Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / বিছানায় ১৮ বছর, তবু জীবন জয়ের চেষ্টা – Songbad Protidin BD

বিছানায় ১৮ বছর, তবু জীবন জয়ের চেষ্টা – Songbad Protidin BD

  • ০৪-০৫-২০১৭
  • pbg20170502200213সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক>  জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। স্বাভাবিক অন্য শিশুদের থেকে হাত-পা চিকন এবং বাঁকানো। দাঁড়ানো তো দূরের কথা উঠে বসতেও পারেন না তিনি। খাবারও খাওয়াতে হয় তুলে। একদিন, একমাস, একবছর এভাবে ১৮ বছর শুয়ে কাটছে নাজিবুর রহমানের (১৮)। প্রতিবন্ধী বলে স্কুলের বারান্দায় পা দেয়া হয়নি। তবু জীবন জয়ের চেষ্টা থেমে নেই তার।

    নাজিবুর রহমান রাজশাহীর তানোর উপজেলার কলমা ইউপির রামনাথপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি এখন পরিবারের বোঝা নন। বিছানায় শুয়েই পরিবারের জন্য আয় করেন। পাঁচ বছর ধরে ফ্লেক্সিলোড, বিকাশ ও ডাচ বাংলা মোবাইল ব্যাংকের এজেন্ট নিয়ে গ্রাহক সুবিধা দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি আয়ও করেন।

    প্রতিবন্ধী নাজিবুরের বাবা আবুল কাশেম বলেন, ‘‘জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী নাজিবুর। ২০১৩ সালে নাজিবুর ১৩ বছর বয়সে গ্রামের অন্য ছেলের হাতে মুঠোফোন দেখে তা নেয়ার জন্য পরিবারের কাছে বায়না ধরে। অভাবী সংসার। আমার নিজেরই মোবাইল ফোন নেই। তাকে কি করে ফোন কিনে দেই। মোবাইলের জন্য সে দুইদিন না খেয়ে ছিল। অবশেষে ছেলের বায়নার কাছে বাধ্য হয়েছিলাম অল্প দামের মোবাইল ফোন কিনে দিতে।’’

    আবুল কাশেম বলেন, ‘‘অল্প দিনের মধ্যে নাজিবুর মোবাইলে দক্ষ হয়ে উঠলো। তখন মাথায় বুদ্ধি আসে গ্রামে কোনো মোবাইলের রির্চাজের দোকান নাই। তাকে এ ব্যবস্থা করে দিতে পারলে সে চালাতে পারবে। গ্রামের একজন আত্মীয়ের কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার করে মোবাইল রিচার্জের ব্যবসায় লাগিয়ে দেয়া হয়।’’

    আবুল কাশেম আরও বলেন, ‘‘আমরা গরীব মানুষ। দুই শতক জমির উপরে বাড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই। ভালো দোকান করতে অনেক টাকা দরকার। তাই কোনো রকম কলমা বাজারে ছোট একটি পানের দোকান দিয়ে সংসার চালাই। নাজিবুরের যদি একটু বেশি পুঁজি থাকতো তাহলে সে ভালোভাবে ব্যবসাটা করতে পারতো।’’

    নাজিবুরের মা ঝর্ণা বেগম বলেন, ‘‘জন্মের পর থেকে নাজিবুরকে আমি দেখাশুনা করে আসছি। আমি কখনও তাকে বোঝা মনে করিনি। মোবাইলে রিচার্জ ব্যবসা শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে বাড়ির বাইরে বারান্দায় রেখে আসি। সে সারাদিন থাকে। গ্রামের লোকজন তার কাছে মোবাইলে রিচার্জ-বিকাশ করতে আসে। এ ব্যবসার জন্য সামান্য আর্থিক সহযোগিতা পেলে সে আরও ভালোভাবে নিজের ব্যবসাটা গুছিয়ে নিতে পারতো।’’

    প্রতিবন্ধী নাজিবুর বলেন, ‘‘আমি নিজে আয় করতে চাই। বাবা-মার হাতে কিছু টাকা তুলে দিতে চাই। আমি সেই চেষ্টাই করে আসছি।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি।  মহিনুল সুজন 

    (Visited 47 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *