Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / তিন গুণ কম দামে পেট ভরানোর রেস্তোরাঁ

তিন গুণ কম দামে পেট ভরানোর রেস্তোরাঁ

  • ০৬-১২-২০১৬
  • res220161203202251সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদক : রাজধানীর সেগুন বাগিচায় রাস্তা দিয়ে হাঁটতে গেলে চোখে পড়ে ফুটপাতে গড়ে ওঠা কিছু ভাসমান রেস্তোরাঁ। যেখানে রয়েছে ভাত, ডাল, হরেক রকম ভর্তা, সবজি, ডিম, মাছ, মাংসসহ নানা খাবারের আয়োজন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনের মেইন গেটের পাশে এসব রেস্তোরাঁয় বিত্তবানদের দেখা না গেলেও নিম্ন বা স্বল্প আয়ের মানুষদের ভিড় দেখা যায়।

    স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্যই মূলত গড়ে উঠেছে এসব ভাসমান রেস্তোরাঁ। প্রতিদিন ভোর ৭টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এসব দোকানে সস্তায় খাবার পাওয়া যায়। মোটামুটি মানে একটি রেস্তোরাঁয় মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেতে একশ’ বিশ টাকার কমে হয় না। কিন্তু এসব রেস্তোরাঁয় তা পাওয়া যায় মাত্র ৪০ টাকায়। আর মুরগির মাংস-ভাত খেলে সঙ্গে ডাল ফ্রি।

    রুটি রুজির জন্য প্রতিদিনই স্বল্প আয়ের যারা ঢাকায় আসেন। অথবা আশপাশে প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন, তারা এসব রোস্তারাঁর নিয়মিত খদ্দের। কারণ খাবার যেমন সস্তা তেমনি দোকানির আন্তরিকতাও ভালো।

    এবিআর ফুটপাতে একটি রেস্তোরাঁর মালিক মনির হোসেন বলেন, “আমার এখানে নিম্ন আয়ের লোকজন বেশি আসে। এদের মধ্যে রযেছে দিন মজুর, অফিসের ৩য়-৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী, রিকশা, ভ্যান, গাড়িচালক। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত আমার দোকান খোলা থাকে। সারাদিনে প্রায় সাড়ে চারশ’ মানুষ এখানে খাবার খায়। সস্তায় খাবার বিক্রি করি, এ জন্য লাভ খুবই সীমিত।

    তিনি আরও বলেন, “আমার দোকানে ৬ জন কাজ করে। তাদের প্রতিদিনের মোট বেতন আড়াই হাজার টাকা। খাবারও দিতে হয়। মাসে ১৮-২০ হাজার টাকা আয় হয়।

    একই রেস্তোরাঁর কর্মচারী সালাম বলেন, “এখানে খাবারের মান ভালো। আমরা বাবুর্চি দিয়ে রান্না করাই। আমাদের এখানে ভাত ফুল প্লেট ১০ টাকা, ডিম তরকারি ২০ টাকা, পাঙ্গাস মাছ ২৫ টাকা, রুই মাছ ৩০ টাকা, মুরগির মাংস ৩০ টাকা, গরু ৬০ টাকা, সবজি ৫ টাকা, ভর্তা ৫ টাকা ও ডাল ৫ টাকা।

    ওই রেস্তোরাঁয় খেতে আসা রিকশাচালক আনোয়ার বলেন, “মাত্র ৪০ টাকায় পেট ভরে খাওয়া যায় বলেই এখানে আসি।

    আরেক রেস্তোরাঁর মালিক খলিল জানান, ফুটপাতের হোটেলে অন্যসব হোটেলের চেয়ে লাভ কম হয়। কারণ এখানে কম আয়ের লোকজন খেতে আসেন। সব খরচ মিটিয়ে বেশি লাভ থাকে না।

    একই দোকানের কর্মচারী আতিকুল জানান, তারা চারজন সেখানে কাজ করেন। দিনে চারশ টাকার মতো মাইনে পান। সঙ্গে তিনবেলা খাবার ফ্রি।

    ভ্যান চালক আইনুউদ্দিন জানান, রক্ত পানি করা টাকা দিয়ে অযথা বেশি দামের খাবার তিনি খেতে চান না। তাই কম দামের এই দোকানেই তিনি খেতে আসেন।

    পাশের একটি অফিসের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী আমজাদ। তিনি বলেন, “পরিবার গ্রামে থাকে। যে আয় করি তার অর্ধেক টাকা সেখানে পাঠাতে হয়। কষ্ট করে চলি। তাই এখানেই খেতে আসি।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *