Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / পিঠায় সংসার চলে মোজেদার

পিঠায় সংসার চলে মোজেদার

  • ১৪-১২-২০১৬
  • 15403041_1809311289313618_1117470434_n20161209162918সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক : রাজধানীতে শীত জাঁকিয়ে বসার এখনো বাকি। কিন্তু এ ঋতুর সবচেয়ে বড় যে আকর্ষণ সেই শীতের পিঠা কিন্তু এরই মধ্যে নিজের রাজত্ব দখলে নিয়েছে। নগরীর অভিজাত এলাকা থেকে ফুটপাত, সবখানেই জমজমাট হয়ে উঠেছে মৌসুমী পিঠার ব্যবসা। হরেক রকম পিঠার স্বাদ নিতে দোকানগুলোতে ভিড় করছেন নগরবাসী।

    রাজধানীর ব্যস্ততম জায়গা কারওয়ান বাজারের পেট্রোবাংলা ভবনের সামনে পিঠা বিক্রি করেন পঞ্চাশোর্ধ মোজেদা বেগম। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সামনে থাকা পাঁচটি চুলায় বানাচ্ছেন চিতই পিঠা আর গরম পানিভর্তি হাড়ির ওপরে তা দিয়ে বানাচ্ছেন ভাপা পিঠা। এসব পিঠা বিক্রিও হচ্ছে দেদারসে। অনেকে এখানে খাচ্ছেন, আবার নিয়েও যাচ্ছেন বাসার জন্য।

    পিঠা বানাতে বানাতে মোজেদা বেগম বলেন, “প্রায় ২০ বছর থেকে এখানে শীতের সময় এ ব্যবসা করি। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ পিঠা খাইতে আসে। বছরের ছয় মাস এ ব্যবসা করি আর ছয় মাস বাজারে (কারওয়ান বাজার) সবজি বেচি। তবে শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রিও বাড়তে থাকে। প্রতিদিন ৩টার দিকে দোকান নিয়ে বসি। রাত ১২টা/১টা পর্যন্ত বিক্রি চলে।”

    এসব কথা বলার ফাঁকে ফাঁকেই পিঠা বানানোর কাজ চালিয়ে যেতে থাকেন মোজেদা বেগম। তিনি বলেন, “আমি চিতই পিঠা ৫ টাকা আর ভাপা পিঠা ১০ টাকা করে বিক্রি করি। এগলাতো ওইসব দোকানে (বড় দোকান) অনেক টাকা দামে বিক্রি করে। আমরা ফুটপাত এলাকায় কম লাভে বেশি বিক্রি করি।”

    তার এখানে পিঠা খাওয়ার জন্য শুটকি, সর্ষেবাটা, ধনেপাতা, কালোজিরা, বেগুন এবং টমেটোর ভর্তা পাওয়া যায়। এতো ভর্তা কীভাবে করেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এতোখানি ভর্তা হাতে তো করা যায় না। মেশিনে ভর্তা করি। আগে তো হাতে ভর্তা করতাম। এখন মেশিন হয়ে অনেক সুবিধা হইছে। পিঠার জন্য চালও মেশিনে ভাঙি।”

    প্রতিদিন ১০/১২ কেজি চালের পিঠা বিক্রি করেন মোজেদা বেগম। এ দিয়েই চলে তার সংসার।

    এ দোকানেই একসঙ্গে পিঠা খাচ্ছিলেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তিনজন। তাদের মধ্যে প্রিন্স নামে একজন বলেন, “শীতে বাড়িতে থাকলে প্রায়ই পিঠা খাওয়া হয়। ঢাকায় মেসে থাকি। এখানে পিঠা বানিয়ে খাওয়াবে কে? তাই সুযোগ পেলেই বাহিরের দোকান থেকে পিঠা কিনে খাই।”

    এই গ্রুপেরই আর একজন শান্ত বলেন, “এসব দোকানের ভর্তার স্বাদ অনন্য। এসব ভর্তা আপনি বাড়িতেও পাবেন না। চিতই পিঠার সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের এসব ভর্তা খাওয়ার মজাই আলাদা।”

    কথা হয় বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা অনিক হোসেনের সঙ্গে। পিঠা খাওয়ার পর অনেকগুলো প্যাক করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, “বাসায় পিঠা বানানোর ঝামেলা অনেক। তাছাড়া আমরা দুজনই চাকরি করি। পিঠা বানানোর সময় কোথায়? আর এখানকার তৈরি পিঠার মান খারাপ না। সঙ্গে ভর্তাটাও পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে ভলই।”

    মাথার উপর আলো ছড়ানো সড়কবাতির নিচে মোজেদা বেগমের চুলা জ্বলতে থাকে। পিঠাপ্রিয় মানুষ আসে, পিঠা খেয়ে বাড়ি ফিরে যায় হাসিমুখে আর মোজেদা বেগমের চুলা তখনো জ্বলতেই থাকে।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ মিনহায আলামিন 

    (Visited 28 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *