Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / চট্টগ্রাম / লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় – Songbad Protidin BD

লামায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে ২৫ প্রাথমিক বিদ্যালয় – Songbad Protidin BD

  • ৩১-০৭-২০১৭
  • image-44515মো. নুরুল করিম আরমান, লামা: বান্দরবানের লামা উপজেলায় পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ২৫টি সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলোর ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এবং পাহাড়ের পাদদেশ ও চূড়ায় স্থাপিত হওয়ায় এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টানা ভারী বৃষ্টিতে এসব বিদ্যালয় ঘেঁষে অবস্থিত পাহাড় ধসে পড়ে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় জনসাধারণ।

    তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এ বিদ্যালয়গুলো ঝুঁকিতে থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেয়নি সংশ্লিষ্ট দপ্তর। ফলে ঝুঁকি নিয়েই বছরের পর বছর বিদ্যালয়গুলোতে চলছে শ্রেণী কার্যক্রম। আতংকে রয়েছে বিদ্যালয়গুলোতে অধ্যয়নরত প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী।

    সূত্র জানায়, লামা উপজেলায় ৮৫টি সরকারি ও ৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ধস ঝুঁকিতে রয়েছে পাহাড়ের চূড়া ও পাদদেশে স্থাপিত ২৫টি বিদ্যালয়। পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে ২০টি ও ভূমি ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে পাঁচটি বিদ্যালয়।

    অতিঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো হলো- চেয়ারম্যান পাড়া, বড়বমু, বোচা পাড়া, বড় ফারাঙ্গা খিজ্জানুনা, ত্রিডেবা, ঠাণ্ডারঝিরি, দরদরী পাড়া, এম হোসেন পাড়া, চিংকুমঝিরি, কম্পোনিয়া পাড়া, লাইনঝিরি, নুনারবিল মডেল সরকারি, অংহ্লারীপাড়া, ছোটবমু, ফাইতং হেডম্যানপাড়া সরকারি, নুনারঝিরি ও মিরিঞ্জা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া, আটটি বিদ্যালয় কমঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

     

     

    বুধবার চেয়ারম্যান পাড়া সরকারি ও নুনারঝিরি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির পেছনে ভবন ঘেঁষেই রয়েছে বিশাল পাহাড়। গত কয়েক দিনের থেমে থেমে হওয়া ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়গুলোর মাটি নরম হয়ে গেছে। আর কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই পাহাড়ের অংশ বিশেষ ধসে পড়তে পারে বিদ্যালয়ের ভবনের ওপর। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছেন শিক্ষকরা।

    প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বলেন, দু-এক বছর আগে বিদ্যালয়ের পুরনো ভবনের পূর্ব পাশ ঘেঁষে থাকা পাহাড়টির কিছু অংশ ধসে পড়ে। এতে একটি শ্রেণিকক্ষ সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছে। শতভাগ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ওই শ্রেণী কক্ষে আপাতত শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

    ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের অংহ্লারী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাজিমউদ্দিন জানান, বৃষ্টি নামলেই বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক নেমে আসে। বিদ্যালয় ভবনের নিচতলার পেছন থেকে মাটি ধসে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

    ত্রিশডেবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি ইয়াংছা খালের মধ্যে যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে। ভবনের পেছনের মাটি একেবারে সরে গেছে। ধস ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    বিদ্যালয়ের ভবন ধস ঠেকানোর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়ে অনেকবার আবেদন করেও কোনো কাজ হচ্ছে না বলে জানান ১নং চাম্বি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাবিনা ইয়াছমিন।

    ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. কামালউদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের কোটি কোটি টাকার ভবন রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি।

    লামা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা যতীন্দ্র মোহন মণ্ডল বলেন, ভবনগুলো রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নেয়া একান্ত প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখেছি। বরাদ্দ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    (Visited 20 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *