Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / সময় ও অর্থ বাঁচায় মতিঝিলের গুদারাঘাট – songbadprotidinbd.com

সময় ও অর্থ বাঁচায় মতিঝিলের গুদারাঘাট – songbadprotidinbd.com

  • ১৪-০১-২০১৭
  • unnamed-(1)20170106114805সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক : প্রকৃতি অসহায় হয়ে পড়েছে ইট পাথরের যান্ত্রিক শহরে। মানুষের আগ্রাসনের শিকার হয়ে রাজধানী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে খাল-বিল। নগরায়নের কালো ছোবলে এসব ভরাট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ইটপাথরের এই রাজধানীতেও চলছে নৌকা। নগরীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে রয়েছে গুদারাঘাট। এর এক প্রান্ত মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সীমানা ঘেঁষে অন্যটি দক্ষিণ কমলাপুরে।

    রাজধানীর সীমানা ঘেঁষে রয়েছে বুড়িগঙ্গা-তুরাগ নদী। এদের শাখা ছড়িয়েছিল ঢাকা জুড়ে। সেই শাখা এখন অতীত। এর পরও মতিঝিলের এ ঘাট যেন তারই আমেজ ধরে রেখেছে। এটি এখন আর শুধুই সাধারণ ঘাট নয়, এটি এখন মতিঝিলের ঐতিহ্য। এ ঘাট যেন রাজধানীর প্রায় ৯০ বছরের বছরের সাক্ষী। আগে ঘাট বড় ছিল। এখন চারদিকে ঘর-বাড়িসহ দোকান করার ফলে ঘাট ছোট হয়ে পড়েছে।

    এ ঘাট দিয়ে নিয়মিত পারাপার হচ্ছে কর্মব্যস্ত নগরবাসী। এদের সংখ্যা কয়েক হাজারের মতো। প্রতিদিন সূর্য ওঠার পর থেকে যাত্রীদের পারাপার করা শুরু হয়। চলে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত। তবে যাত্রীদের চাপ থাকলে আরো বেশি সময় পারাপার করা হয়।

    পারাপারের জন্য জনপ্রতি দুই টাকা করে নেয়া হয়। ঘাটটি মালিকানাধীন জায়গা বলে দাবি করছেন গোপীবাগের এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের দীর্ঘদিন ধরে মামলাও চলছে। ফলে অযত্নেই পড়ে আছে মতিঝিলের ঘাটটি। পুরো ঘাটজুড়ে ময়লার স্তুপ। পানি কুচকুচে কালো। পানিতে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ। গরমের দিনে অনেক সময় যাত্রীদের নাকে হাত দিয়ে পার হতে দেখা যায়। এ ঘাটের সঙ্গে কারখানার বর্জ্য অপসারণের নালা যুক্ত রয়েছে।

    মতিঝিল থেকে দক্ষিণ মুগদা, কমলাপুর, সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার যেতে ওই এলাকার রাস্তা রিকশায় গেলে সময় ও অর্থ বেশি লাগে। কিন্তু এ ঘাট দিয়ে পারাপার হলে দুটোই সাশ্রয় হয়। যেখানে ঘুরে যেতে ২০ টাকা লাগে সেখানে মাত্র দুইটাকা দিয়ে নৌকায় পার হওয়া যায়। একই অবস্থা মতিঝিল আসার বেলায়ও।

    সরেজমিনে দেখা যায়, সববয়সী মানুষ তাদের বিভিন্ন কাজে এ ঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছে। কেউ স্কুল কলেজে যাচ্ছে, কেউ বা আবার অফিস ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে। আবার অনেকেই ইটপাথরের শহরে ভিন্ন ধরনের আমেজ পেতে খুশি মনে এ ঘাট ব্যবহার করছে। যাই হোক নৌকায় ঘুরতে পেরে সবাই মজা পাচ্ছে। তবে ময়লা পানি নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই।

    পারাপার হওয়া অনেক যাত্রী দাবি করেন, সরকার যেন এ ঘাটটি হারিয়ে যেতে না দেয়। সরকার যেন এটি রক্ষণাবেক্ষণ করে, আরো আধুনিক করে তোলে।

    এসময় তারা ঘাটের পানি পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান এবং ঘাটে বাঁধ দিয়ে এর চারদিকে হাঁটাচলার রাস্তা করার দাবি করেন।

    মতিঝিলের ঘাট বাঁচিয়ে রেখেছে পাঁচ মাঝিসহ ১১ জনের পরিবার। পাঁচ মাঝির মধ্যে রয়েছে তিন ভাই। এরা হলেন- দানা মিয়া (৬৫), হেজু মিয়া (৬০) ও মোকলেস মিয়া (৫০)। অন্য দুই মাঝি ভাগিনা সাঈদ মিয়া ও ভাতিজা নান্নু মিয়া। বাকি ছয় জন মাঝি নয়, কিন্তু গুদারা ঘাটের বিভিন্ন কাজ করে থাকে। এর মধ্যে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা আদায়সহ ঘাটের রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন তারা।

    পারাপারের সময় কথা হয় কলেজ ছাত্র আবিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, “আমি থাকি কমলাপুরে। পড়ি সিটি কলেজে। প্রতিদিন মতিঝিলে এসে বাস ধরতে হয়। সময় বাঁচাতে এ ঘাট দিয়ে পারাপার হই। এদিক পারাপার না হলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়। তাই সময় বাঁচাতে সহজ পথ এ ঘাট।”

    ব্যবসায়ী সবুজ আহমেদ বলেন, “অল্প সময়ে মতিঝিল যাওয়ার জন্য গুদারা ঘাটের বিকল্প নেই। এ ঘাট ব্যবহার না করে, যদি আমি হেঁটে যাই তবে অনেক ঘুরে যেতে হবে মতিঝিলে। তাই আমার আসা যাওয়ার শটকাট পথ মানেই গুদারাঘাট।”

    বিমা কর্মকর্তা শিখা ও রাশিদা বলেন, “আমরা সময় নষ্ট করি না। সকালে অফিসে যেতে হয়। ওই সময়ে তাড়াহুড়া থাকে। তাই সময় বাঁচাতে আমরা সবসময় এ ঘাট ব্যবহার করি।”

    সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তা শরিফ উদ্দিন বলেন, “আমি চার বছর ধরে এ ঘাট দিয়ে পারাপার হচ্ছি। সময় বাঁচাতে এ ঘাট ব্যবহার করছি।”

    ঘাটের মাঝি দানা মিয়া বলেন, “আমি এখানে ৪৩ বছর ধরে কাজ করছি। সূর্য্য ওঠার পর থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পারাপার করি। সারাবেলা কাজ করে পাঁচ মাঝি। প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা করে কাজ করার সুযোগ পাই আমরা। তারপর সারাদিন যা আয় হয়, সেটা দিনশেষে ১১ ভাগে ভাগ হয়। প্রতিদিন গড়ে সাড়ে তিনশ টাকা পাই। জনপ্রতি পারাপার দুই টাকা।”

    দৈনিক কত লোক পারাপার করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “প্রতিদিন দুই হাজারের বেশি যাত্রী পারাপার করা হয়।”

    ময়লা পানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা মাঝে মাঝে কচুরিপানা পরিস্কার করি। মাঝে মাঝে জীবাণু মারতে ওযুধ ছিটানো হচ্ছে। কিন্তু ঘাটের চারদিক বন্ধ বিধায় ময়লা পানি যাওয়ার রাস্তা নেই।”

    তিনি বলেন, “আমার চার ছেলেমেয়ে লেখাপাড়া করে। বড় ছেলে এবার এসএসসি দেবে। মেঝ ছেলে নবম শ্রেণিতে পড়ে, ছোট ছেলে ও মেয়ে তামান্না ষষ্ঠ শ্রেণিতে। এরা সবাই মতিঝিল এলাকার স্কুলগুলোতে পড়ে। নৌকা চালিয়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ সংসার চালাতে অসম্ভব হয়ে পড়ে। এ জন্য নৌকা চালানোর পর কাঠমিস্ত্রির কাজ করি।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 23 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *