Templates by BIGtheme NET
Home / ছবির হাট / ভুঁইফোড়দের ভারে ন্যুজ আওয়ামী লীগ

ভুঁইফোড়দের ভারে ন্যুজ আওয়ামী লীগ

  • ০৫-০২-২০১৬
  •  

    leage-444_19445

    নিজস্ব প্রতিবেদক:বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ ৬৭ বছরের। এই দীর্ঘ সময়ে প্রায় ১৬ বছরের মত ক্ষমতায় থাকলেও বাকী সময় গৌরবোজ্জ্বল আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস রয়েছে দলটির। এই সময়ের মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষ ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের দলটি হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।
    ১৯৭৫ এর মর্মান্তিক ঘটনার পর ব্যাপক চড়াই-উৎরাই পার হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। পর পর দুবার সরকার গঠনের পরে আওয়ামী লীগের চারপাশে জড় হয়েছে নানা সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম ব্যবহার করে গড়ে উঠেছে শতাধিক সংগঠন। অভিযোগ রয়েছে, এসকল নাম সর্বস্ব সংগঠনের অধিকাংশের নেই কোনো নিবন্ধন, কমিটি, এমনকি কার্যালয়! আবার কিছু সংগঠন রয়েছে গুটিকয় সভা-সেমিনার নির্ভর!
    ইদানিং রাজধানীসহ সারাদেশে এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের দৌরাত্ম্য বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। শুধু রাজধানীতেই এ ধরনের শতাধিক সংগঠনের অপতৎপরতা পাওয়া গেছে অনুসন্ধান করে।
    প্রেসক্লাব, রিপোর্টার্স ইউনিটি, শাহবাগ, শিশু একাডেমী, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটসহ রাজধানীর বিভিন্নস্থানে প্রতিদিনই এসব সংগঠনের একাধিক অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সাইড লাইনে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাসহ দল সমর্থক কিছু ব্যবসায়ী নিয়মিত হাজির হচ্ছেন।
    মিডিয়া কাভারেজ প্রত্যাশী এসব ব্যক্তি যেমন অর্থের বিনিময়ে কর্মসূচিগুলোতে প্রধান কিংবা বিশেষ অতিথি হচ্ছেন, তাদের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজিও চলছে। ‘পদক’ কিংবা ‘সংবর্ধনা’ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে উঠতি কিছু নেতা ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েও ‘পদক বাণিজ্যে’ লিপ্ত কয়েকটি সংগঠন।
    আওয়ামী লীগ সরকারের দুই মেয়াদের সাত বছরের মাথায় ভুঁইফোড় সংগঠন নেতাদের অনেকে বাড়ি-গাড়ির মালিকও হয়ে গেছেন। কারও কারও বিরুদ্ধে কর্মসূচির নামে চাঁদাবাজির পাশাপাশি টেন্ডারবাজিতে জড়িয়ে পড়ারও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন কয়েকটি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এখন ওপেন সিক্রেট। কর্মসূচির আমন্ত্রণপত্রে মন্ত্রী কিংবা নেতার নাম ছাপিয়ে দাবি করা হচ্ছে চাঁদা। সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী কোনো নেতার নাম জুড়ে দিয়ে সহজে চাঁদা আদায়ও করা হচ্ছে।
    অনেকগুলোয় প্যাড ও চিঠিতে সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে আওয়ামী লীগের ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ঠিকানা রয়েছে। এ ব্যাপারে দল থেকেও বাধা আসছে না।
    দলীয় সভাপতি প্র0ধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ের আশপাশেও কয়েকটি সংগঠনের ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে। এ ছাড়া অনেক সংগঠনের কেন্দ্রীয়, মহানগর ও থানা কমিটির নেতার নামে বড় বড় ব্যানার ও পোস্টার টানানো হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে। সংগঠনগুলোর সাইনবোর্ড, ব্যানার-পোস্টারে বঙ্গবন্ধু, প্রধানমন্ত্রী ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবি ব্যবহার হচ্ছে।
    এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেন, “দল ক্ষমতায়, এই সুযোগে কিছু সুযোগ সন্ধানী ব্যক্তি, এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। দলীয় কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিনা? এ প্রশ্নের ব্যাপারে তিনি বলেন এটা কেন্দ্রের ব্যাপার!”
    গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আওয়ামী লীগের সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম নয়টি সংগঠনের বাইরে অন্য কোনো সংগঠনের দলীয় পরিচয় ব্যবহারের সুযোগই নেই। সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও কার্যক্রম পরিচালনায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম ব্যবহারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পূর্বানুমোদনও বাধ্যতামূলক। মুক্তিযুদ্ধের নামে কোনো সংগঠন গড়তে চাইলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের অনুমতি নিতে হয়। ভুঁইফোড় সংগঠনের বেলায় এসব কিছুই মানা হচ্ছে না। তাই সংগঠনের নামকরণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ রাসেল, শেখ কামাল এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম উঠে আসছে অহরহ।
    এ ছাড়া ‘আওয়ামী লীগ’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযোদ্ধা’, ‘স্বাধীনতা’, ‘নৌকা’, ‘জয়বাংলা’ ও ‘প্রজন্ম’সহ নানা শব্দও ব্যবহার হচ্ছে অবাধে। হালে আওয়ামী লীগ সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ স্লোগানের অনুকরণে সংগঠনের নামের আগে ‘ডিজিটাল’ শব্দের ব্যবহারও বেড়েছে।
    বঙ্গবন্ধু নামের সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_বঙ্গবন্ধু প্রজন্ম লীগ, বঙ্গবন্ধু নাগরিক সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু লেখক লীগ, বঙ্গবন্ধু গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও চেতনা গবেষণা পরিষদ, বঙ্গবন্ধু আদর্শ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু শিশু একাডেমি, বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ডিপ্লোমা প্রকৌশলী পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদ, বঙ্গবন্ধু জাতীয় লেখক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, বঙ্গবন্ধু বাস্তুহারা লীগ, বঙ্গবন্ধু আওয়ামী হকার্স ফেডারেশন, বঙ্গবন্ধুর চিন্তাধারা বাস্তবায়ন পরিষদ, চেতনায় মুজিব, আমরা মুজিব সেনা, বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, বঙ্গবন্ধু গ্রাম ডাক্তার পরিষদ প্রভৃতি।
    বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের নামের সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_ রাসেল মেমোরিয়াল একাডেমি, শেখ রাসেল শিশু পরিষদ, শেখ রাসেল শিশু সংসদ, জননেত্রী পরিষদ, দেশরত্ন পরিষদ, বঙ্গমাতা পরিষদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ, ড. এম এ ওয়াজেদ ফাউন্ডেশন প্রভৃতি।
    ‘আওয়ামী’ ‘লীগ’ ও ‘নৌকা’ শব্দ ব্যবহার করে গড়ে তোলা সংগঠনগুলো হচ্ছে_ আওয়ামী তরুণ লীগ, আওয়ামী যুব আইনজীবী পরিষদ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ (চার ভাগে বিভক্ত), আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম লীগ, আওয়ামী হকার্স লীগ, আওয়ামী যুব হকার্স লীগ, আওয়ামী ছিন্নমূল হকার্স লীগ, আওয়ামী সমবায় লীগ, আওয়ামী শিশু যুব সাংস্কৃতিক জোট, আওয়ামী পরিবহন শ্রমিক লীগ, আওয়ামী পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধা লীগ, আওয়ামী তৃণমূল লীগ, ছিন্নমূল মৎস্যজীবী লীগ, রিকশা মালিক লীগ, রিকশা মালিক-শ্রমিক ঐক্য লীগ, রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ, আমরা নৌকা প্রজন্ম, দেশীয় চিকিৎসক লীগ, ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্মচারী লীগ, নৌকা সমর্থক গোষ্ঠী, নৌকার নতুন প্রজন্ম, নৌকার মাঝি শ্রমিক লীগ, ঘাট শ্রমিক লীগ, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী লীগ, ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী লীগ, মৎস্যজীবী লীগ প্রভৃতি।
    মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গড়ে ওঠা সংগঠনগুলোর মধ্যে রয়েছে_ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণমুক্তি আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবার কল্যাণ পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা লীগ, মুক্তিযোদ্ধা তরুণ লীগ, মুক্তিযোদ্ধা জনতা লীগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী, স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি প্রতিরোধ কমিটি, প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী সংগঠন, মুক্তিযুদ্ধ সমাজকল্যাণ যুব সংঘ, জয়বাংলা সাংস্কৃতিক পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা পুনর্বাসন সংস্থা, আমরা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম, স্বাধীনতা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক পরিষদ, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ প্রভৃতি।
    সাম্প্রতিক সময়ে ‘ডিজিটাল’ শব্দযুক্ত কয়েকটি সংগঠন ও নেতাদের নামেও রাজধানীতে ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড দেখা যাচ্ছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে_ ডিজিটাল আওয়ামী লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী প্রজন্ম লীগ, ডিজিটাল আওয়ামী ওলামা লীগ ও ডিজিটাল ছাত্রলীগ।
    (Visited 378 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *