Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / পইল গ্রামের মাছমেলা – songbadprotidinbd.com

পইল গ্রামের মাছমেলা – songbadprotidinbd.com

  • ০৫-০২-২০১৭
  • Untitled-120170114204911হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পইল গ্রামের মাছমেলা। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে প্রায় দুইশ বছর ধরে চলেছে এ মেলা।

    শনিবার মাছমেলায় অংশ নিতে সকাল থেকেই হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। শুধু হবিগঞ্জ নয়, সিলেট, মৌলভীবাজর, সুনামগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া থেকেও প্রচুর ক্রেতা-দর্শনার্থী ভিড় করেছেন পইল গ্রামে। একদিনের জন্য মেলা হওয়ার কথা থাকলেও তা চলবে রোববার দুপুর পর্যন্ত।

    মেলায় বিপুল আকৃতির বোয়াল, বাঘাই, আইড়, চিতল, গজার, রুই, কাতলসহ নানা প্রজাতির আকর্ষণীয় মাছ নিয়ে এসেছেন বিক্রেতার। সেই সঙ্গে রয়েছে পুঁটি, চিংড়ি, কৈ, চাপিলা, চাঁদার মতো ছোট মাছ। মেলার প্রধান আকর্ষণ মাছ হলেও স্থান পেয়েছে কৃষি উপকরণ, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি, ভোগপণ্য আর শিশুদের খেলনা।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মাছ বেচাকেনায় চলছে ধুম। প্রত্যেকটি দোকানের সামনে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। অনেকে মাছের সঙ্গে সেলফি নিতে ব্যস্ত। কেউ কেউ এসেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে। তারা মাছ ছাড়াও অন্যান্য পণ্যের দোকানে ভিড় জমাচ্ছেন। শিশুরা খেলনা আর নারীরা ঝোঁকছেন প্রসাধনী সামগ্রীর দোকানে।

    মেলায় সবচেয়ে বড় মাছটি তুলেছেন হবিগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদ নগর গ্রামের শুকুর মিয়া। ৩০ কেজি ওজনের বাঘাই মাছটির দাম চাওয়া হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। সবার দৃষ্টি এ মাছটির প্রতি। কেউ বলছেন ২০ হাজার আবার কেউ বলছেন ৩০ হাজার টাকা। কেউ আবার যৌথভাবে কিনতে অন্যের সঙ্গে শলা পরামর্শ করছেন। ভাবখানা যেন তারা কোরবানির গরু কিনতে এসেছেন। হবেই বা না কেন। কুরবানির গরুর দামও তো এ মাছের চেয়ে কম। তবে বিকেল সাড়ে ৬টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মাছটি বিক্রি হয়নি।

    মেলায় মাছ বিক্রি করতে এসেছেন সমুজ আলী। তিনি বলেন, “মেলাকে উপলক্ষে চলে মাছ ধরারও উৎসব। বাজারের তুলনায় মেলায় মাছের দাম বেশি হলেও সবাই আনন্দের সঙ্গে মাছ কিনেন।”

    তবে আরেক বিক্রেতা নিম্মত আলীর কণ্ঠে হতাশা। তিনি বলেন, “মাছ মেলায় আগের সেই অবস্থা নেই। আগে সিলেট অঞ্চলের তরতাজা মাছ দিয়ে মেলা বসত। এখন বেশিরভাগ মাছ আসে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে, যা বরফ দিয়ে রাখা হয়। কতগুলো মাছ তো বক্সে থাকতে থাকতে বেঁকে গেছে। দেখেই অনুমান করা যায় এ মাছগুলো দূর থেকে আনা হয়েছে।”

    মেলায় ঘুরতে আসা বাবু চৌধুরী বলেন, “এখানে শুধু মাছ কেনাটাই বড় কথা নয়। বাপ-দাদার মুখে বড় বড় মাছের গল্প শোনা ছাড়া দেখা হয়নি। এখানে এসে মাছগুলো দেখে চোখ জুড়িয়ে নিলাম। মাঝে মধ্যে তাদের গল্পগুলো অবিশ্বাস্য মনে হতো। কিন্তু এখানে এসে সেই ভুলও ভেঙে গেল।”

    পইল ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মঈনুল হক আরিফ জানান, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম বাগ্মী নেতা বিপিন চন্দ্র পালের জন্মভূমি পইল গ্রামে প্রতিবছর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশের। প্রতিবছরের মতো এ বছরও মেলা শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ আহসান হাবিব 

    (Visited 33 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *