Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / স্বাস্থ্য / ভালো থাকুক আমাদের হৃৎপিন্ড – Songbad Protidin BD

ভালো থাকুক আমাদের হৃৎপিন্ড – Songbad Protidin BD

  • ০২-১০-২০১৭
  • image-86664সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  জনসাধারণের মাঝে হৃদরোগ, হৃদরোগের কারণ ও ঝুঁকিগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের উদ্যোগে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ২৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ব হার্ট দিবস উদযাপন করা হয়। বিশ্বের ১০০টি দেশ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এটি পালন করে। বাংলাদেশ ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতীয়ভাবে পালন করে আসছে। তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, বাংলাদেশে শতকরা ২০ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং শতকরা ৪০-৬৫ ভাগ বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপে ভোগেন। এ সংখ্যা বাড়ছেই। সিস্টলিক এবং ডায়াস্টলিক রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি.মি. মারকারির চেয়ে বেশি হলেই আমরা উচ্চরক্তচাপ বলে থাকি। হাইপারটেনশন বা উচ্চরক্তচাপ এমন একটি অসুখ, যা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া এমনকি শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। এ জন্য উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

    বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে হৃদরোগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনে একজনের হৃদরোগের সমস্যা রয়েছে। ভয়ানক ব্যাপার হলো- কোনোরকম পূর্বাভাস ছাড়াই এ রোগ কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হৃদরোগের প্রবণতা বাড়ে। তবে উন্নত বিশ্বে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। আবার উন্নয়নশীল দেশগুলোতে হৃদরোগজনিত মৃত্যুহার বাড়ছে।

    বর্তমান বিশ্বে হৃদরোগকে এক নম্বর ঘাতকব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতি বছর ১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এই রোগে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ২ কোটি ৩০ লাখে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, শিশু এবং নারীরাই বেশি হৃদরোগের ঝুঁকিতে থাকে। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছর বিশ্বে মোট রোগীর মৃত্যুর মধ্যে ২৯ ভাগ হার্টের রোগে মারা যায়। বিশ্বস্বাস্থ্য সম্মেলনে অসংক্রামক রোগগুলোর ভেতর হৃদরোগকে অন্যতম ভয়াবহ হিসেবে শনাক্ত করে ২০২৫ সালের ভেতর এসব রোগে মৃত্যুহার ২৫ ভাগ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ১৯৪টি দেশে কর্মসূচি প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব মায়ের গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, অপুষ্টিজনিত সমস্যা এবং রক্তশূন্যতা থাকে, সেসব মায়ের সন্তানের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। সেই সঙ্গে রয়েছে, অশিক্ষা, দারিদ্র্য, স্বাস্থ্য নিয়ে অসচেতনতা, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া, গর্ভকালীন সঠিকভাবে নিজের যত্ন না নেওয়া, খাদ্যাভ্যাস, রুবেলা টিকা গ্রহণ না করার কারণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে বাংলাদেশে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।

    ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন থেকে জানা যায়, নারী ও পুরুষের পাশাপাশি দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু-হৃদরোগীর সংখ্যা। দেশে বর্তমানে তিন লাখের বেশি শিশু হৃদরোগে আক্রান্ত। আর প্রতি হাজার শিশুর মধ্যে ১০টি শিশু জন্মগ্রহণ করে হৃদরোগ নিয়ে। এদের বেশির ভাগই প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা না পেয়ে জন্মের সাত থেকে আট মাসের মধ্যে মারা যায়। কার্ডিয়াক সোসাইটির তথ্যানুযায়ী, হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও শল্যবিদসহ মোট ৩৮৩ চিকিৎসক নিবন্ধিত রয়েছেন। কিন্তু নেই শিশু-রোগীদের জন্য পৃথক কার্ডিয়াক ক্যাথল্যাব। এ ছাড়া শিশু-হৃদরোগীদের চিকিৎসায় পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্টের সংখ্যা ২০ এবং পেডিয়াট্রিক কার্ডিয়াক সার্জনের সংখ্যা ১১ জন হলেও এদের অধিকাংশই রাজধানী ঢাকায় অবস্থান করেন।

    হার্ট অ্যাটাক : হার্ট সারা দেহে রক্ত সরবরাহ করার পাম্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তবে এই কাজের জন্য এর মাংসপেশিতেও রক্তের প্রয়োজন হয়। মাংসপেশিতে রক্ত সরবরাহ করার জন্য যে তিনটি ধমনি থাকে-এগুলোর এক বা একাধিক যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে রক্ত চলাচল বা অক্সিজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হয়। তখন হার্টের খানিকটা অংশ মরে যায়। এটিকেই সাধারণ ভাষায় হার্ট অ্যাটাক বলে।

    যে কারণে হয় : রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলে অথবা রক্তচাপ থাকলে বা অন্য কারণে হৃৎপিন্ডের রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

    বোঝার উপায় : বুকে প্রচন্ড ব্যথা, চাপ, যন্ত্রণা ও ভারী লাগে। সাধারণত বুকের সামনের দিকের মধ্যভাগের হাড়ের পেছনে ব্যথা শুরু হয়। ব্যথা সামান্য থেকে তীব্রতর হতে থাকে এবং অধিক ওজন বোধ হয়। ব্যথা বুক থেকে গলার বাম দিকে, বাম বাহু ও হাত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে থাকে। বমি বা বমির ভাব, হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা, মাথা ঝিমঝিম করা, প্রচুর ঘাম, শ্বাসকষ্ট, ভয়, উদ্বেগ, আকুল মুখচ্ছবি ও দ্রুত পালস (নাড়ির গতি) এবং মৃত্যুর ভয় দেখা দেয়।

    কী করতে হবে : হার্ট অ্যাটাক হয়েছে মনে হলে বা বুকে ব্যথা অনুভব করলে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালের কার্ডিয়াক বিভাগে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া ধমনিতে প্রাইমারি এনজিওপ্লাস্টি করাতে হবে।

    হার্ট ভালো রাখতে : ব্যায়াম করতে হবে। ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণসহ উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়ায়, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএলের পরিমাণ কমায়, ওজন কমায়, মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। রসুন, কলমিশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, শসা, গোলাপজাম, আপেল, কমলা, কলা, আনারস ইত্যাদি রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ ব্যবহার একেবারেই সমীচীন নয়। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদের বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কম চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ১৫ থেকে ৩৭ শতাংশ কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব হতে পারে। চিংড়ি, গরুর মাংস, মহিষের মাংস, ছাগলের মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য ক্ষতিকর এলডিএলের পরিমাণ বাড়ায়। প্রচুর পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার ও বাদাম জাতীয় খাদ্যগ্রহণ করে রক্তে উপকারী এইচডিএল বাড়ানো সম্ভব। ধূমপান, টেনশন ইত্যাদি উচ্চরক্তচাপ বাড়ানোর নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে ধূমপান পরিত্যাগ করা অত্যাবশ্যক। টেনশন উচ্চরক্তচাপ ছাড়াও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের জন্মদাতা। টেনশন পরিহার করুন। একটু হাসিখুশি, দুশ্চিন্তামুক্ত ও উচ্ছ্বসিত থাকলে অনেক রোগ থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাসিতে রয়েছে হরেক রকমের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উপকারিতা।

    প্রয়োজনীয় পরীক্ষা : হার্ট অ্যাটাকের পর নিয়মিত ইসিজি ফলোআপ, ইকোকার্ডিওগ্রাফি, ইটিটি করানো উচিত। এমপিআই, করোনারি এনজিওগ্রামও করার প্রয়োজন হতে পারে।

    যারা আছেন ঝুঁকিতে : মধ্যবয়সী, রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বেশি, ডায়াবেটিস রোগী, ধূমপায়ী, অতিরিক্ত ওজন থাকলে, উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস, চিন্তাগ্রস্ত ব্যক্তিদের হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে।

    প্রতিরোধ করুন : ধূমপান এড়িয়ে চলতে হবে। সিগারেটের নিকোটিন রক্তনালিকে সংকুচিত করে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে। দুশ্চিন্তা পরিহার, ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হাঁটাহাঁটির অভ্যাস ও ব্যায়াম করতে হবে। গরুর মাংস, মাখন, চর্বি, ঘি ইত্যাদিসহ মদ ও কফি পান পরিহার করতে হবে। লবণ খাওয়া কমাতে হবে, আঁশসমৃদ্ধ খাবার বেশি খেতে হবে। হার্ট অ্যাটাক একবারও হয়নি, কিন্তু ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে-এমন প্রত্যেকেরই ইসিজি, ইটিটি ও এনজিওগ্রাম করিয়ে নেওয়া উচিত।

    (ওয়ার্ল্ড হার্ট ফেডারেশনের ওয়েবসাইট অবলম্বনে)

    (Visited 19 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *