Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে মাস্টার ফয়েজুরের মধু – songbadprotidinbd.com

দেশ পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে মাস্টার ফয়েজুরের মধু – songbadprotidinbd.com

  • ১৯-০১-২০১৭
  • moubg20170116215600শেরপুর প্রতিনিধি : উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, দৃঢ় সংকল্প এবং প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে মৌমাছি পালন করে স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। এমনটাই প্রমাণ করেছেন শেরপুরের নকলা উপজেলার ফয়েজুর রহমান মাস্টার। তার সংগৃহীত মধু নিজে না পারলেও অন্যের মাধ্যমে তা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে।

    ফয়েজুর রহমান মৌমাছি পালনের মাধ্যমে হয়েছেন আত্মনির্ভরশীল, পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা। তার দেখাদেখি মনির, রাজবাহার, নজরুলসহ অনেকেই মৌমাছি পালনে আগ্রহী হয়েছেন। তারাও স্বাবলম্বী হওয়ার পথ খুঁজে পেয়েছেন।

    ফয়েজুর রহমান জানান, দরিদ্র ঘরে জন্ম নেওয়ায় এইচএসসি পাশের পর থেকেই চাকরি খোঁজা শুরু করেন। কিন্তু চাকরি না পেয়ে ডিগ্রিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় শেরপুরের বিসিক থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশীয় সিরেনা মৌমাছি পালন শুরু করেন। ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে কয়েকজন এখন বিদেশি মেলিফেরা মৌমাছি চাষ প্রকল্পের গর্বিত মালিক।

    তিনি জানান, ২০০০ সালে তারা প্রশিক্ষণ নেন। বিসিক থেকে প্রাপ্ত ২টি মৌ বাক্স ও প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞানকে পুঁজি করে তার মৌমাছি পালনের যাত্রা শুরু। তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। বর্তমানে ফয়েজুরের ১২০টি মৌবাক্স রয়েছে। তাছাড়া নজরুলের ৫২টি, মনিরের ৬০টি, রাজবাহারের ১৭টি, মাহমুদের ২০টি, হালিমের ৭৫টি, জহুরুলের ১১৪টি বাক্স আছে। মধু উৎপাদন করা পর্যন্ত প্রতি বাক্সে ১ থেকে দেড় হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে তাদের।

    ফয়েজুর মাস্টার জানান, তার ১২০টি বাক্স তৈরিসহ মধু উৎপাদন পর্যন্ত লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হলেও বছরে দেড় থেকে ২ লাখ টাকা আয় হয়। নকলায় যথেষ্ট বনায়ন না থাকায় বছরের কয়েক মাস মৌ বাক্সগুলো মধুপুর গড়ের নিকটে রাখা হয়। শুধু মাত্র সরিষা ও মৌসুমি ফলের মৌসুমে এলাকাতে আনেন। প্রতি বাক্স হতে বছরে গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ কেজি মধু পাওয়া যায়। মৌসুম ভিত্তিক পাইকারি প্রতি মণ সরিষার মধু ১২ হাজার টাকা, লিচুর, আম ও কুলের মধু ১৪ হাজার টাকা, কালোজিরার মধু ১৭ হাজার টাকা হিসাবে বিক্রি করেন।

    চলতি সরিষার মৌসুমে ফয়েজুরের ৭৫টি বাক্স হতে প্রায় ২২ মণ মধু সংগ্রহ করা হয়। যার পাইকারি বাজার মূল্য আড়াই লাখ টাকা। আর খুচরা প্রতি কেজি ৪০০ টাকা করে বিক্রয় করলে ৩ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওয়া যাবে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে এতো মধু বিক্রি করা সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশ মৌ চাষী সমিতির মহাসচিব সাতক্ষীরার আফজাল হোসেনের মাধ্যমে কম মূল্যে ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে।

    আফজাল হোসেন জানান, বন্ধু দেশগুলোতে মধু রপ্তানির ব্যবস্থা করাসহ সহজ ব্যাংক ঋণ দিলে তারা মৌমাছি পালন করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে নজির ঘটাতে সক্ষম হবেন।

    উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীর জানান, মৌ চাষীদের প্রশিক্ষণ এবং মধু উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।

    শেরপুর খামার বাড়ির উপপরিচালক আশ্রাফ উদ্দিন জানান, যে এলাকায় মৌমাছি পালন করা হয় সে এলাকায় সরিষাসহ যেকোনো শস্যের ফলন ১৫ থেকে ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। এতে শুধু মৌ চাষীরাই লাভবান হচ্ছেন না, কৃষকরাও বিনাশ্রমে বাড়তি লাভ পাচ্ছেন।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ফরিদ হাবিব জামাল 

    (Visited 34 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *