Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্সের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ।। Songbad Protidin BD

আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্সের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ।। Songbad Protidin BD

  • ১৪-১০-২০১৭
  • fist-financeসংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান ফার্স্ট ফাইন্যান্স লিমিটেডের আর্থিক অনিয়ম খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। গত ১৩ আগস্ট তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে কমিশনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। মঙ্গলবার কমিশনের কাছে আরও ৩০ কার্যদিবস সময় চেয়ে আবেদন করেছে কমিটি।

    জানা গেছে, বিএসইসির পরিচালক মো. মনসুর রহমানকে তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বিএসইসির উপপরিচালক মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম ও সহকারী পরিচালক বনি ইয়ামিন খান।

    জানা গেছে, গত ১৫ জুন রাজধানীর ট্রাস্ট মিলনায়তনে কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রভিশন ঘাটতি থাকা সত্তে¡ও পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করার অভিযোগে আনোয়ারুল ইসলাম নামের এক শেয়ারহোল্ডার আদালতে রিট আবেদন করলে আগের দিন ১৪ জুন হাইকোর্ট বিভাগের এক যৌথ বেঞ্চ এজিএম অনুষ্ঠানটি স্থগিত করে দিয়েছিলেন।

    ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্স নিম্নমানের ‘জেড’ ক্যাটাগরির কোম্পানি। কোম্পানিটি গত এপ্রিলে পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, যার পর থেকে এর শেয়ারের দাম বাড়তে থাকে। বিনিয়োগকারীরা বলছেন, এজিএমে পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন পেলে কোম্পানিটি ‘বি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হতে পারবে।

    বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরভিত্তিক কোম্পানিটির প্রভিশন ঘাটতি ছয় কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৯ এপ্রিল এক চিঠিতে কোম্পানিটিকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চার কিস্তিতে ঘাটতির পুরো টাকা সংরক্ষণ করতে বলেছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানতের বিপরীতে সুদ প্রভিশন করার নিয়ম বাধ্যতামূলক থাকলেও ফার্স্ট ফাইন্যান্স তা করেনি। এটা করা হলে ঘাটতির আকার আরও বাড়বে।

    জানা গেছে, ফার্স্ট ফাইন্যান্সের ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত বছরের ডিভিডেন্ড ঘোষণায় জালিয়াতির প্রমাণ পেয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ কারণে কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা এবং কোম্পানি সচিবকে শোকজ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সম্প্রতি এক চিঠিতে এ তিন কর্মকর্তাকে সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়। পাশাপাশি ফার্স্ট ফাইন্যান্সের অনিয়মের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

    বাংলাদেশ ব্যাংক পাঁচ শতাংশ ডিভিডেন্ড প্রদানে অনাপত্তি দিলেও আগামী তিন বছরে ২৪ কোটি ১৫ লাখ টাকা প্রভিশন সংরক্ষণের শর্ত দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে গত ২ জুন থেকে বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের আর্টিক্যাল ২৭-এর নির্দেশনানুযায়ী বেসিস অব অ্যাকাউন্টিং অনুসরণ করে আর্থিক বিবরণী প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়, ফার্স্ট ফাইন্যান্স তাদের নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীতে মেয়াদি আমানত ৫৫২ কোটি ৮৪ লাখ ৩১ হাজার টাকার বিপরীতে সুদ প্রদানযোগ্য খাতে ১৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। কিন্তু অ্যাকাউন্টিংয়ের বেসিক মান অনুসরণ করা হলে এ খাতে রক্ষিত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ আলোচিত খাতে ২৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা ঘাটতি রয়েছে।

    রিটার্ন আর্নিং বাড়ানোর লক্ষ্যে এরূপ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ফার্স্ট ফাইন্যান্স ইন্টারন্যাশানাল অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড (আইএএস) ও বাংলাদেশ অ্যাকাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ডের (বিএএস) আর্টিক্যাল ২৭ লঙ্ঘন করেছে। পাশাপাশি রিটার্ন আর্নিংস নেগেটিভ হওয়ার পরও পাঁচ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ১০ লঙ্ঘন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

    এর আগে গত মাসে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে মো. আনোয়ারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিএসইসির চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, জালিয়াতির মাধ্যমে লভ্যাংশ ঘোষণা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে কোম্পানিটি জালিয়াতি করেছে বলে প্রমাণিত। এ বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয় বিএসইসিতে পাঠানো চিঠিতে। সূত্র: শেয়ার বিজ

    (Visited 26 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *