Templates by BIGtheme NET
Home / Slide Show / প্রতিবেশীরা মাকে নিয়ে বাজে কথা বলে: নব্ম শ্রেণি পড়ুয়া লাখী আক্তার

প্রতিবেশীরা মাকে নিয়ে বাজে কথা বলে: নব্ম শ্রেণি পড়ুয়া লাখী আক্তার

  • ০১-০৪-২০১৬
  • লক্ষ্মীপুর : জেলার রামগঞ্জে ছেলের সামনে মাকে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনায় একমাত্র ছেলে হাফিজিয়া মাদরাসার ছাত্র খোরশেদ আলম বলেছে, ‘প্রতিবেশীরা মাকে নিয়ে নানা বাজে কথা বলে। পাড়ার ছেলে-মেয়েরা এখন আর আমার সঙ্গে খেলাধুলা করে না। প্রতিবেশীদের সামনে গেলে নানা আমাকে মন্তব্যের সম্মুখীন হতে হয়।’

    এতে সে ও তার বোন লাখী আক্তার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। প্রতিশোধ আর ক্ষোভে সমাজের প্রতি তাদের ‍বিরুপ প্রতিক্রিয়া হতে শুরু করেছে।মায়ের অপমানে আর প্রতিবেশীদের আড়চোখে দেখার কারণে ক্রমেই দিশেহারা হয়ে পড়ছে তারা।

    বুধবার বিকেলে সরেজমিনে রামগঞ্জ উপজেলার কঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রক্ষ্মপাড়া গ্রামে গিয়ে খুরশিদা বেগমের দুই সন্তানের এমন চিত্র দেখা যায়।

    খোরশেদ আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘কি দোষ ছিল আমাগো, পাড়ার ছেলেরা এখন আর আমার সাথে খেলা করে না। তারা আমার মাকে নিয়ে বাজে কথা বলে। জানি এখন আমার মায়ের অপমানের বিচার হবে না। আমি বড় হলে আমার মায়ের নির্যাতনের প্রতিশোধ নেবো।’

    খুরশিদার ছোট মেয়ে নব্ম শ্রেণি পড়ুয়া লাখী আক্তার বলে, বাবা মাকে ছেড়ে চলে গেছে সেই কবে, বাবার মুখটি পর্যন্ত মনে পড়েনা। মা ছাড়া নিষ্ঠুর এ পৃথিবীতে আমাগো আর কেউ নেই। যারা আমার মাকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নির্যাতন করছে আমি তাদের বিচার চাই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও একজন নারী তাই তাই আমার মায়ের অপমানের বিচার তার কাছে ছেড়ে দিলাম।

    লক্ষ্মীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিত বিভাগের শিক্ষক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ছেলে সামনে মাকে নির্যাতনের ঘটনায় সন্তানরা সমাজের প্রতি ঘৃণ্য মনোভাব নিয়ে বড় হবে। এমনো হতে পারে তারা বড় হয়ে তাদের মায়ের প্রতিশোধের নেশায় মগ্ন হয়ে সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারে।

    লক্ষ্মীপুর জেলা সির্ভিল সার্জন ডা. গোলাম ফারুক ভূঁইয়া জানান, চোখের সামনে মাকে নির্যাতিত হতে দেখলে যে কোন সন্তানই বিপথগামী হয়ে যেতে পারে। সমাজের মানুষের প্রতি এরা সবসময় ক্ষিপ্ত হয়ে থাকবে। কখনো কখনো ক্ষোভে ফুঁসে উঠে বিপথগামী হতে পারে। এতে ভবিষৎ জীবনে তাদের সুষ্ঠু পথ হারিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, গত ২২ মার্চ দুপুরে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের সাইন্নার বাড়ির জনৈক হাসিনার স্বামী মনিরের সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগে খুরশিদাকে নির্মম নির্যাতন করা হয়। এসময় হাসিনা ও তার বাবা নুর হোসেন, ভাই ফারুক হোসেন, আব্দুল আজিজসহ ৪/৫ জন মিলে তাকে টেনে হিঁচড়ে বাড়ির ভেতর নিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করে। এরপর মাথার চুল কেটে কালি মেখে দেয়।

    (Visited 22 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *