Templates by BIGtheme NET
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / গত দুই মাসে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯,০২৮ কোটি টাকা – Songbad Protidin BD

গত দুই মাসে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯,০২৮ কোটি টাকা – Songbad Protidin BD

  • ০৩-১০-২০১৭
  • saving_10568সংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ  বাংলাদেশে নিরাপদ বিনিয়োগের একটা বড় মাধ্যম ‘সঞ্চয়পত্র’। ব্যাংকব্যবস্থা থেকে এর সুদহার বেশি থাকায় বাড়ছে চাহিদা। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট – এ দু’ মাসে সঞ্চয়পত্র খাত থেকে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯,০২৮ কোটি টাকা। জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বলা হয়, সঞ্চয়পত্র খাত থেকে চড়া সুদে ঋণ নেয়ার ফলে সরকারের দায় বাড়ছে।

    অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতে ৫,০৫৩ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়। আর দ্বিতীয় মাসে বিক্রি হয় ৩,৯৭৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। প্রথম মাসের তুলনায় দ্বিতীয় মাসে বিক্রি কম হয় ১,০৭৮ কোটি টাকা।

    তবে গত অর্থবছরের জুলাই ও আগস্টে বিক্রি হয় ৭,৭৯৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। একক মাস হিসেবে জুলাইতে বিক্রি হয় ৩,৪৯৮ কোটি এবং আগস্টে বিক্রির পরিমাণ ছিল ৪,২৯৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে বিক্রি বেড়েছে ১,২৩৩ কোটি টাকা।

    চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০,১৫০ কোটি টাকা। তবে প্রবণতা বলছে অর্থবছরের ছয় মাসেই ছাড়াবে বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা। গত অর্থবছরের বাজেটে ১৯,৬১০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। পরে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে নতুন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। চাহিদার কারণে শেষ পর্যন্ত বিক্রি দাঁড়ায় ৭৫,০০০ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সুদ বেশি হওয়ায় সঞ্চয়পত্রে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে মানুষ। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসের বিক্রি প্রবণতায় বলা যায়, এবারও বিক্রি লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের সুরক্ষায় সুদের হার বেশি রাখা হলেও কারা মূলত সঞ্চয়পত্রের ক্রেতা তা যাচাই করা হচ্ছে না। ফলে বেশি মুনাফা লাভের আশায় উচ্চবিত্তরাও সঞ্চয়পত্র কিনছে।

    চলতি বাজেটে অভ্যন্তরীণ খাত থেকে ঋণ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬০,৩৫২ কোটি টাকা। তার মধ্যে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণের লক্ষ্য ধরা হয় ২৮,২০৩ টাকা। বর্তমানে ব্যাংক আমানতে সুদের হার ৪ থেকে ৬ শতাংশ। অন্যদিকে বিভিন্ন সঞ্চয় প্রকল্পের সুদহার ১১ থেকে ১২ শতাংশের কাছাকাছি।

    ২০১৫ সালের মে মাসে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদ গড়ে কমিয়ে আনা হয় ২ শতাংশ। সুদহার আবার সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তবে শেষ পর্যন্ত সেই পদক্ষেপ থেকে সরে আসে অর্থমন্ত্রণালয়। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ তৈরী কাজ শুরু করেছে অর্থ বিভাগ।

    কোন সঞ্চয়পত্রে কতো সুদঃ 

    পাঁচ বছর মেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। এই সঞ্চয়পত্রটি বিক্রি মূল্য ১০ হাজার, ২০ হাজার, ৫০ হাজার, ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা।

    পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। এই সঞ্চয়পত্রের বিক্রি মূল্য ৫০ হাজার, ১ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা।

    পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। দেশের যে কোনো নাগরিক এই সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন। বাজারে ১০, ৫০, ১০০ ও ৫০০ টাকা; ১০০০, ৫০০০, ১০,০০০, ২৫,০০০ ও ৫০,০০০ টাকা এবং ১ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র পাওয়া যায়।

    তিন বছর মেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ০৪ শতাংশ। বিক্রি মূল্য ১ লাখ, ২ লাখ, ৫ লাখ ও ১০ লাখ টাকা।

    তিন বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডট কম/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 30 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *