Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / রাজশাহী / ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু – Songbad Protidin BD

৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু – Songbad Protidin BD

  • ১৮-০৯-২০১৭
  • image-49993সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা শুরু হয়েছে। মাসব্যাপী চলা এ মেলা উপলক্ষে শহরজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। মেলার প্রধানকেন্দ্র শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ককে সাজানো হয়েছে নান্দনিক রূপে। পার্কজুড়ে বসেছে বিভিন্ন বিপণী স্টল। এছাড়া থাকছে চিত্তবিনোদনের পৃথক স্পট।

    অন্যদিকে, শহরের নিউমার্কেট থেকে পাকাপুল পর্যন্ত সড়কের দুই ধারে মনোহরীর দোকান, পলাশপোল হাইস্কুলের সামনে লৌহজাত সামগ্রী, বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্র এবং প্রাণ সায়ের খালের পশ্চিম তীরে কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের পসরা বসেছে। মেলা শুরু হয়েছে মনসা পূজার মাধ্যমে।

    সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র তাজকিন আহমেদ চিশতি জানান, মেলার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।  মেলা ১৭ সেপ্টম্বর রবিবার থেকে শুরু হয়ে ১৬ অক্টোবর শেষ হবে।

    সূত্র জানায়, পুরো পার্ককে মেলার আওতায় আনা হয়েছে। মেলা উপলক্ষে প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তাদানে তৎপর রয়েছে। চাঁদাবাজি, জুঁয়া বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই নেয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। গোটা সাতক্ষীরা নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো।

    সূত্র আরো জানায়, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর মেলা উপলক্ষে আসা একটি সার্কাস প্যান্ডেলে এবং সাতক্ষীরার রকসি সিনেমা হলে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি সন্ত্রাসী চক্র বোমা হামলা চালায়। এতে নিহত হয় তিনজন। আহত হয় অর্ধশতাধিক। এরপর মেলা হারিয়ে ফেলে তার ঐতিহ্য।

    মনসা ও বিশ্বকর্মা পূর্জা উপলক্ষে বাংলা সালের ভাদ্র মাসের শেষের দিকে এ মেলা বসে। মেলা বসে পৌর সভার পলাশপোল গুড়পুকুর পাড়ে। গুড়পুকুরের নামানুসারে মেলার নামকরণ হয়েছে।

    সূত্র আরো জানায়, এই গুড়পুকুরকে নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনী। কথিত আছে, পয়োগ্রাম কসবায় রায় চৌধুরী পরিবারের সন্তান দক্ষিণা নারায়ণ দক্ষিণ ডিহী ও নাগরনাথ উত্তর ডিহীর সম্পত্তি ভাগ করে নেন। পীর খান জাহান আলীর আমলে রায় বংশ সমাজে সম্মানিত ছিল। তারা কনৌজগত ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ভুক্ত ছিলেন এবং তাদের পূর্বপুরুষ গুড়গ্রামের অধিবাসী ছিলেন। তাই তাদেরকে গুড়ী বা গুড় গাঙ্গী ব্রাক্ষণ হিসেবে ডাকা হতো।

    নাগরনাথ ছিলেন, নিঃসন্তান। তার ভাই দক্ষিণা নারায়ণের ছিল চার ছেলে। তারা হলেন কামদেব, রতিদের, জয়দেব শুকদেব। দক্ষিণা নারায়ণের সম্পত্তি ভাগের জন্য মধ্যবর্তী স্থান নির্ধারণ করা হয় পলাশপোল। এ স্থানে তিনি বসতি গড়ে তোলেন। বসবাসের শুরুতেই পানি সংকট নিরসনের জন্য জন্য একটি পুকুর খনন করেন। পূর্ব পুরুষের নামানুসারে এ পুকুরের নাম রাখেন ‘গুড় পুকুর’।

    কেউ কেউ বলেন, রায় চৌধুরীরা গৌর বর্ণের ব্রাক্ষণ ছিলেন। তাই তাদের পুকুরকে বলা হতো গৌড়দের পুকুর। যা বিকৃত হয়ে পরে ‘গুড়পুকুর’ হয়েছে।

    মেলার উৎপত্তি সম্পর্কে জানা যায়, পীর খান জাহান আলীর শিষ্য ছিলেন নব মুসলিম তাহের আলী। দক্ষিণা নারায়ণের ছেলে কামদেব ও জয়দেব নবাগত শাসন কর্তা মোহাম্মদ তাহের আলীর অধীনে উচ্চ পদে চাকরি করতেন। ঘটনাক্রমে তারা তাহের আলীর কাছে ইসলাম ধর্মে দীক্ষা নেন। কামদেব নাম পরিবর্তন করে কামাল উদ্দীন খান চৌধুরী এবং জয়দেব জামাল উদ্দীন খান চৌধুরী নামে পরিচিত হন। তাদের দুজনের কোনো একজনের পরবর্তী বংশধর বুড়া খাঁ।

    লোকে বলে, বুড়া খাঁ বাগেরহাট থেকে এসে সাতক্ষীরার পলাশপোলে এসে ঘরবাড়ি তৈরি করেন। গড়ে তোলেন পলাশপোল চৌধুরী বাড়ি। বাড়ির পূর্বপাশে একটা দরগা তৈরি করে সেখানে ধর্ম সাধনা করতে থাকেন। চৌধুরী বাড়ির অধীনে তখন পলাশপোল মৌজার বৃহৎ এলাকা। এলাকাবাসী তখন খাজনা দিত চৌধুরীদের।

    বাংলা ১২ শতকের কোনো এক সময় বুড়া খাঁর বংশধর ফাজেল খাঁন চৌধুরী পলাশপোল এলাকায় খাজনা আদায় করে ফিরছিলেন। ক্লান্তিতে গুড়পুকুর পাড়ে বটগাছের ছায়ায় বসামাত্রই ঘুমিয়ে পড়েন। বটপাতার ফাঁক দিয়ে সূর্যের রশ্মি এসে পড়ে ফাজেলের মুখে। গাছের মগডালে জড়িয়ে ছিল এক পদ্মগোখরা সাপ। সাপটি নেমে এসে ফনা তুলে ছায়া করে রাখে ফাজেলের মুখে।

    ফাজেল খাঁনের ঘুম ভেঙে গেলে বটগাছের পাতায় পাতায় চোখ ফেরাতেই তিনি দেখতে পান সাপটিকে। তখনও সাপটি ফনা তুলে সূর্যকে আঁড়াল করে আছে। তারপর এক সময় ফনা নামিয়ে সাপটি হারিয়ে যায়। ফাজেল খান বটতলা ত্যাগ করলেন। স্থানীয় হিন্দুদের ডেকে ওই স্থানে মনসা পূজার আহ্বান জানান। সেদিন ছিল ভাদ্র মাসের শেষ দিন। বাংলা ১২ শতকের গোড়ার দিকে কোনো এক বছর গুড়পুকুরের দক্ষিণ পাড়ের ওই বটতলায় শুরু হয় মনসা পূজা। এ মনসা পূজাকে ঘিরে বসে গুড়পুকুর মেলা।

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *