Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সাক্ষাৎকার / নগরী থেকে শিল্প-কারখানা সরিয়ে নেয়াই হবে অন্যতম কাজ: এ কে আজাদ ।। songbadprotidinbd.com

নগরী থেকে শিল্প-কারখানা সরিয়ে নেয়াই হবে অন্যতম কাজ: এ কে আজাদ ।। songbadprotidinbd.com

  • ১২-১২-২০১৭
  • Azad এ কে আজাদ। উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতা। ডিএনসিসি মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম আলোচিত হচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন তিনিও। আলাপচারিতায় উঠে এসেছে ঢাকা নিয়ে তার নানা ভাবনার কথা। পরিকল্পিত ঢাকা গড়তে জোর দিয়েছেন নগরী থেকে শিল্প-কারখানা সরিয়ে নেয়ার ওপর। এর ফলে নগরীর ওপর মানুষের চাপ যেমন কমবে, সহনীয় হবে যানজটও। হা-মীম গ্রুপের এমডি একসময় রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। এরপর পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী।

    ১৯৭৬ সালে এসএসসি পাস করলাম। কলেজে ভর্তির পর যুক্ত হলাম বামধারার রাজনীতির সঙ্গে। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ায় দুবার এইচএসসি পরীক্ষা দেয়া হয়নি। এইচএসসি পাস করলাম ১৯৮০ সালে। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর মুখোমুখি হলাম নতুন সংকটের। হলে জায়গা নেই, ঘুমাতে হতো ফ্লোরে। এ সমস্যার সমাধান হলেও পেয়ে বসল নতুন দুশ্চিন্তা। পড়াশোনা শেষে চাকরি জোগাড় করতে না পারলে ভবিষ্যৎ কী হবে, সেই আতঙ্ক।

    এর মধ্যেই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯৮৪ সালে গ্রেফতার হলাম। ওই সময় ২৩ দিন জেল খাটতে হলো। জেলেই খবর মিলল, আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের অনেকেই এরশাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন। কেউ কেউ মন্ত্রীও হলেন। এমন নীতিহীনতা রাজনীতির প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তুলল। ছাড়া পেলে ব্যবসা শুরুর সিদ্ধান্ত নিলাম জেলে বসেই।

    ব্যবসার শুরুর দিকটা কেমন ছিল?

    এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ওষুধ তৈরির ব্যবসায় যুক্ত হলাম। তবে তাতে সফলতা আসেনি। ১৯৮৫ সালে শুরু করলাম তৈরি পোশাকের ব্যবসা। তখনো এ ব্যবসা আগে থেকেই যারা যুক্ত, তাদের হাতে। যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া কোটা সুবিধা মেলেনি আমার মতো নতুন ব্যবসায়ীর। শুরুতে লোকসান হলো ৭ লাখ টাকা। ব্যাংক থেকে নেয়া এ ঋণের জন্য কারখানায় তালা দেয়া হলো। এমনকি ভবন মালিককে ভাড়ার অর্থও পরিশোধ করতে পারিনি। এ লোকসান নতুন এক পথ দেখাল। পুরনো ব্যবসায়ীদের দখল থেকে ব্যবসাটিকে মুক্ত করতে হবে এমন শপথ নিলাম। এজন্য আমার মতো নবীন ব্যবসায়ীদের সংগঠিত করলাম। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। দিন যত গড়িয়েছে, সামনের দিকে এগিয়েছি। ব্যবসার ক্ষেত্র-পরিধিও বেড়েছে। দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও প্রসারিত হয়েছে ব্যবসা। হা-মীম গ্রুপে বর্তমানে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। রফতানি ছাড়িয়েছে ৫০ কোটি ডলার। পরিকল্পনা রয়েছে এটি ১ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার।

    ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আপনার নামও আলোচিত হচ্ছে। মনোনয়ন পেলে কোন কাজটিকে গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগোতে চান?

    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যদি আমাকে মনোনয়ন দেন কিংবা আমি যদি প্রার্থী হই, সেক্ষেত্রে শুরুতেই কয়েকটা মৌলিক বিষয়ে কাজ এগিয়ে নিতে চাই। এর একটি হলো আবর্জনা ব্যবস্থাপনা। গুলশান, বনানী ও বারিধারার মতো কয়েকটি জায়গায় আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এক ধরনের নিয়মের মধ্যে এসেছে। তবে এখনো রাজধানীর বড় অংশেই বিষয়টি নিয়ে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। আবর্জনা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধ করতে সুশৃঙ্খলভাবে সেগুলো সংগ্রহ করে রিসাইকেলের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ফেলতে হবে। আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

    আনিসুল হক মেয়রের দায়িত্বটাকে একটা জায়গায় নিয়ে এসেছেন। মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। যে কাজগুলো সিটি করপোরেশনের করার কথা, সেগুলোয় তিনি হাত দেন। এর বাইরেও বেশকিছু উদ্যোগ নেন। তবে আমি মনে করি ডিএনসিসির মেয়র হিসেবে যিনিই আসুন, এটা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেবে। কারণ প্রত্যাশার জায়গাটা অনেক বড়। রাজধানীকে যানজটমুক্ত ও সবুজ শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সরকারের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। আনিসুল হক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে অনেক কাজ করেছেন। এসব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াটা সহজতর হয়।

    নগরীর বড় সমস্যাগুলোর একটি যানজট। এ ব্যাপারে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?

    যানজট নিরসন ও রাজধানীতে গণপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে আনিসুল হক গুলশান এলাকায় ‘ঢাকা চাকা’ নামে বাস সার্ভিস চালু করেন। এটা ভালো উদ্যোগ। সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কার্যক্রমের আওতায় না হলেও এমন উদ্যোগ নেয়ায় প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যেতে পারে। বাস ও রুটের সংখ্যা বাড়িয়ে পরিচালনার উদ্যোগ নিলে জনদুর্ভোগ লাঘব হতে পারে।

    রাজধানীতে গাড়ি পার্কিংয়ের আধুনিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। আমাদের নগর পরিকল্পনা-নকশা করেছেন যারা, তারা দীর্ঘমেয়াদি ভাবনা ছাড়াই তা করেছেন। সাময়িক চিন্তা করেই এসব পরিকল্পনা করা হয়েছে। ষাট বা সত্তরের দশকে রাজধানীতে বেশির ভাগ দোতলা বা তিনতলা বাড়ি ছিল। এখন সেখানে উঠেছে বিশ বা ত্রিশতলা সুউচ্চ ভবন। এসব ভবনের জন্য প্রয়োজনীয় ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। রাস্তাও অপ্রশস্ত। অপরিকল্পিতভাবে হচ্ছে এসব স্থাপনা। সিটি করপোরেশনের উচিত, রাজউকের সঙ্গে বসে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়া। মহাপরিকল্পনা ছাড়া নগরীতে এ ধরনের নির্মাণকাজের অনুমোদন দেয়া বন্ধ করতে হবে।

    নগর পরিকল্পনাবিদদের ভাষায়, নগরীর শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে অন্যান্য স্থাপনা সব কিছুতেই অপরিকল্পনার ছাপ। এ বিষয়ে আপনার ভাবনা কী?

     রাজধানীতে অবস্থিত শিল্প-কারখানা স্থানান্তরের বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া জরুরি। ষাটের দশকে শিল্পাঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত তেজগাঁও এখন বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। ঢাকায় আর শিল্পের নিবন্ধন দেয়া উচিত নয়। আমি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি থাকাকালে এ বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম। তৈরি পোশাকসহ শ্রমঘন শিল্প-কারখানাগুলো ঢাকা থেকে সরাতে এ দাবি জানানো হয়। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে কারখানা স্থানান্তরের সুযোগ দেয়া যেতে পারে। এজন্য শিল্প-কারখানার প্রয়োজনীয় স্থান ও অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষুদ্র শিল্পের ক্ষেত্রে তিন বছর আর বড় শিল্পের জন্য পাঁচ বছর সময় দিলে স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। এ সময়ের পর সংশ্লিষ্ট কারখানার লাইসেন্স আর নবায়ন করা হবে না। শিল্প স্থানান্তর হলে নগরীর ওপর মানুষের চাপ কমবে। স্বাভাবিকভাবেই যানজট থেকেও নগরবাসী অনেকটা মুক্তি পাবে।

    গুলশান, বনানীর মতো এলাকায় আবাসিক বাড়িতে অফিস পরিচালিত হচ্ছে; গড়ে উঠছে আবাসিক হোটেল। এ কারণে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। এগুলো সরিয়ে নেয়া উচিত। আবাসিক এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে অফিস কিংবা হোটেল পরিচালনা করবেন, এটা হতে পারে না। আমি মনে করি, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় তাদের সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে হবে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে শহরটা বাসযোগ্য হয়ে উঠবে।

    নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কী ধরনের পরিকল্পনা দরকার?

    সুন্দর ও স্বাস্থ্যকর নগরীর জন্য পাবলিক টয়লেট অত্যাবশ্যকীয়। আনিসুল হক নগরীতে বেশকিছু ভালো পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করে দিয়েছেন। এ সংখ্যা আরো বাড়াতে হবে। সব জায়গায় পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করতে হবে। মশার উপদ্রব কমানোর চেষ্টা করেছিলেন আনিসুল হক। এক্ষেত্রে কিছুটা সমালোচনাও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। রাতারাতি সব সমাধান হবে না।

    জনবহুল এ নগরীতে ভূমির অপর্যাপ্ততা যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপ্রয়োজনীয় স্থাপনাও। এসব বিষয়ে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেবেন কিনা?

    আনিসুল হক বেশকিছু অবৈধ দখল সাফল্যের সঙ্গে উচ্ছেদ করেছেন। তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ডের দখল থেকে মুক্ত করে প্রশস্ত সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। তেজগাঁও আংশিক দখলমুক্ত হলেও মিরপুরসহ কিছু জায়গা এখনো অবৈধ দখলদারদের কবলে। এ ধরনের অপ্রিয় কাজগুলো সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে করা সম্ভব।

    মহাখালীতে টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। এখন এ বাসস্ট্যান্ড নগরের মধ্যে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এটিকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়া উচিত। এ রকম অনেক কাজ, অনেক সমস্যা ও জটিলতা রয়েছে সিটি করপোরেশন এলাকায়। আমি মনে করি, পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নিলে আমাদের প্রিয় এ নগরী বসবাসের উপযুক্ততা ফিরে পাবে।

    নগরে বস্তিবাসী মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বস্তিবাসীরা অন্যদের তুলনায় বেশি ভাড়া দিয়ে থাকছেন। বস্তিবাসী মানুষের জন্য স্বল্প খরচে আবাসন সুবিধা দিতে আনিসুল হক একটি পরিকল্পনা নিয়েছিলেন, যেটি এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ হয়নি। এ কাজগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

    নাগরিক সেবা নিশ্চিতে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা আছে কি?

    সিটি করপোরেশনের অধিবাসী যারা কর দেন, তারা প্রত্যাশিত সেবা পান না। এজন্য মানুষের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনকে এখনো দুর্নীতিমুক্ত করা সম্ভব হয়নি। আনিসুল হক চেষ্টা করেছিলেন। অনেকাংশে হয়তো সফলও হয়েছেন, তবে বাকি কাজগুলোও সম্পন্ন করতে হবে।

    প্রতিনিয়ত ঢাকায় নতুন মানুষ আসছে। আমি মনে করি, এ বিষয়ে একটি মহাপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। নগরীতে কত মানুষের আবাসন সুবিধা দেয়া সম্ভব, তার সংখ্যা নির্দিষ্ট করতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশে ইচ্ছে করলেই ভবন নির্মাণ বা সম্প্রসারণ করা যায় না। ভারতের দিল্লিতেও এমন উদাহরণ রয়েছে। এগুলো বিবেচনায় নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। আবার মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও ধারাবাহিকতা থাকতে হবে। তবেই আগামী দিনের বাসযোগ্য সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে ঢাকা পরিচিতি পাবে।

     

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *