Templates by BIGtheme NET
Home / Slide Show / ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা দিতি

ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে না ফেরার দেশে চিত্রনায়িকা দিতি

  • ২০-০৩-২০১৬
  • ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে অবশেষে চলে গেলেন দেশীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সেরা নায়িকা দিতি। আজ রোববার বিকেল ৪টা ৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি…..রাজিউন)। বাংলামেইলেকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন ইউনাইটেড হাসপাতালের মিডিয়া মুখপাত্র ডা. সাগুফতা।

    মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হাসপাতালের সাধারণ কেবিনে রাখা হয়েছিল দিতিতে। আর মৃত্যুর সময় তার পাশে ছিলেন দিতির দুই সন্তান।

    ডা. সাগুফতা বাংলামেইলকে বলেন, ‘মৃত্যুর আগমুহূর্তে দিতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কৃত্রিম পর্যায়েও শ্বাস নিতে পারছিলেন না তিনি। একপর্যায়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’

    মস্তিস্কে ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে ভারতের মাদ্রাজের ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। কিন্তু সেখানকার ডাক্তাররা আশানুরূপ ফলাফল জানাতে পারেননি। তাই চলতি বছরের শুরুতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

    উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির আগমন ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু। এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে অভিনয় করে প্রথমবারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ১৯৮৫ সালে আমজাদ হোসেনের ‘হীরামতি’ ছবিতে চিতত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর সঙ্গে অভিনয় করতে গিয়েই প্রেমে পড়েন দুজন। পরবর্তীতে তারা দুজনে বিবাববন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৮৭ সালে জন্ম নেন মেয়ে লামিয়া চৌধুরী আর ১৯৮৯ সালে জন্ম নেয় ছেলে দীপ্ত। তবে সোহেল চৌধুরীর সাথে দিতির সংসার স্থায়ী হয় নি, ভেঙ্গে যায়। পরে ১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাত দুটার দিকে সোহেল চৌধুরী খুন হন বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবে। পরবর্তীতে দিতি তার সর্বাধিক চলচ্চিত্রের জুটি ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করলেও সেই বিয়েও স্থায়ী হয়নি, ডিভোর্সের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটে।

    দিতি অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রগুলো হল-‘হীরামতি’, ‘দুই জীবন’, ‘ভাই বন্ধু’, ‘উছিলা’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর’, ‘খুনের বদলা’, ‘দুর্জয়’, ‘আজকের হাঙ্গামা’, ‘স্নেহের প্রতিদান’, ‘শেষ উপহার’, ‘চরম আঘাত’, ‘স্বামী-স্ত্রী’, ‘অপরাধী’, ‘কালিয়া’, ‘কাল সকালে’, ‘মেঘের কোলে রোদ’, ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’, ‘মুক্তি’, ‘কঠিন প্রতিশোধ’, ‘জোনাকীর আলো’, ‘তবুও ভালোবাসি’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ‘হৃদয় ভাঙা ঢেউ’, ‘মাটির ঠিকানা’, ‘নয় নম্বর বিপদ সংকেত’ ইত্যাদি।

    ছোটপর্দায়ও সমানভাবে ব্যস্ত দিতি অসুস্থতার ফাঁকে ভারত থেকে ফিরে বাংলামেইলকে তার আত্মজীবনী নিয়ে ধারাবাহিক নাটক নির্মাণের বাসনা পোষন করেছিলেন।

    (Visited 11 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *