Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / রাজশাহী / দিনাজপুরে ১১ মাসে ৫০০০ মাদক ব্যবসায়ী আটক – Songbad Protidin BD

দিনাজপুরে ১১ মাসে ৫০০০ মাদক ব্যবসায়ী আটক – Songbad Protidin BD

  • ২৯-০৭-২০১৭
  • image-44329দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরে ১১ মাসে প্রায় পাঁচ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। দিনাজপুরকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাদকমুক্ত জেলা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ব্যাপক অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিয়েছেন তিনি। একই সাথে মাদকের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করেছেন এ পুলিশ সুপার।

    দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, পুরো জুলাই মাসে ব্লক রেইড নামের এক বিশেষ অভিযানে প্রায় এক হাজার ২০০ জন মাদক ব্যবাসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়াও বিগত বছর আগস্ট মাস থেকে এ বছর ২৮ জুলাই পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও মাদক সেবনের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই হাজার ৬০০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. মাহফুজ্জামান আশরাফ জানান, দিনাজপুরে ইতোপূর্বে মাদক নির্মুলে এতো অল্প সময়ে এতো বেশি আসামি ধরা পড়েনি।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. মিজানুর রহমান জানান, দিনাজপুর থেকে মাদক নির্মুলের লক্ষ্যে পুলিশ সুপারের সার্বিক দিক নির্দেশনায় দুইশো থেকে আড়াইশো পুলিশ সদস্যের বিশেষ দল নিয়ে প্রতিটি উপজেলায় গোপনে ব্লক রেইড অভিযান পরিচালনা করা হয়। জিরো টলারেন্স নীতিতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

    মাদক নিরাময় কেন্দ্র অশ্রু’র পরিচালক কাজী জাফরুল্লাহ্ জানান, দিনাজপুরে মাদকাসক্তের এ সমস্যাটি আগে শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিলো। মাদক নিরাময় কেন্দ্রে শহরের লোকেরাই চিকিৎসা গ্রহণ করতো। বর্তমানে প্রত্যন্ত গ্রামের লোকেরা চিকিৎসা নিতে আসছে। এ থেকেই মাদকের ভয়াবহতা অনুমেয়।

    দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ের দেয়া তথ্য মতে, বিগত বছরের আগস্ট মাস থেকে এ বছর জুলাই মাস পর্যন্ত মাদক ব্যবসা ছেড়ে আত্মসমর্পণ করেছে ৭৬২ জন মাদক ব্যবসায়ী। এর মধ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশ ২৬৮ জন মাদক ব্যবসায়ীকে পুনর্বাসন করেছে। পুলিশ সুপারের নিজস্ব অর্থায়ন ও তদরকিতে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ২৭ জনকে।

    বিরল উপজেলার মেরাগাঁও গ্রামের নির্মল চন্দ্র জানান, তিনি মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। মাদকের পাঁচটি মামলায় তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েন। বিগত বছর পুলিশ সুপারের কাছে আত্মসমর্পণ করায় একটি রিক্সা পান। পরে তিনি রিক্সা চালানোর পাশাপাশি হোটেলের ব্যবসা করতেন।

    বিরামপুর পৌর শহরের চকপাড়া গ্রামের তাপসী রাবেয়া (৩২) এবং নবাবগঞ্জ উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আ. মান্নানের স্ত্রী মজিদা জানান, তাদের স্বামী মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। মাদকের মামলায় তারা সব কিছু হারিয়ে নিঃস্ব হতে বসেছিলো। পরে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সেলাই মেশিন পান তাপসী আর মজিদা। বর্তমানে এ কাজ করে স্বাবলম্বী তারা। একাধিক বেকার নারী তাদের অধীনে সেলাইয়ের কাজ করছেন।

    খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাজেবুর রহমান জানান, শুধু আইন দিয়ে মাদক নির্মুল সম্ভব নয়। বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি ব্যাপক অভিযান এবং সামাজিক যে আন্দোলন গড়ে উঠছে, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মাদক নির্মুলে সকলকে এক যোগে কাজ করতে হবে। এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা হাতে নিতে হবে।

    দিনাজপুর পুলিশ সুপার হামিদুল আলম জানান, দিনাজপুর একটি সীমান্তবর্তী শান্তিপূর্ণ জেলা। তিনি অনুসন্ধানে করে দেখতে পান, এখানে সংগঠিত অপরাধের ৯৯ ভাগই মাদকের কারণে হয়। এছাড়াও দেশের মাদকের একটি বড় অংশের চালান যেতো দিনাজপুরের এই সীমান্ত দিয়ে। তাই তিনি যোগদান করার পর মাদক নির্মুলের ঘোষণা দেন। এ কাজে ব্যাপক অভিযানের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করেছেন। মাদক নির্মুলে আগামীতে আরো বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে জানান এসপি হামিদুল আলম।

    (Visited 18 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *