Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতি আর ওজন স্কেলের কারনে অসহনীয় যানজট।। সীমাহীন দুর্ভোগ – Songbad Protidin BD

মেঘনা ও গোমতী সেতুর টোল আদায়ে ধীরগতি আর ওজন স্কেলের কারনে অসহনীয় যানজট।। সীমাহীন দুর্ভোগ – Songbad Protidin BD

  • ০৮-১০-২০১৭
  • image-87787সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  টোল আদায়ে ধীরগতি মূলত মেঘনা ও গোমতী সেতুর দুই পারে যানজটের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধীরগতির কারণেই কখনো কখনো সেই যানজট মূল সড়ক ছাপিয়ে উঠে আসে সেতুর ওপর। সৃষ্টি হয় ১২-১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিতভাবে সেতুতে ওঠার মুখেই বসানো আটটি ওজন স্কেল (গাড়ির ওজন মাপার যন্ত্র)। এসব স্কেলে নির্ধারিত ওজনের বেশি ট্রাকগুলো থেকে জরিমানা আদায় করতে গিয়ে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে সময়। এ ছাড়া চালকদের একগুঁয়েমি ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণে পুলিশের গাফিলতিও এই যানজটের কারণ।

    সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-কুমিল্লা-চট্টগ্রামমুখী সড়কে যানজট কমাতে এক বছর আগে দুই লেনের সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হয়। কিন্তু টোল আদায়ের ধীরগতি উল্টো তীব্র করে তুলছে যানজট। এমনও দেখা যায়, সড়কের কোথাও যানজট নেই। কিন্তু সেতুর মুখে টোল আদায় বক্সের দুই পাশে মাইলের পর মাইল যানজট। প্রায়ই সে যানজট ১২-১৫ কিলোমিটার এলাকাও ছাড়িয়ে যায়।

    এর ফলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিদিন এই পথে চলতে গিয়ে নষ্ট হচ্ছে অতিরিক্ত ৫-৬ কর্মঘণ্টা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। বিশেষ করে বয়স্ক ও নারী-শিশুদের দুর্ভোগ চরমে। সবচেয়ে বেশি ভয় রাতের যানজটে। অনেক সময় ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির মতো ঘটনাও ঘটছে।

    গত বৃহস্পতি ও শুক্রবার সরেজমিনে সেতু এলাকা ঘুরে যানজট ও মানুষের দুর্ভোগ দেখা গেছে। এ সময় যাত্রী ও চালকরা ক্ষোভ নিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এই যানজট নিয়ে কারো কোনো মাথাব্যথা নেই। নিরসনের উদ্যোগ নিতেও দেখা যাচ্ছে না। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সেতু ঢাকার সঙ্গে কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সড়ক পথে যোগাযোগের একমাত্র অবলম্বন।

    বিশেষজ্ঞরা যানজট নিরসনে উন্নত টোল ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল টোল আদায় পদ্ধতি চালু করতে হবে। সেতু কর্তৃপক্ষের উচিত টোল বক্স দূরে সরিয়ে নেওয়া। ওজন স্কেলও সেতু থেকে দূরে বসানো। তা ছাড়া যেহেতু ওজন স্কেলে কেবল ট্রাক পরিমাপ করতে হয়, তাই ট্রাকের জন্য আলাদা লাইন বা স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। ট্রাকের কারণে অন্য যাত্রীদের যানজটের মুখে পড়া কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষ চাইলে দ্রুতই এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

    এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সামছুল হক পরামর্শ দিয়ে বলেন, চালকদের ডিজিটাল লাইসেন্স থাকবে। যেখানে টাকাসহ সব তথ্য জমা থাকবে। এ ছাড়া টোল বক্সে ইলেকট্রনিক বুথ থাকবে। যার মাধ্যমে ডিজিটাল লাইসেন্স থেকে অটোমেটিক টাকা কেটে নেওয়া হবে। টোল দিতে টোল বক্সে ভিড় করতে হবে না। এত সময়ও লাগবে না।

    বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, সব দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে। তারা ইলেকট্রনিক বুথের মাধ্যমে টাকা আদায় করে থাকে। এ ছাড়া যে গাড়িগুলো নির্ধারিত রোডে চলাচল করে, তারা আগেই টাকা পেইড করে দেয়। ফলে যানজট আর সৃষ্টি হয় না। এই দেশে এ পদ্ধতি যত দ্রুত চালু করা যায়, তত দ্রুতই যানজট থেকে মুক্তি পাবে সাধারণ মানুষ।

    এই বিশেষজ্ঞের মতে, উন্নয়ন করতে হলে আগে মূল সমস্যা সমাধান করতে হবে। কিন্তু আমরা আগে রাস্তা করেছি, এখন সেতু নির্মাণ করছি। এতে যানজট কমবে কীভাবে? বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, তারা আগে সমস্যা চিহ্নিত করে, পরে মূল সমস্যাকে প্রধান করে সমাধানের উদ্যেগ নেয়। কারিগরি দৈন্যতার কারণে মানুষের ভোগান্তি কমছেই না।

    সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ আছে কি না জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সড়ক-মহাসড়ক বিভাগের সচিব এম এ এন সিদ্দিক বলেন, মহাসড়কে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়া এবং টোল আদায়ে ধীরগতির কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এ ছাড়া দুটি ব্রিজ সিঙ্গেল হওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। যানজট নিরসনে নতুন তিনটি ব্রিজ করা হচ্ছে। এই ব্রিজগুলো নির্মাণ হলে যানজট আর থাকবে না। তবে এই মুহূর্তে নতুন টোল আদায় পদ্ধতি চালু বা টোল বক্স সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

    টোল আদায়ে কেন ধীরগতি-জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলেন, এমনিতেই সেতু অপ্রশস্ত। তার ওপর অপরিকল্পিতভাবে ওজন স্কেল বসানো হয়েছে। এ স্কেলগুলো মূলত ট্রাকের জন্য। কারণ ট্রাকগুলো নির্ধারিত ওজনের চেয়ে বেশি মাল বহন করে। সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু স্কেল অনুযায়ী মেপে ট্রাক চলাচলে যানজট হওয়ার কথা নয়। যানজট হয় তখনই, যখন কর্মকর্তারা চালকদের থেকে জরিমানার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রাকগুলোকে আটকে রাখে। ট্রাকের পেছনে গাড়ির লম্বা লাইন পড়ে যায়। যানজট দেখা দেয়।

    একই অবস্থা অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও; উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, আগে ছিল ছয়টি টোল বক্স। এখন আটটি হয়েছে। তারপরও টোল আদায়ে গতি নেই। কারণ কর্মরতরা দায়িত্বে অবহেলা করেন। ঠিকমতো দ্রুততার সঙ্গে টোল আদায় করলে যানজট হওয়ার কথা নয়।

    গত বৃহস্পতিবার সরজমিনে ঘুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানজট দেখা গেছে। একই সময় ঢাকা থেকে কুমিল্লা-চট্টগ্রামগামী অনেকেই মেঘনা সেতুর পশ্চিম পাড়ে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা যানজটে আটকে ছিলেন। অনেকে কুমিল্লা থেকে সকাল ৭টায় যাত্রা করে ১০টায় মেঘনা-গোমতী সেতু পর্যন্ত পৌঁছান। দাউদকান্দি মেঘনা-গোমতী সেতুর টোলপ্লাজা থেকে উপজেলার রায়পুর পর্যন্ত এ যানজট ছড়িয়ে পড়ে। যানজটে আটকে থাকা যাত্রীরা জানান, এ চিত্র নিত্যদিনের, সব সময়ের। মহাসড়কটি চার লেনে উন্নতি করলেও টোল বক্সের কারণে এখানকার যানজট থেকে নিষ্কৃতি পাচ্ছেন না যাত্রীরা। টোল আদায়কারীদের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতার কারণে সেখানে নিত্যদিনের যানজট লেগেই থাকে।

    জানা গেছে, সেতুর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে মেঘনা-গোমতী সেতুর কাছে ওজন নির্ণায়ক ডিজিটাল স্কেল বসিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এই স্কেলের ইজারা দেওয়া হয়েছে সিএনএস লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা জানান, শুরু থেকেই এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে নিজেদের পকেট ভারী করার অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পণ্যবাহী যানবাহনের ওজন না করেই ঘুষ নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আর ঘুষ না দিলে পোহাতে হয় হয়রানি। তাদের আরো অভিযোগ, একই ট্রাক তিনবার ওজন দিলে তিন রকমের মাপ আসে। এদের ঘুষ না দিলে ওজন বেশি দেখানো হয়।

    কথা হয় ট্রাকচালক আসলাম আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি চট্টগ্রাম থেকে গ্লাস নিয়ে যাচ্ছি। টোলে মাপার পর তারা বলে ওজন বেশি হয়েছে। টোলসহ জরিমানা দিতে হবে আড়াই হাজার টাকা। কিন্তু কোম্পানির ওয়েট স্কেলের শিটে নির্ধারিত মালের চেয়েও কম ছিল। তাই বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তারা আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে আমি চ্যালেঞ্জ করলে দ্বিতীয়বার মাপ দেওয়া হয়। তখন প্রথমবারের চেয়েও কম ওজন আসে। কিন্তু নির্ধারিত মাপের চেয়ে একটু বেশি। এরপর ডাবল জরিমানা দিয়ে আসতে হয়েছে। এই চালক অভিযোগ করেন, ওয়েট মেশিনে ঝামেলা আছে। কারণ আমার কোম্পানি ওজন মেপে দিয়ে বলল নির্ধারিত ওয়েটের চেয়ে ১০০ কেজি কম আছে। আর এখানে এসে বেড়ে গেল। এর মানে আমি কিছুই বুঝতে পারি না।

    তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টোলের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ওয়েট মেশিনে কোনো ঝামেলা নেই। বরং নির্ধারিত ২০ টনের চেয়ে আরো ২০০ কেজি কম রাখা আছে। কারণ কোম্পানি মালিকদের মাপে উনিশ-বিশ হতেই পারে। তারপরও জরিমানা নিয়ে চালকদের সঙ্গে বহু কথা বলতে হয়। এমনকি টোলের জন্য কোনো যানজট হয় না বলেও দাবি করেন তিনি। তার মতে, সেতুতে লেন একটি হওয়ায় সব গাড়ি যেতে পারে না।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাউদকান্দি মডেল থানার এসআই আবু নাঈম মো. জিহাদ উদ্দিন বলেন, চার লেনের রাস্তার গাড়ি এক লেনে আসে। ট্রাকগুলো দিনে যাতায়াত না করে রাতে একসঙ্গে বের হয়। টোলে টাকা আদায় ও কর্মীদের গাফিলতি এবং স্কেলে চালকদের একগুঁয়েমি আচরণ-মূলত এই চার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুত্র প্রতিদিনের সংবাদ

    (Visited 26 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *