Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফিচার / কড়া নাড়ছে শীত, ডাকছে রাঙামাটি

কড়া নাড়ছে শীত, ডাকছে রাঙামাটি

  • ০১-১২-২০১৬
  • ranbg20161130122812রাঙামাটি প্রতিনিধি : আমাদের দেশে ভ্রমণকারীরা সাধারণত শীতেই বেড়াতে বেশি স্বাচ্ছন্দবোধ করেন। অবশ্য এর পক্ষে যথেষ্ট যুক্তিও আছে। আপনিও যদি তেমনই একজন ভ্রমণকারীর মতো হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চয়ই এবারের শীতে কোথাও বেড়াতে যাবার কথা ভাবছেন! কোথায় যাবেন, সৈকত না পাহাড়, নাকি অরণ্যভূমি সুন্দরবন?

    যদি পাহাড়কে বেছে নেন, তাহলে নিশ্চিন্তে ঘুরে আসতে পারেন রাঙামাটি। যেখানে আছে হ্রদ-পাহাড় পর্বত, ঝর্ণা, সংষ্কৃতি ও প্রকৃতির কত সাদৃশ্য।

    দর্শনীয় স্থান সমূহ

    সুবলং ঝরনা: রাঙামাটির অন্যতম সুন্দর দর্শনীয় স্থান এটি। চমৎকার একটি জলপ্রপাত এ স্থানকে দিয়েছে ভিন্ন একটি সৌন্দর্য। রাঙামাটি শহর থেকে ২০-২২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মনোরম এ ঝরনাটি। এ ঝর্নার রূপ আপনাকে মোটেও আশাহত করবে না। ঝর্ণাস্নান কিংবা দর্শন শেষে আপনি সামনে এগিয়ে গেলে পাবেন সুবলং বাজার। হ্রদের তীরে অবস্থিত স্থানীয় এ বাজারে আছে একটি সেনা ক্যাম্প। বাজারটি একেবারে ছোট নয়।

    এখানকার খাবার বেশ সুস্বাদু। দুপুরের খাবারটি চাইলে সেখানে সেরে নিতে পারবেন।

    চাকমা রাজবাড়ি

    রাঙামাটি শহরেই অবস্থিত চাকমা রাজবাড়ি। চাকমা সার্কেল চিফ রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় ও তার মা রানী আরতি রায় এ রাজবাড়িতে থাকেন বর্তমানে। চারদিকে হ্রদে পূর্ণ এই রাজবাড়ি পুরনো হলেও দেখতে ও বেড়াতে ভীষণ ভালই লাগবে। রাজবাড়ীর পাশেই আদিবাসী নারীরা তাদের হাতে বোনা বস্ত্র সম্ভার নিয়ে বসে থাকে বিকিকিনির জন্য। এসব পণ্য আপনার প্রয়োজনের পাশাপাশি মেটাবে রুচির তৃষ্ণা।

    রাজবন বিহার

    রাজবাড়ির পাশেই আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন এ বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটি অবস্থিত। এখানে অবস্থান করেছিলেন বৌদ্ধ আর্য পুরুষ শ্রাবক বুদ্ধু সর্বজন পূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তে। এ বৌদ্ধ বিহারে প্রত্যেক বছর কঠিন চীবর দানোৎসবে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। এছাড়া প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী ও পুণ্যার্থীর ভিড়ে মুখরিত থাকে বিহারটি। এটি বর্তমানে বাংলাদেশের প্রধান বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বেশ কয়েকটি বৌদ্ধ মন্দির, বিশ্রামাগার, হাসপাতাল ও বটবৃক্ষসহ সেখানে অনেক কিছুই আছে দেখার মতো।

    ঝুলন্ত ব্রিজ ও পর্যটন মোটেল

    রাঙামাটি শহরের শেষ প্রান্তে কাপ্তাই হ্রদের তীর ঘেঁষে অবস্থিত সরকারি পর্যটন মোটেল। পর্যটকদের জন্য খুবই দৃষ্টিকাড়া ও আকর্ষণীয় স্থান এটি। পর্যটন মোটেলেই অবস্থিত ঝুলন্ত ব্রিজটি, যা পর্যটন এলাকাকে আরও বেশি সুন্দর ও দৃষ্টিনন্দিত করে তুলেছে। সহজেই পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে এটি। পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ এবং এর নির্মাণ শৈলির কারণে ঝুলন্ত ব্রিজটি আজ রাঙামাটির নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    পেদা টিং টিং

    কাপ্তাই হ্রদের চারদিকে কেবল পাহাড় আর হ্রদ, যেন প্রকৃতির মাঝে আপনি এক আগুন্তক মাত্র। বুনো প্রকৃতি ছাড়া আর কিছুই আশা করা যায় না এখানে। কিন্তু আপনি অবাক হবেন যখন চলতি পথে কোনো একটি টিলার উপর দেখবেন ‘পেদা টিং টিং’। এমন এক পরিবেশে যেখানে আপনি এক গ্লাস পানি পাবেন না, সেখানে পেদা টিং টিং আপনার জন্য চা, কফি আর চিকেন ফ্রাই নিয়ে অপেক্ষা করছে।

    সত্যিই হতবাক করার মতো ব্যাপার। পেদা টিং টিং একটা চাকমা শব্দগুচ্ছ, যার অর্থ হচ্ছে পেট টান টান। অর্থাৎ মারাত্মকভাবে খাওয়ার পর পেটের যে টান টান অবস্থা থাকে, সেটাকেই বলা হয় পেদা টিং টিং।

    ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাদুঘর

    রাঙামাটি শহরের প্রধান রাস্তার পাশেই এ জাদুঘরটি স্থাপিত হয়েছে। আদিবাসীদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি, জীবনধারার নানান নিদর্শন ও ব্যবহারের জিনিসপত্র এখানে রাখা হয়েছে।

    তবলছড়ি চাকমা বাজার

    রাঙামাটি শহরে এটি হলো একটি প্রধান আদিবাসী বাজার। সপ্তাহে বুধ এবং শনিবার এ বাজার বসে। আদিবাসী কিশোর-কিশোরী, নারী এবং পুরুষরা এখানে আসে নানা ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে। পাহাড়ি মানুষের সঙ্গে মেশার এবং কথা বলার এ হলো আপনার জন্য চমৎকার সুযোগ।

    কাসালং

    জলপথে যেতে হয় কাসালং। রাঙামাটির রিজার্ভ বাজার থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টায় কাসালংয়ের উদ্দেশে লঞ্চ ছেড়ে যায়। লঞ্চে যেতে যেতে নদীর দুই পাশের দৃশ্যাবলিও আপনাকে পুলকিত করবে। কাসালংয়ে ছোট-বড় বেশ কটি ঝরনা আছে। এসব ঝরনার শব্দ আপনার কানে বৃষ্টির শব্দের মতো অনুভূত হবে।

    আসামবস্তি সেতু

    এটি রাঙামাটিস্থ সব চেয়ে দীর্ঘ সেতু। এটি আসামবস্তি এলাকায় অবস্থিত। রাঙামাটি থেকে কাপ্তাই যাওয়ার সময় এ সেতু পাড়ি দিতে হয়। প্রতিদিন বিকেল বেলায় প্রচুর পর্যটক ও শরণার্থীর সমাগম ঘটে। পাশাপাশি এখন ব্রাহ্মণটিলা সেতুটিতে প্রচুর সমাগম হচ্ছে।

    কিভাবে যাবেন

    ঢাকা থেকে রাঙামাটি পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস চালু আছে। ঢাকা থেকে বেশ কয়েকটি বাস প্রতিদিন ছেড়ে যায় রাঙামাটির উদ্দেশে। শ্যামলী, সায়েদাবাদ, কলাবাগান থেকে প্রতিদিনই এস.আলম, ইউনিক, শ্যামলী, ডলফিন ও বিআরটিসি সার্ভিস বাসগুলো ছাড়ে। এগুলোর মাধ্যমে সরাসরি চলে আসতে পারেন রাঙামাটি (ভাড়া ৬৫০-৯৫০ টাকা)।

    অথবা ঢাকা বা অন্য জেলা থেকে ট্রেনে কিংবা বিমানে করে যেতে পারেন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হতে বিআরটিসি, পাহাড়িকা, দ্রুতযান সার্ভিস আছে রাঙামাটি পর্যন্ত। ভাড়া ১০০-১৮০ টাকা। সেগুলোর মাধ্যমেও পৌঁছতে পারেন রাঙামাটি। তবে সরাসরি বাস সার্ভিসই ঝামেলাহীন ও ঝুঁকিমুক্ত।

    কোথায় থাকবেন

    থাকার জন্য রাঙামাটিতে অনেকগুলো হোটেল ও গেস্টহাউস আছে। তাছাড়া আরো কিছু বোর্ডিং পাওয়া যায় থাকার জন্য। বোর্ডিংগুলোতে খরচ কিছুটা কম হলেও থাকার জন্য খুব একটা সুবিধার নয়। হোটেল ভাড়া ৫০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। নরমাল ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত দুটোই উপভোগ করা যাবে।

    উচ্চমানের হোটেল

    হোটেল সুফিয়া ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সাংহাই ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল প্রিন্স, হোটেল গ্রীন ক্যাসেল, হোটেল নাদিসা ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল নিডস হিল ভিউ, পর্যটন হলিডে কমপেক্স, হোটেল ডিগনিটি ও পর্যটন মোটেলসহ ইত্যাদি।

    মধ্যম মানের হোটেল

    হোটেল আলমোবা, হোটেল ড্রিমওয়ে, হোটেল ডি-মারিনা, হোটেল লেকসিটি, হোটেল সৈকত, হোটেল আনিকা, হোটেল শাপলা, হোটেল শুকতারা, হোটেল আল-হেলাল, হোটেল পাহাড়িকা ও হোটেল রাজুসহ আরও অনেক।

    খাবার-দাবার

    উচ্চমানের হোটেলগুলোর বেশির ভাগই রেস্ট্রুরেন্টসহ। তবে অন্য হোটেলগুলোর মধ্যে সবকটির আশে-পাশেই খাওয়ার রেস্ট্রুরেন্ট আছে। চিন্তিত হওয়ার কারণ নেই। তবে সেখানে স্পেশাল কিছু রেসিপি পাওয়া যায়।

    সুবিধা এবং অসুবিধা

    রাঙামাটি শহরে মোটেই যানজট হয় না। কাজেই স্বস্তিতে ঘোরাফেরা করতে পারবেন। এখানে চিনতার বিষয়টি একদমই কম। দিনে ও রাতে ঘুরতে পারবেন নিশ্চিন্তে।

    শহরে টেক্সি ভাড়াটা অন্যান্য শহরের তুলনায় একটু বেশি। তবে যাতায়াতের জন্য একমাত্র পাবলিক জার্নি হিসেবে টেক্সিটাই উপায়। ভাড়া বনরুপা থেকে রিজার্ভবাজার কিংবা তবলছড়িতে ১২ টাকা। তবলছড়ি থেকে রিজার্ভ বাজার ও বনরুপায় একই ভাড়া। আবার রিজার্ভবাজার থেকে তবলছড়ি কিংবা বনরুপায় একই ভাড়া। বনরুপা থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত ১০ টাকা।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ সাফায়েত হোসেন 

    (Visited 103 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *