Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / উপসম্পাদকীয় / একজন বিদুষী নারী বেগম রোকেয়া ।। songbadprotidinbd.com

একজন বিদুষী নারী বেগম রোকেয়া ।। songbadprotidinbd.com

  • ০৮-১২-২০১৭
  • Rokeya-inner20171208095603সাহিদা সাম্য লীনা: এক মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়া। নারী জাগরণ ও নারী অধিকার আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃত প্রথম তিনিই। বেগম রোকেয়ার মতো নারী জন্ম না নিলে আজকের বাংলাদেশের নারীরা কোথায় থাকতো তা সহজেই অনুমেয়। যার বিদুষী মনোভাব আজ সব নারীরই প্রেরণা। যার গন্তব্য অনুসরণ করে আজ নারীরা সব বাধার শেষ পর্যায়ে।
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অšতর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার প্রকৃত নাম ছিল রোকেয়া খাতুন। ১৮৯৭ সালে মাত্র ষোল বছর বয়সে উর্দুভাষী ও বিপত্বীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বৈবাহিক সূত্রে তার নাম হয় রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। সমাজ সচেতন কুসংস্কার মুক্ত ও প্রগতিশীল চিন্তা চেতনার মানুষ সাখাওয়াত হোসেনের অনুপ্রেরণায় তাঁর সাহিত্য চর্চার সূত্রপাত হয়।

    প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন না করেও তিনি বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন। এসবই সম্ভব হয়েছে তাঁর বড় ভাই,বোন ও স্বামীর কারণে। বিয়ের আগে তাঁর লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ দেখে তাঁর বড় বোন সহযোগীতায় এগিয়ে আসেন। রাতের আঁধারে সবাই যখন ঘুমিয়ে যেত তখন বেগম রোকেয়া চুপি চুপি হারিকেনের আলোতে পড়াশোনা করতেন। কারণ বেগম রোকেয়ার পিতা জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের বহু ভাষায় সুপন্ডিত ছিলেন;কিন্তু মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল। একদিন তাঁর বড় ভাই এ দৃশ্যটি দেখতে পান। বোনের দুর্দান্ত লেখাপড়ার ইচ্ছা তাকে বিচলিত করে। আর এই বড় ভাইবোনের সাহচর্যে তিনি বাংলা ও ইংরেজী ভাষা ভালভাবে রপ্ত করেন এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেন।
    পরবর্তীতে ডেপুটি ম্যাজিষ্ট্রেট স্বামীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় তার জ্ঞান অর্জনের পথ অধিক সুযোগ লাভ করে। নিজেকে জ্ঞানে পরিপূর্ণ করে অন্য নারীদের শিক্ষা প্রসারে তিনি এগিয়ে আসেন। বিরুপ সমালোচনা ও নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার মুখেও তিনি কখনই নারী শিক্ষার লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি,বরং পর্দাপ্রথা,কুসংস্কার ও শিক্ষাবিমুখ যেসব মুসলমান মেয়ে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত তাদের লেখাপড়ার জন্য তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছাত্রী সংগ্রহ করেন। পুরুষের চোখে তিনি নানাভাবে বিভ্রান্তও হয়েছিলেন এ কাজ করতে গিয়ে। এভাবে তিনি ১৯০৯ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর তার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন মাত্র পাঁচজন ছাত্রী নিয়ে।

    তাঁর বেশভুষা-পোশাক ও আচার আচরণ,শালীনতাবোধ সেসময়ের নারীদের জন্য ছিল এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। সমাজের কুসংস্কার ও জড়তা দূর করার জন্য তিনি অসাধারণ ও হৃদয়গ্রাহী গদ্য রচনা করেন। তাঁর সব রচনাই সমাজ জীবনের গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত। তাঁর উলে¬খযোগ্য গ্রন্থ মতিচুর ও অবরোধবাসিনী। এছাড়া তিনি সুলতানার স্বপ্ন ও পদœরাগ নামে দুটি উপন্যাসও রচনা করেন। সুলতানার স্বপ্ন উপন্যাসটি বহুল জনপ্রিয়তার কারণে এটি ইংরেজি ভাষায়ও অনুবাদিত হয় “সুলতানার্স ড্রেম’’ নামে। সাহিত্যিক হিসেবে তখনকার সময়ে বেগম রোকেয়া ছিলেন এক ব্যতিক্রমী প্রতিভা। তাঁর সম¯ত সাহিত্য কর্মই ছিল নারী শিক্ষা, নারীদের প্রতি সামাজিক অবমাননা, নারীর অধিকার ও নারী জাগরণ সম্পর্কে। বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধেও তাঁর লেখনী ছিল সোচ্চার।
    ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়ার ১৩৭ তম জন্মদিন ও ৮৪ তম মৃত্যুদিবস। এই দিনে বাংলাদেশের সব নারীর ও রোকেয়া ভক্তদের জন্য গভীর শ্রদ্ধার ও স্বরণীয় দিন। রোকেয়ার আদর্শে উজ্জিবিত হোক সকল নারী। তাঁর আত্বা চির প্রশান্তি লাভ করুক।

    লেখক-

    সাহিদা সাম্য লীনা
    সম্পাদক, আঁচল
    ফেনী।

    (Visited 35 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *