Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / চট্টগ্রাম / উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ৭ লাখ; নোম্যান্স ল্যান্ডে অপেক্ষায় ২ লাখ – Songbad Protidin BD

উখিয়া-টেকনাফে রোহিঙ্গা ৭ লাখ; নোম্যান্স ল্যান্ডে অপেক্ষায় ২ লাখ – Songbad Protidin BD

  • ১১-০৯-২০১৭
  • Ukhiya-11-2শফিক আজাদ, উখিয়া (কক্সবাজার):
    মিয়ানমারের রাখাইন (আরকান) রাজ্যে থেকে বিভিন্ন পালিয়ে এসেছে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নিয়েছে ৭লাখ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশের সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব রোাহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছেন পরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। নতুন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মতে, আশ্রয় নেওয়া ৭লাখ ছাড়াও মিয়ানমারের নোম্যান্স ল্যান্ড (জিরো) পয়েন্টে এখনো আটকা পড়ে আছে ২ লাখের উপরে রোহিঙ্গা। নোম্যান্স ল্যান্ডের এপারে চলে আসা রোহিঙ্গারা যাতে ওপারে পুনরায় ফিরে যেতে না পারে এজন্যে সীমান্তের জিরো পয়েন্টে কাটা তারের বেড়ায় সন্নিকটে পুতে রেখেছে স্থল মাইন্ড। মাইন্ড বিস্ফোরণে ২৪ঘন্টার ব্যবধানে ৪জন নিহত সহ আহত হয়েছে অন্তত ৭জন। রোববার থেকে সোমবার পর্যন্ত জিরো পয়েন্টের তুমব্রু কোনারপাড়ায় পুতে রাখা ১০টি স্থল মাইন্ড বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে রোহিঙ্গারা শিশুরা। এসময় তাজা আরো ৪টি মাইন্ড রোহিঙ্গা শিশুরা কৌশলে উঠাই নিয়ে আসে।

    সুত্র জানা গেছে, ২৪ আগস্ট রাতে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী নতুন করে হত্যা, ধর্ষণ, নির্যাতন, জ¦ালাও,পুড়াও শুরু হলে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বসবাসকারী রোহিঙ্গারা পালিয়ে আসার জন্য সীমান্তের জিরো পয়েন্ট অবস্থান নেয়। বিজিবি ও অন্যান্য আইশৃংখলাবাহিনীর কড়া বাধার মূখে বেশ কয়েকদিন সীমান্তে অপেক্ষার পর ঈদুল আযহার দিন হতে মানবিক বিবেচনায় সরকার রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে নমনীয় হলে অদ্যবধি পর্যন্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ভয়াবহ আকার ধারন করে। বিজিবি ও মানবিক কারনে আগের মতো আর রোহিঙ্গা ঠেকাতে হার্ডলাইনে না যাওয়ায় বানের ¯্রােতের মতো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করতে থাকে বাংলাদেশে। সীমান্তের অন্তত ২২টি পয়েন্ট দিয়ে এই অনুপ্রবেশের ভয়াবহ প্রবনতা বেড়ে যায় বলে স্থানীদের দাবী। সীমান্ত পেরিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গা পরিবার টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপ হতে উখিয়ার কুতুপালং পর্যন্ত রাস্তার দু,পাশে ১০হাজার একর বনবিভাগের জায়গায় এরা অবস্থান নেয়। বিশেষ করে উখিয়ার কুতুপালং, লম্বাশিয়া, মধুরছড়া, বালুখালী, বালুখালী ঢালার মুখ, থাইংখালী হাকিম পাড়া, পালংখালী তাজনিরমারখোলা,পালংখালীর বাঘঘোনা, জামতলি বস্তিতে প্রবেশ করছে। অচিন এলাকায় যে যেখানে পারছেন সেখানেই মাথা গোঁজার ঠাঁই নিচ্ছেন। ফলে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তের পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে গড়ে উঠছে ঝুপড়ি। এসব ঝুপড়ি নতুন পুরাতন মিলে ৭লাখ রোহিঙ্গা ভার বাংলাদেশের ঘাড়ে।

    স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলাদেশের অভ্যান্তরে নতুন করে হাজার হাজার ঝুপড়ি ঘর তৈরি করেছে নতুন পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। সেই সঙ্গে প্রতিদিন বানের স্রোতের মতো রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে। যে যেখানে পারছে সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছে। প্রতিটি সীমান্ত দিয়ে দলে দলে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ঢুকছে। শিশু-বৃদ্ধদের কোলে-কাঁধে করে নিয়ে আসছে স্বজনেরা। স্থানীয় কুতুপালং,বালুখালী বস্তির লালু মাঝি ও শামশু মাঝি জানান, পুরাতন ছাড়াও নতুন গড়ে উঠা বস্তিতে বিপুল পরিমান রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে । এ সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। স্থানীয় সীমান্তবর্তী এলাকার বালুখালী গ্রামের জাফর ইকবাল জানান, ঈদের দিন থেকে যে হারে রোহিঙ্গার ¯্রােত এসেছে বাংলাদেশে তাতে উখিয়া-টেকনাফে এ সংখ্যা ৭লাখ ছাড়িয়ে যাবে। যেহেতু আগের রয়েছে প্রায় ৪লাখ।

    মিয়ানমারের ঢেকিবনিয়া এলাকার জাকির হোসেন মংডু ছৈঝাপাড়ায় সহিংসতার আগের দিন রাজ মিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে আর ফেরত আসেনি। তার বড় ভাই মৌলভী আবু জাফর তুমব্রু পশ্চিমকূল পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছে। কথা হয় তাঁর সাথে এ প্রতিবেদকের সাথে। সে বলেন, ভাই জাকির হোসেন জানিয়েছেন মংডু ছৈঝাপাড়া,উকিলপাড়া,মংনিপাড়া, তামির ও বুডিদংয়ে এখনো ৫০হাজার উপরে রোহিঙ্গা রয়েছে। তাঁদেরকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ঘিরে রেখেছে যাতে পালিয়ে আসতে না পারে। সেখানে অনেক রোহিঙ্গা মানবিক বিপর্যয়ের সম্মূখীন হয়ে মারা যাচ্ছে। একই কথা বুচিদং এলাকার আব্দু শুক্কুরের। সেও জানান, উল্লেখিত গ্রাম গুলোতে মংডু টাউনশীপ এলাকার রোহিঙ্গা মুসলিমদের একত্রিত করে শিবিরে বন্ধি করে রেখেছে সেদেশে সেনা বাহিনীর সদস্যরা। তাঁরা মৌলিক সমস্যা ভোগছে। ইতিমধ্যে অনেক লোক সেখানে অভাব অনাটনের কারনে মারা গেছে।

    অপরদিকে তুমব্রু সীমান্ত পরিদর্শন করে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সাথে কথা আরো জানা গেছে, মিয়ানমারের ১নং সীমান্ত পিলার টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ হতে ৪৮নং সীমান্ত পিলার নাইক্ষ্যংছড়ির পুলতলি পর্যন্ত দীর্ঘ জিরো লাইনে অন্তত ২লাখের বেশি রোহিঙ্গা অপেক্ষমান রয়েছে। তারা আরো জানান, এই দীর্ঘ সীমান্ত এলাকায় মিয়ানমার সেনা বাহিনী ও বিজিপি’র সদস্যরা জিরো পয়েন্টে মাইন্ড পুতে রেখেছে। যাতে জিরো লাইনে এপারে চলে আসা রোহিঙ্গারা পুনরায় মিয়ানমারের অভ্যান্তরে প্রবেশ করতে না পারে। এই পর্যন্ত পুতে রাখা মাইন্ড বিস্ফোরণে ৪জন নিহত ও ৭জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতা ও মিয়ানমার নিরাপত্তার বাহিনী (বিজিপি) দুবাসি দেলোয়ার হোসেন। সে আরো জানান, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নোম্যান্স ল্যান্ড (জিরো) পয়েন্টে অবস্থান করছে আরো ২লাখ রোহিঙ্গা।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *