Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / খুলনা / নড়াইলে ১৫ টিআর প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ – Songbad Protidin BD

নড়াইলে ১৫ টিআর প্রকল্পে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ – Songbad Protidin BD

  • ২৭-০৭-২০১৭
  • image-44006নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা গ্রাম। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির (টিআর) আওতায় সাংসদের অনুকূলে বরাদ্দ হওয়ায় ২৬টি প্রকল্পের মধ্যে এ গ্রামে ১৫টি প্রকল্প দেয়া হয়েছে। এ গ্রামের সঙ্গে লাগায়ো দৌলতপুর গ্রামে দুটি, লঙ্কারচর গ্রামে দুটি এবং রাধানগর গ্রামে একটি প্রকল্প বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইতনা গ্রামের এসএম মামুনুজ্জামান নামে এক ব্যক্তি এসব প্রকল্পের কাজ আনেন। এনে তিনি এসব প্রকল্পের অর্থ লুটপাট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

    লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় (পিআইও) সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের (আসন নম্বর-৩২৬) সাংসদ রোকসানা ইয়াসমিন ছুটির অনুকূলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ে টিআরের ২৬টি প্রকল্পে ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৪১ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এই ২৬ প্রকল্পের মধ্যে ইতনা গ্রাম এলাকায় ১৫টি প্রকল্প দেয়া হয়েছে। গত এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে এ অর্থ ছাড়করণ হয়। কাজ শেষের মেয়াদ ছিল গত জুনে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, অধিকাংশ প্রকল্পে কোনো কাজ হয়নি। একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রকল্প দিয়ে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। প্রকল্পে যাদের নাম-পরিচয় দেয়া হয়েছে, তারা এ ব্যাপারে কিছু জানেন না। এসব প্রকল্পের খবর জানার পর প্রকল্প এলাকার লোকজন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ১৬টি প্রকল্পের খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

    ইতনা ডাকঘরের পাশে রুস্তম মোল্লা, আমির শেখ ও শাহাদৎ মোল্লার বাড়ি পাশাপাশি। এখানে ইতনা রুস্তম মোল্লার বাড়ি হতে পাকা রাস্তা পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার বাবদ ৫৭ হাজার ২৪১ টাকা, ইতনা পাকা রাস্তা হতে আমির শেখের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করতে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইতনা ইদ্রিস শেখের বাড়ি হতে শাহাদৎ মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করতে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

    দেখা গেছে, পাকা রাস্তা হতে বাড়িতে ঢুকতে এ তিনটি রাস্তায় প্রকল্পের কোনো কাজ হয়নি। আমির শেখের ছেলেই ইদ্রিস শেখ। ইদ্রিস শেখের ছেলে জুয়েল শেখ ইতনা কলেজের ছাত্র। জুয়েল বলেন, এখানে বরাদ্দের কথা আপনার মুখে প্রথম শুনলাম। রুস্তম মোল্লা বলেন, এই সব টাকা চুরি করেছে। এসব চোরের বিচার হবে না?

    ইতনা চরপাড়া হিলার বাড়ি হতে রাকিব শেখের বাড়ি পর্যন্ত একটি সরু কাঁচা রাস্তা রয়েছে। এ রাস্তার সংস্কারের জন্য ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রায় দুইশ ফুট লম্বা এই রাস্তাটির পাশেই পাশাপাশি পরপর মোস্তফা, কাবুল ও জলিলের বাড়ি। একই রাস্তায় ওই তিনজনের নাম ব্যবহার করে ভিন্ন ভিন্ন আরো তিনটি প্রকল্পে ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ একই রাস্তায় চারটি প্রকল্পের নামে দুই লাখ ২৬ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। স্থানীয় লোকজন জানান, এই রাস্তায় কোনো রকমে এক ঝুড়ি করে মাটি দেয়া হয়েছে। ৫-৬ জন মাটিকাটা শ্রমিক ৬-৭ দিন এখানে কাজ করেছেন। এতে হয়তো ৩৫-৪০টি মজুর (জন) লেগেছে। সে হিসেবে ২০-২৫ হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

    পাশের বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, বর্ষায় এখানে হাঁটু সমান পানি হয়। কিন্তু নামকাওয়াস্তে কাজ হয়েছে।

    দৌলতপুর ধোপাবাড়ির মোড় হতে মধুমতী নদীর ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সংস্কারে ওই মহিলা সাংসদের অনুকূলে চলতি অর্থবছরে কাবিটা প্রকল্পে তিন লাখ ১২ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়। প্রায় দুইশ ফুট লম্বা ওই একই রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে টিআরের চারটি প্রকল্পে দুই লাখ ২৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়।

    স্থানীয় লোকজন জানান, এ রাস্তায় মাটি কোনো রকমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এতে ৪০-৫০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। কলেজ ছাত্র শামিম সরদার বলেন, এ রাস্তায় নতুন করে মাটি ফেলায় কাদা হয়ে চলাচলে আরো ভোগান্তি বেড়েছে। মাটি ফেলার কোনো দরকার ছিল না, দরকার ছিল পাকা করার। শুধু শুধু টাকা লোপাট হয়েছে।

    অধিকাংশ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটিতে (পিআইসি) শ্রমজীবী মানুষের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। তারা এসব প্রকল্পের বিষয়ে তথ্য দিতে পারেননি। এমন একজন ইতনা গ্রামের ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর আলম চারটি প্রকল্পের সভাপতি। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

    স্থানীয় লোকজন জানান, এ ধরনের কাজ মামুনুজ্জামান এর আগেও এনেছেন। সেসব প্রকল্পের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন।

    এ বিষয়ে মামুনুজ্জামান বলেন, এগুলো (প্রকল্পের কাজ) সাধারণত ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা করেন। আমি তদবির করে ২৬টি প্রকল্পের কাজ এনেছি। এতে টাকাপয়সাও খরচ হয়েছে। আমি ঢাকায় থাকি। ব্যবসা-বাণিজ্য করি। এ জন্য সব প্রকল্পের কাজ এখানো হয়নি। শিগগিরই কাজগুলো করা হবে বলে তিনি দাবি করেন।

    এসব বিষয়ে পিআইও সৈয়দ মো. আজিমউদ্দিন বলেন, দুই উপজেলার দায়িত্বে রয়েছি। টিআরের এতো প্রকল্প আমার পক্ষে তদারকি করা কঠিন ব্যাপার। যেসব প্রকল্পে কাজ হয়নি, সেগুলো জানতে পারলে কাজ করার ব্যবস্থা করা হবে।

    লোহাগড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিরা পারভীন বলেন, এসব প্রকল্পের খোঁজখবর নেব।

    আর সংরক্ষিত সাংসদ রোকসানা ইয়াসমিন ছুটি বলেন, আমি এগুলো বরাদ্দ দেই। প্রকল্প কমিটিতে স্বাক্ষর করি। কিন্তু কাজ বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব ইউএনও ও পিআইওর। আমাকে বিশ্বাস করেন, এর থেকে আমি কানাকড়িও নেই না। এ বিষয়ে সবাই জানে।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *