Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / কবি আহসান হাবীবের জন্মশত বার্ষিকী আজ

কবি আহসান হাবীবের জন্মশত বার্ষিকী আজ

  • ০২-০১-২০১৭
  • image-13674সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ অনেকটা নীরবেই পালিত হচ্ছে বাংলাদেশের খ্যাতিমান কবি ও সাহিত্যিক আহসান হাবীবের জন্ম শতবার্ষিকী। অথচ দীর্ঘদিন দৈনিক বাংলা পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক পদের দায়িত্ব পালন সূত্রে তিনি স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সাহিত্য অঙ্গনে অভিভাবকের ভূমিকা রেখেছেন। এখানেই শেষ নয়, তিনি চল্লিশের দশকের অন্যতম প্রধান আধুনিক কবি হিসেবে পরিগণিত।

    আহসান হাবীবের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি পিরোজপুরের শংকরপাশা গ্রামে৷ বাবার নাম হামিজুদ্দীন হাওলাদার। মাতা জমিলা খাতুন। তাঁর পাঁচ ভাই ও চার বোন৷ অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল পিতামাতার প্রথম সন্তান তিনি৷ পারিবারিকভাবে আহসান হাবীব সাহিত্য সংস্কৃতির আবহের মধ্যে বড় হয়েছেন। সেই সূত্রে বাল্যকাল থেকেই লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। সেইসময় তাঁর বাড়িতে ছিল আধুনিক সাহিত্যের বইপত্র ও কিছু পুঁথি। যেমন আনোয়ারা, মনোয়ারা, মিলন মন্দির প্রভৃতি৷ এসব পড়তে পড়তে একসময় নিজেই কিছু লেখার তাগিদ অনুভব করেন। সাহিত্যের অনুকূল পরিবেশ নিয়ে পিরোজপুর গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ১৯৩৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি চলে আসেন বরিশালে৷ ভর্তি হন সেখানকার বিখ্যাত বিএম কলেজে৷ কিন্তু অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কলেজের পড়াশোনার পাঠ শেষ পর্যন্ত অসমাপ্ত রাখতে হয় তাঁকে। বিএম কলেজে দেড় বছর পড়ার পর ১৯৩৬ সালের শেষার্ধে কাজের খোঁজে তিনি রাজধানী কলকাতায় পাড়ি জমান৷ এভাবেই কবি আহসান হাবীবের বরিশাল থেকে তৎকালীন রাজধানী কলকাতায় পদার্পণ।

    আহসান হাবীব ১৯৪৭ সালের ২১ জুন বিয়ে করেন বগুড়া শহরের কাটনারপাড়া নিবাসী মহসীন আলী মিয়ার কন্যা সুফিয়া খাতুনকে। আহসান হাবীব দুই মেয়ে (কেয়া চৌধুরী ও জোহরা নাসরীন) ও দুই ছেলের (মঈনুল আহসান সাবের ও মনজুরুল আহসান জাবের) জনক ছিলেন। উল্লেখ্য, মঈনুল আহসান সাবের একজন স্বনামখ্যাত বাংলা ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।

    কাব্যগ্রন্থ, বড়দের উপন্যাস, গল্প, প্রবন্ধ-নিবন্ধ, ছোটদের ছড়া ও কবিতার বই সব মিলিয়ে আহসান হাবীবের বইয়ের সংখ্যা ২৫টি। তার কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে রাত্রিশেষ (১৯৪৮), ছায়াহরিণ (১৯৬২), সারা দুপুর (১৯৬৪), আশায় বসতি (১৯৭৪), মেঘ বলে চৈত্রে যাবো (১৯৭৬), দু’হাতে দুই আদিম পাথর (১৯৮০), প্রেমের কবিতা (১৯৮১), বিদীর্ণ দর্পণে মুখ (১৯৮৫)। উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে রাণী খালের সাঁকো (১৯৬৫), আরণ্য নীলিমা (১৯৬২), জাফরানী রং পায়রা। তার শিশু সাহিত্য হচ্ছে জোছনা রাতের গল্প, ছুটির দিন দুপুরে, বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর, ছুটির দিন দুপুরে, রেলগাড়ি ঝমাঝম, জোৎসনা রাতের গল্প, ছোট মামা দি গ্রেট, পাখিরা ফিরে আসে, রত্নদ্বীপ (ট্রেজার আইল্যান্ডর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ), হাজীবাবা

    প্রবাল দ্বীপে অভিযান (কোরাল আইল্যান্ডর সংক্ষিপ্ত অনুবাদ)

    এই বিদগ্ধ কবি ইউনেস্কো সাহিত্য পুরস্কার ও একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী পুরস্কার (১৯৬৪), নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৭৮), আবুল মনসুর আহমদ স্মৃতি পুরস্কার (১৯৮০), স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ সেলিম খান 

    (Visited 18 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *