Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / চট্টগ্রাম / উখিয়ায় বৃষ্টিতে চরমে দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা – Songbad Protidin BD

উখিয়ায় বৃষ্টিতে চরমে দুর্ভোগে রোহিঙ্গারা, মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা – Songbad Protidin BD

  • ১৯-০৯-২০১৭
  • Ukhiya-19শফিক আজাদ, উখিয়ার বালুখালী থেকে ফিরে:
    মিয়ানমার থেকে নানান নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নেয় উখিয়ার বিভিন্ন বন, জঙ্গল,পাহাড় ও খালের কিনারে। কিন্তু সেখানেও শেষ রক্ষা হলোনা তাদের। একমাত্র মাথা গুছানোর জায়গাটি এবার কেড়ে নিল পাহাড়ী ঢলে। ২দিনের প্রর্বল বর্ষন ও পাহাড়ে ঢলে তলিয়ে গেছে বালুখালী তেলিপাড়া, থাইংখালী তাজনিয়ারখোলা, হাকিমপাড়া ও পালংখালীর বাঘঘোনা এলাকার সমতল ভূমি ও ছরা, বা খালের কিনারে অবস্থান নেওয়া ১০হাজারের অধিক রোহিঙ্গা বস্তি। এতে চরমে দুর্ভোগে পড়েছে অন্তত ৫০ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা। পানিবন্ধি হয়ে পড়ে বর্তমানে অসংখ্য লোকজন অনাহারে অনাধারে থাকায় মানবিক বিপর্যয়ের আশংকা করছেন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    সরজমিন উখিয়ার রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আকস্মিক বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলে উখিয়ার বালুখালী, হাকিমপাড়া, থাইংখালী তাজনিমারখোলা ও পালংখালী বাঘঘোনা এলাকায় বসবাসরত অন্তত ১০হাজার রোহিঙ্গা বস্তিঘর তলিয়ে গেছে। এসময় তাদের ঘরে থাকা একমাত্র সহায় সম্বলটুকুও বৃষ্টির পানি কেড়ে নিয়েছে। খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখা গেছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ,শিশু।

    বালুখালী কাস্টম্স এলাকায় পানিবন্ধি অবস্থায় আটকে পড়া রোহিঙ্গা মিয়ানমারের মংডু থানার সিকদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দু ছত্তারের ছেলে নুর মোহাম্মদ (৪০) বলেন মিয়ানমার থেকে সর্বস্ব হারিয়ে ১৩দিন আগে মিয়ানমার থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম এখানে। স্ত্রী সহ ১১জন ছেলে/মেয়ে রয়েছে আমার। কোন রকম পরিবার পরিজন নিয়ে দুঃখ কষ্টে অবস্থান করছিলাম একটি ঝুপড়িতে। কিন্তু এখানে এসেও শেষ রক্ষা হলোনা আমাদের। এবার মিয়ানমারের কোন সেনা বাহিনী নয়, প্রাকৃতিক বৃষ্টির পানি ভেসে নিয়েছে সবটুকু। এখন এত গুলো ছেলে/মেয়ে নিয়ে কোথায় যাব ভেবে কূল কিনারা পাচ্ছিনা।

    একই কথা মিয়ানমার বিধবা রশিদা বেগম(৪০) এর। স্বামী নুরুল ইসলামকে মিয়ানমার সেনা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে। তার বাড়ী মিয়ানমারের মংডু থানার হাইচ্চুরাতা গ্রামে। গত ১৫দিন পুর্বে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। সে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী ও নেই কোন বড় ছেলেও নেই, ৬টি মেয়ে। কাস্টম্স এলাকায় মোটামুটি ভাল ছিলাম। বিভিন্ন লোকজন এসে ত্রাণ দিত আমাদের। না খেয়ে থাকতে হয়নি একদিন ও। এখান থেকে যদি অন্যত্রে চলে যায়, সেখানে এতগুলো মেয়ে নিয়ে কি খেয়ে বেঁচে থাকব জানিনা।

    তার মতো আরো বিভিন্ন দুঃখ দুর্দশার কথা জানালেন, মিয়ানমারের মংডু থাকার হাইচ্চুরাতা গ্রামের আব্দু শুক্কুরের স্ত্রী মোবিনা (৩৮) একই থানার মগনিপাড়া গ্রামের মোস্তাক আহমদের স্ত্রী রাজিয়া বেগম (২২)। তারা জানান, এই অবস্থায় থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী,পুরুষ ও শিশুরা পানিবন্ধি অবস্থায় না খেয়ে মরতে হবে। বর্তমানে তাদের ঘরে কিছুই নেই। মঙ্গলবার সকালে অপরিচিত লোক এসে ১ প্যাকেট শুকনো খাবার দিয়েছিল, তা খেয়ে কোন রকম বেঁচে আছে।

    উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সরওয়ার জাহান চৌধুরী, বৃষ্টির কারনে অনেক রোহিঙ্গা পরিবার খোলা আকাশের নিচে চরম মানবেতর দিন যাপন করছে। তবে বিভিন্ন লোকজন এসে তাদেরকে ঔষুধ, খাবার ও কাপড় দিয়ে সহযোগিতা করছে। বৃষ্টির পানি ও পাহাড়ী ঢলে সব কিছু নিঃশেষ হওয়ায় মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে রোহিঙ্গাদের মাঝে।

    উল্লেখ্য যে, গত ২০১৬ সালের অক্টোবর মাসে মিয়ানমারে দুষ্কৃতিকারীদের হামলায় ৯ পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাখাইন (আরকান) রাজ্যে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু হয়েছিল। তখন সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হত্যাকান্ড, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগ করার অভিযোগ ওঠে। সেই সময় থেকে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে বাংলাদেশে। জাতিসংঘ মিয়ানমারের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকান্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সামিল বলে উল্লেখ করে। চলতি মাসে রাথেটং শহরে নতুন করে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এ এলাকায় রাখাইন ও রোহিঙ্গা দুই সম্প্রদায়েরই বসবাস। সেকারণে সেখানে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আর তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা বাহিনী ও রোহিঙ্গাদের সংঘর্ষ সৃষ্টি হয়। এতে মিয়ানমার সরকারের দাবী অনুযায়ী ১২জন সেদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়। তবে রোহিঙ্গাদের তথ্যমতে, ২৪ আগষ্ট নতুন করে সংগঠিত সহিংস ঘটনায় এই পর্যন্ত ৪হাজারের অধিক রোহিঙ্গার নিহত হয়েছে। যদিও তার কোন সঠিক পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি। উক্ত সহিংসতা পরবর্তী মিয়ানমার থেকে ৪লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসে উখিয়ার ৭টি ও টেকনাফের-৫ স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। তৎমধ্যে বালুখালীতে প্রায় দেড় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প মাঝি মোঃ লালু। (ক সং)

    (Visited 23 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *