Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / জিপি বাংলালিংক এয়ারটেল ও রবির ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত – Songbad Protidin BD

জিপি বাংলালিংক এয়ারটেল ও রবির ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত – Songbad Protidin BD

  • ১৫-০৭-২০১৭
  • operator-corporateসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও রবির বিরুদ্ধে ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিগুলোকে সরকারের কোষাগারে ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা জমা দিতে হবে। ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে এসব কোম্পানি এই ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

    চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবিনামার বিরুদ্ধে ঢাকার ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল আবেদন করেছিল। আদালত তাদের আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে ৫ জুন রায় ঘোষণা করেন। সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে সরকারের ধার্যকৃত মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক ফাঁকির অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় এখন কোম্পানিগুলোকে সরকারের কোষাগারে ওই টাকা জমা দিতে হবে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে মূল্য সযোজন কর-বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রথম ধাপে ট্রাইব্যুনালের রায় পেয়েছি। রায় ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানিকে সরকারের পাওনা ভ্যাটের ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা দ্বিতীয় ধাপে ওই কোম্পানিগুলোর ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে দেখা গেছে, তারা ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে সিম বদলের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে ৮০০ কোটি টাকারও বেশি ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। চূড়ান্ত হিসাবে এ অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। এ ভ্যাট ফাঁকির বিষয়ে আমরা অচিরেই কোম্পানিগুলোর কাছে দাবিনামা জারি করব।’

    সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে গ্রামীণফোন, বাংলালিংক, এয়ারটেল ও রবি ২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ৫ বছরে সরকারের ২ হাজার ৪৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়। একই সিম দু’বার বিক্রি করার অভিযোগ এসব কোম্পানির বিরুদ্ধে।

    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে গ্রামীণফোন ১ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার ৬৩৯টি নতুন সিমকে রিপ্লেসমেন্ট সিম হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে ১ হাজার ২৩ কোটি ২৩ লাখ ৩১ হাজার টাকা ভ্যাট ফাঁকি দেয়। বৃহৎ করদাতা ইউনিট (মূসক) থেকে মূল্য সংযোজন কর আইন ১৯৯১ এর ৫৫(৩) ধারার বিধান অনুসারে গ্রামীণফোনের কাছে ২০১৫ সালের ১৮ মে ওই দাবিনামা জারি করা হয়। গ্রামীণফোন সরকারের এ দাবিনামার বিরুদ্ধে ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল মামলা করে।

    বাংলালিংক ২০০৯ সালের জুন থেকে ২০১১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে পুরনো সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন গ্রাহকের কাছে ৭০ লাখ ২১ হাজার ৮৩৪টি সিম বিক্রি করে। নিয়ম ছিল আগের (পুরনো) গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা। কিন্তু তা না করে কোম্পানিটি সরকারের ৫৩২ কোটি ৪১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়।

    ২ ভাগ সুদসহ ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এ অঙ্ক দাঁড়ায় ৬১৩ কোটি টাকা। সরকারের পক্ষ থেকে ২০১৫ সালের ১৮ মে কোম্পানির কাছে দাবিনামা জারি করা হলে এর বিরুদ্ধে তারা আপিল আবেদন ফাইল করে। অন্যদিকে ফোন কোম্পানি আজিয়াটা ২০০৭ সালের মার্চ থেকে ২০১১ সালের জুন পর্যন্ত সময়কালে ৫১ লাখ ৮১ হাজার ৭৯৭টি নতুন সিম বাজারে ছাড়ে। অথচ তারা ওই সিমকে রিপ্লেসমেন্ট সিম হিসেবে দেখানোর মাধ্যমে ৪১৪ কোটি ৫৪ লাখ টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়। ২০১৫ সালের ১৮ মে বৃহৎ করদাতা ইউনিট থেকে চূড়ান্ত দাবিনামা জারি করা হলে কোম্পানির পক্ষ থেকে আপিল আবেদন করা হয়।

    এছাড়া ২০০৭ সালের জুলাই থেকে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়কালে এয়ারটেল বাংলাদেশ লিমিটেড রিপ্লেসমেন্ট সিম বিক্রির মাধ্যমে সরকারকে ৭৮ কোটি ৭৮ লাখ ২৪ হাজার টাকার ভ্যাট ফাঁকি দেয়। পরে এ অর্থের দাবিনামা জারি করা হলে কোম্পানির পক্ষে আপিল আবেদন করা হয়। কিন্তু চারটি কোম্পানিই আপিলে হেরে গেছে।

    সূত্র জানায়, দাবিনামা জারির আগে ভ্যাটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বাজারে গিয়ে বিভিন্ন খুচরা বিক্রেতার কাছে সিম কিনে দেখতে পান, কোম্পানিগুলো ভ্যাট ফাঁকি দেয়ার জন্য পুরনো গ্রাহকের কাছে তার সিমটি না দিয়ে নতুন বা ভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। এমন সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই চারটি কোম্পানির কাছে সরকারের দাবিনামা জারি করা হয়।

    এদিকে চারটি মোবাইল ফোন কোম্পানি ফের পুরনো সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে ফের বড় অঙ্কের মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি দিয়েছে মর্মে অভিযোগ পেয়েছে এনবিআর। ২০১১ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে কোম্পানিগুলো ফোনের সিম পরিবর্তনের নামে নতুন সিম বিক্রির মাধ্যমে এ ফাঁকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি উদ্ঘাটন করে দাবিনামা জারির জন্য বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ-ভ্যাট) অতিরিক্ত কমিশনারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই অর্থের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। বৃহৎ করদাতা ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার কামরুজ্জামান এমনটিই ধারণা দিয়েছেন।

    চার মোবাইল ফোন কোম্পানির ভ্যাট ফাঁকির মামলার রায়ের বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) সাধারণ সম্পাদক টিআইএম নুরুল কবির বলেন, বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে কাজ করছে। এর সঠিক মূল্যায়ন হচ্ছে না। এনবিআর যে টাকা দাবি করেছে, সে অনুযায়ী রায় হয়েছে। আমরা রায় দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।

    (Visited 35 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *