Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / আইসক্রিম ব্র্যান্ড ‘লাভেলোর’ শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল – Songbad Protidin BD

আইসক্রিম ব্র্যান্ড ‘লাভেলোর’ শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হলেন জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল – Songbad Protidin BD

  • ০৪-১০-২০১৭
  • 20f6cffc9660418b43fef65610a35ab7-59d4e95c7fd64সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ খেতাব হারালেও জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল তারকা বনে গেছেন। ফেসবুক লাইভে এসে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কথা বলে মানুষের হৃদয় জিতেছেন তিনি। এবার আইসক্রিম ব্র্যান্ড লাভেলোর শুভেচ্ছাদূত নির্বাচিত হলেন চট্টগ্রামের এই তরুণী। এখন থেকে লাভেলোর মুখ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবেন তিনি।
    বুধবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে একটি পাঁচতারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার টাইটেল স্পন্সর লাভেলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. একরামুল হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এভ্রিল। তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ জেসিয়া ইসলামকে শুভকামনা জানাতে এসেছিলেন।
    মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন জান্নাতুল নাঈম। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে আইন আছে, এখানে ১৬ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে দিলে সেটা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য হয়। আমার বেলায়ও তা হয়েছে। কিন্তু যে একদিনও সংসার করেনি তাকে কেন সারাজীবন বিবাহিতা পরিচয় বয়ে যেতে হবে?”

    লাইভের শুরুতে এভ্রিল বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে কোনও বাধাবিপত্তির কাছে মাথা নত করিনি। আমি কখনও হার মানতে শিখিনি। একটা ১৬ বছরের মেয়েকে তার বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে, সে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। সেই মেয়ে এখন সফল। সে তার সমাজের কোনও কথা শোনেনি। আশপাশের কারও কথা কানে নেয়নি। বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ দৈনন্দিন একটি ঘটনা, তাই এ বিয়ে মানতে পারিনি। আমি এর বিরুদ্ধে কাজ করতে চেয়েছি। আমি জানাতে এসেছি, অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিলে তারা কতদূর যেতে পারে। আমি সেইসব বাবার চোখ খুলে দিতে এসেছিলাম। যারা পরিবারের চাপে সব মেনে নেয় আমি সেইসব মেয়ের চোখ খুলে দিতে চেয়েছিলাম।’

    সমালোচকদের উদ্দেশ্য করে এভ্রিল বলেন, ‘একটাবারও ভেবেছেন, চারপাশের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে কতটা সংগ্রাম করে আমাকে আজ এ অবস্থানে আসতে হয়েছে। তিলে তিলে নিজেকে তৈরি করেছি। না পেয়েছি বাবা কিংবা পরিবারের সমর্থন। আপনারা আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবেন? ১৬ বছরের একটা মেয়েকে জোর করে বিয়ে দিলে, সেটার কোনও শাস্তি হয় না। বাল্যবিয়ে নিয়ে হাসাহাসি কিংবা ট্রল হয় না। আর একটি ডিভোর্সি মেয়ে ছোটবেলা থেকে সংগ্রাম করে এসে সফল হলে তার শাস্তি নিয়ে কথা বলা হয়। তাকে নিয়ে হাসাহাসি করা হয়। কেন? আপনাদের মানসিকতা এমন কেন? আপনারা আসলেই অন্যায়ের শাস্তি চান? কাদের জন্য আপনারা ন্যায়বিচার চান? কাদের জন্য? আপনারা আপনাদের জায়গা থেকে কতটুকু সৎ? আমার প্রশ্নের উত্তরটা দেবেন প্লিজ।’

    নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিতা কিংবা সন্তানের মা হয়েছেন এমন কেউ মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না। বিয়ের খবর ফাঁস হওয়ায় আয়োজক অন্তর শোবিজ ও ওমিকন এন্টারটেইনমেন্ট অন্য প্রতিযোগীকে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ঘোষণা করবেন বলে শোনা যাচ্ছিল। সেই ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘‘মিস ওয়ার্ল্ডে যে-ই যাক না কেন তার জন্য আমার অনেক শুভকামনা রইলো। আমি যখন ভুল করে ফেলেছি, আমার কাজটা না হয় সে করে দিক। আমি না হয় আমার দেশেই থাকি। মিস ওয়ার্ল্ডে জান্নাতুল নাঈমের নামটা না-ই গেলো। কোনও সমস্যা নেই। যতদিন বেঁচে থাকবো মেয়েদের জন্য কাজ করবো। যে মেয়েরা বাল্যবিবাহের শিকার হয়, স্বাধীনতা পায় না, তাদের জন্য শেষ নিঃশ্বাস অবধি কাজ করে যাবো। অনেকে বলছেন, জান্নাতুল নাঈম এ ঘটনায় আত্মহত্যা করবে। জেনে রাখুন, জান্নাতুল নাঈম যথেষ্ট দৃঢ়চেতা মেয়ে। সে এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার মতো মেয়ে না।’

    কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, বিচারকদের রায় তোয়াক্কা না করেই নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী জান্নাতুল নাঈমকে বেছে নিয়েছে অন্তর শোবিজ। জেসিয়াকে শুরুতে দ্বিতীয় রানারআপ করা হলেও পরে তিনি হন প্রথম রানারআপ। এভ্রিলকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় তার মুকুট ফিরিয়ে নেওয়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সেটাই সত্যি হলো।

    বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে জান্নাতুল নাঈমের মুকুট ফিরিয়ে নেওয়া হয়। ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ হিসেবে বিশ্বসুন্দরীদের সঙ্গে লড়তে যাচ্ছেন জেসিয়া। আগামী ১৮ নভেম্বর চীনের সানিয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে ৬৭তম মিস ওয়ার্ল্ডের জমকালো আসর। এবার বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১১৩ সুন্দরী এ প্রতিযোগিতায় সেরার মুকুটের জন্য লড়বেন। বর্তমান বিশ্বসুন্দরী স্টেফানি দেল ভালে নতুন মিস ওয়ার্ল্ডের মাথায় মুকুট পরিয়ে দেবেন।
    জেসিয়ার মাথায় মুকুট পরিয়ে দেন গ্র্যান্ড ফিনালেতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল। প্রথম রানারআপ হয়েছেন ফাতেমা তুজ জোহরা, যৌথভাবে দ্বিতীয় রানারআপ হন রুকাইয়া জাহান চমক ও সঞ্চিতা রানী দত্ত। থার্ড রানারআপ করা হয়েছে সাদিয়া ইমানকে। পঞ্চম হয়েছেন তৌহিদা তাসনিম তিফা।

    সংবাদ সম্মেলনে বিচারকদের মধ্যে আরও ছিলেন অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ। এছাড়া সাংবাদিকদের সামনে কথা বলেন আয়োজক অন্তর শোবিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী, সহ-আয়োজক ওমিকন এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটির নবরাত্রি মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফিনালের বিচারক প্যানেলে আরও ছিলেন জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, করপোরেট ব্যক্তিত্ব রুবাবা দৌলা ও প্রকৌশলী সোনিয়া কবির বশির। তবে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে তাদের দেখা যায়নি।

    (Visited 67 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *