Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / মা হলেন টেস্ট টিউব বেবি

মা হলেন টেস্ট টিউব বেবি

  • ০৯-০৩-২০১৬
  • ৩০ বছর আগে ভারতের মুম্বাই শহরের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন হর্ষ চাওডা। এবার আরো একটি ইতিহাস সৃষ্টি করলেন তিনি। সোমবার নিজেই একটি সন্তান জন্ম দিয়েছেন এই টেস্ট টিউব বেবি।

    ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য হিন্দু জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৬ মিনিটে মুম্বাইয়ের জাসলক হাসপাতালে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন হর্ষ।

    ১৯৮৬ সালে ‘ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন’ পদ্ধতিতে জন্ম হয় হর্ষের। তিনিই মুম্বইয়ের প্রথম টেস্ট টিউব বেবি। তার জন্মের পর থেকে টেস্ট টিউব বেবি সম্বন্ধে মানুষের ধারণা বদলে যেতে থাকে। হর্ষকে সুস্থভাবে জন্মাতে দেখে অনেক মহিলাই পরে এই পদ্ধতিতে মা হয়েছেন। এটা এখন পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে যে টেস্ট টিউব বেবিরাও অন্য বাচ্চাদের মতো সুস্থ স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে এবং স্বাভাবিক পদ্ধতিতেই মা হতে পারেন।

    উচ্ছ্বসিত হর্ষ বলেন, ’শিবরাত্রির দিন ও জন্মেছে। ও আমার জন্য আশীর্বাদ। কতটা আনন্দ হচ্ছে বলে বোঝাতে পারব না।’ গর্ভধারনের জন্য হর্ষাকে আলাদা করে কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে হয়নি বলে জানিয়েছেন তার স্বামী।

    হর্ষকে জগতের আলো দেখানো মহিলা চিকিৎসক ডাক্তার ইন্দিরা হিন্দুজা বলেন, ‘হর্ষ মা হওয়ার সঙ্গেই যেন চোখের সামনে জীবনচক্র পরিপূর্ণ হতে দেখলাম। হর্ষর পর এই চিকিৎসক দল আরো ১৫ হাজার টেস্ট টিউব বেবির জন্ম দিয়েছে। মা হয়ে হর্ষ দুনিয়ার কাছে উদাহরণ তৈরি করলেন যে ব্যতিক্রমীভাবে জন্মেও স্বাভাবিক নিয়মেই মা হওয়া যায়।’ সিজারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন হর্ষা এবং তার শিশু সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসকরা।

    উল্লেখ্য, টেস্টটিউব বেবি হচ্ছে বন্ধ্যাত্বের চিকিত্সায় সর্বজন স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে বের করে আনা হয়। তারপর সেটিকে প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়। একই সময়ে স্বামীর অসংখ্য শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা থেকে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বেছে নেয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শুক্রাণু।

    তারপর অসংখ্য সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল শুক্রাণুকে নিষিক্তকরণের লক্ষ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় ডিম্বাণুর পেট্রিডিশে। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর এই পেট্রিডিশটিকে সংরক্ষণ করা হয় মাতৃগর্ভের অনুরূপ পরিবেশের একটি ইনকিউবিটরে। ইনকিউবিটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরই বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রূণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রূণ সৃষ্টির পর সেটিকে একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। জরায়ুতে ভ্রূণ সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরই তা চূড়ান্তভাবে বিকাশ লাভের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে।

    (Visited 47 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *