Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / ফুলের সৌরভ নিয়ে সদা প্রস্তুত শাহবাগ songbadprotidinbd.com

ফুলের সৌরভ নিয়ে সদা প্রস্তুত শাহবাগ songbadprotidinbd.com

  • ০২-০১-২০১৭
  • 15682696_1818456711732409_888805045_n20161223124122সংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্ট : ধর্মীয় কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানের সাজ-সজ্জাতেই শুধু নয়, সৌরভ ছড়ানো আর মনকে স্নিগ্ধ করা ফুল জায়গা করে নিয়েছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে। বাসাবাড়ি থেকে অফিস, সবখানেই রয়েছে এর ব্যবহার। ফুল পছন্দ করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া অসম্ভব। আর তাই তো সারা বছরই থাকে ফুলের চাহিদা। রাজধানী ঢাকাতে এ চাহিদা পূরণে যে কয়েকটি জায়গাকে সদা প্রস্তুত থাকতে দেখা যায় শাহবাগ মোড় তার মধ্যে অন্যতম।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের মুখে শাহবাগ মোড় এলাকার ফুটপাতে থরে থরে সাজানো বিভিন্ন ফুলের পসরা নিয়ে বসে আছে অনেকগুলো দোকান। যেসবের মধ্যে রয়েছে রজনীগন্ধা, গাঁদা, জারবেরা, চন্দ্রমল্লিকা, লাল ও সাদা গোলাপ, বেলি, কামিনী, সূর্যমুখী, ডায়মন্ড, স্টারকলি, ডালিয়া ও অর্কিডসহ নাম না জানা অনেক ফুল। প্রায় ৩০ বছর ধরে শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো রাজধানীবাসীর চাহিদার যোগান দিয়ে আসছে।

    বিয়ের গাড়ি সাজানো, গায়েহলুদ, বাসরঘর, জনসভা, অনুষ্ঠানে মাল্যদান, পুজাসহ যেকোনো অনুষ্ঠানের জন্য ফুল পাওয়া যায় শাহবাগে। দোকানে থাকা অ্যালবাম এবং ল্যাপটপ থেকে ছবি দেখে ক্রেতারা তাদের পছন্দের ডিজাইন বাছাই করে ফুলে ফুলে সাজিয়ে নেন তাদের গাড়ি।

    কথা হয় নিউ কণক চাঁপার জুয়েলের সঙ্গে। তিনি সংবাদ প্রতিদিন বিডি কে বলেন, “ব্যবসা মোটামুটি ভালো যাচ্ছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস ও অন্যান্য দিবসের সময় আমাদের ব্যবসা চাঙা হয়। তবে বছরের সব সময় আমরা কমবেশি ফুল বিক্রি করি।”

    আলাউদ্দিন পুষ্পালয়ের আবু জাফর বলেন, “ভাই এখন তো ফুলের ব্যবসার মৌসুম। শীতকালে বিয়ে, গায়ে হলুদ, নানান সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা ইত্যাদি বেশি থাকে বলে এই সময় ফুলের চাহিদাও বেশি থাকে। এই সময় ফুলের উৎপাদনও বেশি হয়, আর বিক্রিও বেশি হয়।”

    এসব ফুল কোথা থেকে আসে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যশোর, সাভার, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, চুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইলসহ দেশের অনেক জেলা থেকে আমাদের ফুল আসে। বাগানের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে, টাকা পাঠালেই তারা ফুল পাঠিয়ে দেয়।”

    ব্যবসা কেমন চলছে এমন প্রশ্নের জবাবে মালঞ্চ পুষ্প কেন্দ্রের আল আমিন বলেন, “সকাল বেলা আমাদের বিক্রিটা বেশি হয়। আর বিকেলে বেশি হয় অর্ডার। আমাদের কাছে অর্ডার দিলে আমরা রাজধানীর যেকোনো জায়গায় ক্রেতাদের চাহিদামাফিক ফুল পৌঁছে দেই। তবে আমাদের যদি সরকার কাটাবনের মতো একটা স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে সুবিধা হতো। ট্রেড লাইসেন্স না থাকায় নতুন কাস্টমাররা অর্ডার দিতে অনেক সময় শঙ্কা প্রকাশ করেন।”

    শাহবাগ পুষ্প কাননের সিরাজুল ইসলাম সংবাদ প্রতিদিন বিডি কে বলেন, “আমরা মোটামুটি ৫/৬ বছর থেকে অ্যালবামের পাশাপাশি ল্যাপটপ ব্যবহার করে থাকি। কাস্টমারকে অ্যালবামে দেখাতে গেলে বেশি সময় লাগে আর ল্যাপটপে তাড়াতাড়ি হয়। তাছাড়া অর্ডারের কাজে অনেক সময় বাসায় গেলে এতো অ্যালবাম নিয়ে যাওয়া মুশকিল তাই ল্যাপটপই ভরসা।”

    এখানে ফুল কিনতে এসেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী। ফুল কেনার কারণ জিজ্ঞাসা করতেই একজন হেসে জবাব দিলেন, “আজ আমাদের এক বন্ধুর জন্মদিন। আমরা সব বন্ধুরা মিলে এটি পালন করছি। তাই ফুল কিনতে আসা।”

    এখানে ফুল কিনতে এসেছেন একটি বেসরকারি ব্যংকের কর্মচারী হায়দার আলী। তিনি বলেন, “আমাদের ব্যাংকে আজ একটা অনুষ্ঠান আছে। বড় বড় স্যাররা আসবে। ফুল না হলে এই রকম একটা অনুষ্ঠান কীভাবে হয়। তাই আমাকে অফিস থেকে ফুল কিনতে পাঠিয়েছে।”

    নাগরিক জীবনের শত ব্যস্ততার মধ্যে ফুলে ফুলে ভরে যাক সবার জীবন। প্রতিটি মানুষের মনে ছড়াক ফুলের সৌরভ।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ কামাল হোসেন 

    (Visited 27 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *