়। তাঁদের কিছুটা আনন্দ দেওয়া, কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনে আর্থিক সহযোগিতা করা ও পড়াশোনায় উৎসাহ দিতেই ১৯৯৭ সালে মোনা ‘সান আন্তোনিও অ্যাম্পিউটি ফাউন্ডেশন’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন।

    প্রতি মাসে কিছু অঙ্গহানি হওয়া মানুষকে নিয়ে বৈঠক করেন মোনা। তাঁদের মনে সাহস জোগানোর চেষ্টা করেন। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ১০০ ব্যক্তি তাঁর সংস্থার সহযোগিতা নিয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, ২০১৫ সালে মোনার নেতৃত্বেই পা হারানো কয়েকজনের একটি দল তানজানিয়ার মাউন্ট কিলিমানজারো পর্বতের চূড়ায় ওঠেন।

    মোনা প্যাটেল বলেন, ‘নিজের জীবন উপলব্ধি করতে পারি বলেই অঙ্গহানি হওয়া মানুষদের সহায়তার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

    খালি সুইনে। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াখালি সুইনে
    জন্মের ছয় সপ্তাহের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের খালি সুইনেকে প্রতিবেশী এক নারীর কাছে একেবারে দিয়ে দেন মা-বাবা। সেই থেকে তাঁর বেড়ে ওঠাটা সুখকর ছিল না। নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়ে বড় হতে হয়েছে তাঁকে। পড়াশোনাও ঠিকমতো করা হয়নি। স্কুল বের করে দিয়েছিল তাঁকে। তাই চাকরিও জোটেনি ভাগ্যে। কিন্তু বক্সিংয়ের তাঁর ছিল প্রবল আগ্রহ। কিশোর বয়স থেকেই তা শিখেছিলেন তিনি। কিন্তু কী করবেন—এই ভাবনাই কুঁরে কুঁরে খেত। শেষমেশ ভাবলেন, তাঁর নিজের মতো রাস্তার মানুষদের নিয়েই কাজ করবেন তিনি। রাস্তার মানুষ হবে তাঁর পরিবার। কিন্তু তিনি জানেন তো শুধু জিম আর বক্সিং। ওই জানাটুকু নিয়েই শুরু করে দিলেন কাজ।

    ‘ডাউনটাউন বক্সিং জিম ইয়ুথ প্রোগ্রাম’ নামে ২০০৭ সালে একটি কর্মসূচি হাতে নেন খালি সুইনে। সপ্তাহে পাঁচ দিন করে তিনি অসহায় শিশু-কিশোরদের জিম ও বক্সিংয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। শুরুতে প্রাথমিক স্কুলে যাওয়া প্রায় ১০০ শিশুকে তিনি প্রশিক্ষণ দেন। স্কুল ছুটির পরেই তাদের নিয়ে আসেন তিনি। এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৬০ জন শিশু তাঁর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ শেষ করেছে।

    খালি সুইনে বলেন, এ পর্যন্ত কমপক্ষে ২৬০ জন শিশু প্রশিক্ষণ শেষ করেছে। তাদের সবাই হাইস্কুলও পেরিয়ে গেছে। আর ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী কলেজে পড়াশোনা করছে। তিনি বলেন, ‘বক্সিংয়ের আগে অবশ্যই বই পড়তে হবে। এ অনুপ্রেরণাও শিশুদের দেওয়া হয়। আমি আসলে শিশুদের দক্ষতা দেখতে চাই।’

    অ্যারন ভ্যালেনসিয়া। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াঅ্যারন ভ্যালেনসিয়া
    ছোটবেলায় দারিদ্র্য, মাদক আর শারীরিক নির্যাতনের মতো যন্ত্রণা কাটিয়ে বড় হয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যারন ভ্যালেনসিয়া। মাত্র নয় বছর বয়সেই তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন। মাদক বিক্রির দায়ে কিশোর বয়সেই কারাভোগও করতে হয়েছে তাঁকে। কারামুক্তির পর পার্কে শুয়ে একদিন তিনি জীবনের মোড়বদলের স্বপ্ন দেখেন। ১৯৯৯ সালে মাদক নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসা নেওয়া শুরু করেন। সুস্থ হয়ে ফিরে এসে তিনি পুরোনো গাড়ি মেরামতের দোকান দিয়ে কাজ শুরু করেন।

    অ্যারনের গ্যারেজে কিশোর বয়সী কয়েকজন কাজ করত। তাদের দেখে তাঁর মাথায় ভাবনা খেলে যায়। কিছুটা গরিব ও যেসব কিশোরের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে, তিনি তাদের নিয়ে কাজ করার স্বপ্ন দেখতে লাগলেন। ২০১৫ সালে ‘লস্ট অ্যাঞ্জেলেস চিলড্রেনস প্রজেক্ট’ নামে একটি অলাভজনক সংস্থা দাঁড় করান। এর আওতায় তিনি স্কুল ছুটির পর ওই সব কিশোরকে গাড়ি মেরামতের কৌশল শেখান। সপ্তাহে তিন দিন করে ১৫ জন শিশু-কিশোরকে তিনি এই প্রশিক্ষণ দেন। এ পর্যন্ত তিনি ১০০ শিশু-কিশোরকে এই প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। ওই শিশু-কিশোরেরা স্কুল ছুটির পরই অ্যারনের কাছে চলে আসে। এতে তাদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার কোনো আশঙ্কা থাকে না।

    অ্যারন ভ্যালেনসিয়া বলেন, ‘এখানে গাড়ি মেরামতকারীর চেয়েও শিশু-কিশোরদের অনেক বেশি কিছু শেখানো হয়। আমরা ভিন্ন উপায়ে তাদের চোখ খুলে দেওয়ারই চেষ্টা করছি।’

    অ্যামি রাইট। ছবি: টুইটার থেকে নেওয়াঅ্যামি রাইট
    যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার অ্যামি রাইট দম্পতির চার সন্তান। এদের মধ্যে বিউ ও বিটি নামের দুই সন্তান ডাউন সিনড্রোমে আক্রান্ত। অ্যামি ও তাঁর স্বামী একদিন ইন্টারনেট ঘেঁটে দেখলেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তির কোনো চাকরি নেই। একে তো নিজের দুই সন্তান একই সমস্যায় আক্রান্ত, তার ওপর তাদের চাকরি হবে না ভেবে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান তাঁরা। অবশেষে নিজেরাই কিছু একটা করে শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাকরির ব্যবস্থা করার কথা ভাবেন। সেই ভাবনা থেকেই ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে উইলমিংটনে একটি কফিশপ খোলেন তাঁরা। দুই ছেলের নামে ওই কফিশপের নাম রাখেন ‘বিটি অ্যান্ড বিউস কফি’। এখানে কাজ করার জন্য তিনি শুধু শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরই বেছে নিয়েছেন। বর্তমানে এই কফিশপে ৪০ জন শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তি কাজ করছেন। বিশেষ শিক্ষায় ডিগ্রিপ্রাপ্ত দুজন ব্যবস্থাপক তাঁদের সবকিছু বুঝিয়ে দেন। কর্মীদের বেতন দেওয়ার পর কফিশপ থেকে আসা আয়ের পুরোটাই অ্যামি তাঁর অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাবল অ্যাট ওয়ার্ক ইউএসএ’-তে দিয়ে দেন।

    অ্যামি রাইট বলেন, ‘এই কফিশপে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পায় শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা। যেটা আগে কখনোই ছিল না।’

    (Visited 26 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *