Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ধর্ম / মাসায়েলে রমজানুল মুবারক – Songbad Protidin BD

মাসায়েলে রমজানুল মুবারক – Songbad Protidin BD

  • ২৮-০৫-২০১৭
  • romjan-poribortonসংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  আরবীতে রোজাকে সাওম বলা হয়। এর আভিধানিক অর্থ বিরত থাকা। ইসলামের পরিভাষায় ব্যক্তি সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত রোজার নিয়তে খাবার-দাবার, স্ত্রীসম্ভোগ ও এসব সম্পৃক্ত বিষয় থেকে বিরত থাকাকে রোজা বলা হয়।

    রমজানের রোজা ফরজ। শরীয়ত সমর্থিত কারণ ছাড়া রমজানের রোজা ছেড়ে দেওয়া কবিরা গুনাহ। (সুরা বাকারা, আয়াত ১৮৩-১৮৪।

    পবিত্র রমজানে রোজা পালন সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন ও জবাব নিয়ে পরিবর্তন ডটকমের পাঠকদের জন্য বিশেষ আয়োজন ‘প্রশ্ন উত্তরে জীবনবিধান’

    প্রশ্ন-১: রোজা কার উপর ফরজ?

    উত্তর: প্রত্যেক সুস্থ মস্তিষ্ক বালেগ, সুস্থ নর-নারী মুসলমানের উপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ।

    আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেন, ‘সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা- আয়াত ১৮৫), ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১৯৫, রদ্দুল মুহতার – ২/৩৭২।

    প্রশ্ন-২: রোজায় নিয়ত করার হুকুম কী?

    উত্তর: রোজায় নিয়ত করা ফরয। নিয়ত আরবী শব্দ। এর মূল অর্থ হল ইরাদাতুল কলব বা অন্তরের ইচ্ছা।

    যেমন- মনে মনে এ সংকল্প করবেন, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে আগামী কালের রোজা রাখছি।’

    মুখে বলা জরুরী নয়। আরবী নিয়ত করাও জরুরী নয়। আপনি যে ভাষাভাষী সেই ভাষায় নিয়ত করুন।

    হাদিস শরীফে এসেছে, ‘সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল।’ (সহীহ বুখারী শরীফ, ১ম খণ্ড, হাদিস নং-২)

    প্রশ্ন-৩: ফরজ রোজার নিয়ত কখন করা উত্তম?

    উত্তর: ফরয রোজার নিয়ত রাতেই করা উত্তম।

    হাদিস শরীফে এসেছে, ‘হযরত হাফসা (রা.) হতে বর্ণিত- তিনি বলেছেন, রাসুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের আগে রোজার নিয়ত করবে না তার রোজা (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।’ (সুনানে আবু দাউদ শরীফ- ১/৩৩৩, বাহরুর রায়েক – ২/২৫৯-৬০)

    প্রশ্ন-৪: রাতে নিয়ত করতে না পারলে কখন পর্যন্ত করা যাবে?

    উত্তর: রাতে নিয়ত করতে না পারলে দিনে সূর্য ঢলার প্রায় এক ঘণ্টা আগে নিয়ত করলেও রোজা হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী)

    প্রশ্ন-৫: যদি কেউ পুরো রমজানের জন্য একত্রে নিয়ত করে তাহলে যথেষ্ট হবে কী?

    উত্তর: পুরো রমজানের জন্য একত্রে নিয়ত করা যথেষ্ট নয়। বরং প্রত্যেক রোজার নিয়ত আলাদাভাবে করতে হবে। কারণ প্রতিটি রোজা ভিন্ন ভিন্ন আমল। আর প্রতিটি আমলের জন্যই নিয়ত করা জরুরী।

    হাদীস শরীফে এসেছে, সকল আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। (সহীহ বুখারী ১/২)।

    প্রশ্ন-৬: যদি কোনো ব্যক্তি রাতেই রোজার নিয়ত করল, সুবহে সাদিক তথা সাহরীর সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত সে কি পানাহার-স্ত্রী মিলন করতে পারবে?

    উত্তর: রাতে রোজার নিয়ত করলেও সুবহে সাদিক তথা সাহরীর সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত তার পানাহার বা স্ত্রী মিলনের সুযোগ রয়েছে। এতে নিয়তের কোনো ক্ষতি হবে না।

    আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘রমজানের রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী মিলন হালাল করা হয়েছে। (সুরা বাকারা -১৮৭)

    এই আয়াতে ‘রমজানের রাত’ বলার উদ্দেশ্য হলো- সুবহে সাদিক বা সাহরীর সময় শেষ হওয়া পর্যন্ত। সূর্য উদিত হওয়া নয়।

    আল্লাহ আমাদের সবাইকে উত্তম প্রতিদান দিন। আমীন

    মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান (লেখক, আলোচক ও গবেষক)
    শায়খুল হাদিস জামিয়া ইসলামীয়া ইমদাদুল উলুম মাদরাসা, সানারপাড়
    খতিব বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, শারুলিয়া, ডেমরা

    (Visited 58 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *