Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / উপসম্পাদকীয় / রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কাম্য ।। Songbad Protidin BD

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কাম্য ।। Songbad Protidin BD

  • ১৯-১০-২০১৭
  • 21462542_10214306378799089_1537518509977485198_nদিলীপ কুমার আগরওয়ালাঃ  জঙ্গিবাদ দমনের নামে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযানের বদলে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ রোহিঙ্গাদের ওপর চড়াও হওয়ার কারণেই লাখ লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সমস্যার কোনো পক্ষ না হলেও সরকার তথা দেশের মানুষের ওপর চেপে বসেছে শরণার্থী সমস্যা।  রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভারে কক্সবাজার জেলা ইতিমধ্যে তার আপন বৈশিষ্ট্য হারাতে চলেছে। জেলার বাসিন্দাদের এক বড় অংশই এখন রোহিঙ্গা।

     এমনিতেই শরণার্থী হিসেবে এবং পরিচয় গোপন করে আগে থেকেই কয়েক লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারে বসবাস করছে। আগস্টের ২৫ তারিখ থেকে বানের স্রোতের মতো মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আগমনে এ জেলা কার্যত শরণার্থীদের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। সবার ওপরে মানুষ সত্য এ মানবিক তত্ত্বে উদ্বুদ্ধ হয়ে সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিতে বাধ্য হয়েছে। এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়েছে কক্সবাজারের সামাজিক জীবন। নিত্যপণ্যের দাম এ জেলায় বেড়েছে স্পুটনিক গতিতে। লাখ লাখ শরণার্থীকে ঠাঁই দেওয়ার কারণে উজাড় হচ্ছে পর্যটনের স্বর্গভূমি হিসেবে বিবেচিত কক্সবাজারের বনভূমি, পাহাড়, গাছপালা, লতাগুল্ম। বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে হুমকির মুখে পড়েছে কক্সবাজারের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা স্রোতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে টেকনাফের সাবরাংয়ের এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোন। অনিয়ন্ত্রিতভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যত্রতত্র বসতি গড়ে তোলায় পর্যটননগর কক্সবাজারের পরিবেশ বিপন্নের আশঙ্কা করা হচ্ছে। শরণার্থীদের পুনর্বাসনে কক্সবাজারের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের যেন ক্ষতি না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ দৃষ্টি রাখার দাবি তুলেছেন পরিবেশবিদরা। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, থাইংখালী; টেকনাফের হ্নীলা, হোয়াইক্যং, লেদা, মুছনী; বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির চাকডালা, তুমব্র”, জলপাইতলী, কলাবাগানসহ বিস্তৃত পাহাড় ও বনভূমির বাঁশ-গাছ উজাড় হয়ে পড়ছে। কক্সবাজারে আগে থেকে পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। এ জেলার টেকনাফ, উখিয়ার বিস্তীর্ণ পাহাড়ে গত ২০ দিনে আশ্রয় নিয়েছে আরও ৫-৭ লাখ রোহিঙ্গা। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর আশ্রয়স্থল তথা আবাস তৈরিতে প্রতিদিন প্রয়োজন হচ্ছে লাখ লাখ বাঁশ ও গাছ। এই বাঁশ ও গাছের জোগান দিতে গিয়েই উজাড় হচ্ছে পাহাড়ি বনভূমি। হঠাৎ করে কয়েক লাখ মানুষের বাড়তি চাপ জেলাবাসীর জীবনকে অসহনীয় করে তুলছে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বৃদ্ধির আশঙ্কাও বেড়েছে। শরণার্থীদের কারণে এইডস এবং বি হেপাটাইটিসের মতো মরণব্যাধির বিস্তার ঘটার বিপদও দেখা দিয়েছে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে রোহিঙ্গাদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সম্মানজনক পথ উন্মোচনে মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে।
    আগে থেকে থাকা ৫ লাখ ও নতুন করে আসা ৪ লাখ বিপদাপন্ন মানুষের খাদ্য ও আশ্রয় জোগাতে বাংলাদেশকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায় রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে এ যাবৎ বিবৃতি আর প্রস্তাব নিয়েই তাদের দায়িত্ব সারছে। শরণার্থীদের জন্য এ যাবৎ যে ত্রাণসামগ্রী বিদেশ থেকে পাঠানো হয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় এতই নগণ্য যে উল্লেখ করার মতো নয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আহ্বানে বিপন্ন রোহিঙ্গাদের জন্য সীমান্ত খুলে দিয়ে তাদের আশ্রয় ও খাদ্য জোগাতে বাংলাদেশ নিজেই সংকটাপন্ন অবস্থায় পড়েছে। ভয়াবহ বন্যায় দেশ যখন কোটি কোটি মণ চাল আমদানি করে নিজের নাগরিকদের চাহিদা মেটানোর কঠিন সংগ্রামে রত, তখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর আগমন পরিস্থিতিকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। এ অবস্থার প্রেক্ষাপটে শরণার্থীদের সহায়তাদানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে যেমন হাত বাড়াতে হবে, তেমন তাদের সম্মানজনকভাবে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পদক্ষেপও নিতে হবে। বার বার যাতে বাংলাদেশকে প্রতিবেশী দেশের উটকো ঝামেলার শিকার হতে না হয় তা নিশ্চিত করতে স্বদেশে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ অবস্থানও নিশ্চিত করা দরকার। বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতির দেশ, দারিদ্র্যের শিকারও এ দেশের অন্তত এক-চতুর্থাংশ মানুষ। প্রতিবেশী দেশের সমস্যায় তাদের জীবন আরও সংকুল হয়ে উঠছে, যা কাম্য হওয়া উচিত নয়। সেহেতু বাংলাদেশও চায় এমন একটি টেকসই সমাধান যা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে দেবে। এ জন্য মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপত্তা জোন গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে। মিয়ানমার সরকার গঠিত কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নেরও আহ্বান জানানো হয়েছে সু চি সরকারের কাছে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার নিজেদের জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেবে_ এমনটিই প্রত্যাশিত।
    লেখক ঃ
    দিলীপ কুমার আগরওয়ালা
    ঢাকা
    (Visited 35 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *