Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / আবারো বরখাস্ত বিএনপির ২ মেয়র – Songbad Protidin BD

আবারো বরখাস্ত বিএনপির ২ মেয়র – Songbad Protidin BD

  • ০২-০৪-২০১৭
  • arif20170402155303সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  অফিস কক্ষে প্রবেশ করার পর বিএনপির দুই মেয়রকে আবারো বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে তিন মিনিটের মাথায় এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে তিন ঘণ্টার মাথায় বরখাস্ত করা হয়। তাদের বরখাস্তের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    তালা ভেঙে চেয়ারে বসা মাত্রই ফের বরখাস্তের খবর শুনতে হয়েছে রাসিক মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রবিবার বিকেল ৩টা পাঁচ মিনিটে ফ্যাক্সযোগে আদেশের কপিটি রাসিকে আসে। এর আগে ৩টা দুই মিনিটের দিকে মেয়র বুলবুল তার অফিস কক্ষে নিজের চেয়ারে গিয়ে বসেন। আদেশের খবর শুনে ৩টা ১২ মিনিটের দিকে তিনি বেরিয়ে যান।

    এ সময় গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি বলেন, যে কারণ দেখিয়ে তাকে বরখাস্তের আদেশ দেয়া হয়েছে, সে কারণে আগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। উচ্চ আদালতে তিনি দায়িত্ব ফিরে পেয়েছেন। তাই মন্ত্রণালয়ের এ আদেশ তিনি আমলে নিচ্ছেন না এবং সোমবারও তিনি অফিস করবেন।

    মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মেয়র বুলবুলের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হয়েছে। আর স্থানীয় সরকারের (সিটি করপোরেশন) ২০০৯ সালের আইনে মেয়রের নামে মামলার অভিযোগপত্র আদালতে গৃহিত হলে তাকে বরখাস্তের বিধান রয়েছে। তাই মেয়র বুলবুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।

    প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে ৭ মে একই কারণে সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১০ মার্চ উচ্চ আদালত তার বরখাস্ত আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।

    গত মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেয়া হয়।

    এরপরই রবিবার সকালে দায়িত্ব নিতে নগর ভবনে যান মহানগর বিএনপির সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। গিয়ে দেখেন, তার কক্ষটি তালাবদ্ধ। এরপর তিনি প্রথমে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও পরে সচিবের কক্ষে গিয়ে বসে থাকেন। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুপুরে নগর ভবনে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।

    পরে দুপুর ২টার দিকে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. শরীফ উদ্দীন ও সচিব মাহাবুবুর রহমান পুলিশের সহযোগিতায় মেয়রের অফিস কক্ষের দুটি তালা ভাঙেন। এরপর সদ্য বহিস্কৃত মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল তার চেয়ারে গিয়ে বসেছিলেন। এরপরই তাকে বরখাস্তের এই আদেশ শুনতে হলো।

    এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে দায়িত্ব নেওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই আবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    রবিবার দুপুরে সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এনামুল হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন অ্যাক্ট উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম কর্তৃক সিলেট সিটি করপোরেশনে একটি ফ্যাক্স বার্তা পাঠানো হয়েছে।

    ওই বার্তায় বলা হয়েছে, আরিফুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল মামলা- ৪/২০০৯ এর সম্পূরক অভিযোগপত্র গত ২২ মার্চ আদালতে গৃহীত হয়েছে। সেহেতু সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে স্থানীয় সরকার বিভাগ আইন ২০০৯ এর ১২ উপধারা প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

    আওয়ামী লীগ সিনিয়র নেতা প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলার চার্জশিটে আরিফুল হক চৌধুরীর নাম থাকায় তাকে আবারো সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

    দীর্ঘ ২৭ মাস পর সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) মেয়রের চেয়ারে ফেরেন আরিফুল হক চৌধুরী।

    মামলার জেরে বরখাস্ত-আদেশের জটিলতা কাটিয়ে রোববার (০২ এপ্রিল) সকাল সোয়া ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মেয়রের চেয়ারে বসেন। এসময় সিলেট সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে বরণ করে নেন।

    এর আগে, বিএনপি দলীয় এ মেয়রকে নেতাকর্মীরা নগরীর কুমারপাড়াস্থ বাসা থেকে শোডাউন দিয়ে সিটি করপোরেশনে নিয়ে আসেন।

    ২০১৩ সালের ১৫ জুন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী।

    এরপর সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামি হিসেবে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের জ্যেষ্ঠ হাকিম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর আরিফুল হককে কারাগারে পাঠানো হয়।

    মামলা চলতে থাকার প্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ৭ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তাকে মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করে।

    এরপর তিনি ওই আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করলে সেই বরখাস্তের আদেশ স্থগিত করে দেন হাইকোর্ট। এরপর গত ২৩ মার্চ সেই আদেশ বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও।

    ফলত গত ৩০ মার্চ স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত এক পত্রে আদালতের আদেশের যথাযথ প্রতিফলনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করেন।

    এ পত্র প্রাপ্তির তিন দিন পর আরিফুল হক চৌধুরী মেয়রের চেয়ারে বসেন।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ সাহেদুল আলম 

    (Visited 17 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *