Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / আন্তর্জাতিক / নির্বাচনে নারীদের অর্জন কতটা পরিবর্তন আনবে ইরানে?

নির্বাচনে নারীদের অর্জন কতটা পরিবর্তন আনবে ইরানে?

  • ০৪-০৩-২০১৬
  • 144hghইরানে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দেশটির সংসদ নির্বাচনের প্রথম দফা ভোট। নানা কারণে এবারের নির্বাচনটি ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছয় বিশ্ব শক্তির সাথে দেশটির পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এটাই ইরানের প্রথম নির্বাচন। প্রথম ধাপের ফলাফলে দেখা গেছে, এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে সংস্কারবাদীরা। নির্বাচনটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীপ্রার্থী জয় পেয়েছে এবার। অথচ খুব বেশিদিন আগেও এমন অবস্থা ছিল না ইরানের।

    ২০১৪ সালের কথা। ইরানে তখন একটি ভলিবল টুর্নামেন্ট চলছিল। ওই টুর্নামেন্ট নিয়ে দেশটির বর্তমান একজন নারী সাংসদ ফাতেমা আলিয়া মন্তব্য করেছিলেন, নারীদের ঘরের বাইরে এসে এ ধরনের খেলা দেখা নিষিদ্ধ করা উচিত। তার মত ছিল, নারীদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত বাড়িতে অবস্থান করা এবং স্বামী-সন্তানদের দেখাশুনা করা। বিষয়টি তখন ব্যাপক আলোচনা আর সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।

    সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হওয়া ইরানের নির্বাচনের প্রথম ধাপের ফলাফলে দেখা গেছে, রক্ষণশীল সাংসদ আলিয়ার ওই মন্তব্যটিই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবারের নির্বাচনে ভোটাররা আর তাকে ভোট দেয়নি। ফলে নির্বাচিতও হতে পারেননি তিনি। বরং এর বিপরীতে আলিয়ার জেলা থেকেই সংস্কারবাদী দলের আট নারী নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে আছেন ৩০ বছর বয়সী ফাতেমেহ হোসেনি। তার নির্বাচনী প্রচারণার মূল বিষয় ছিল ইরানের অর্থনৈতিক সংস্কার।

    ইরানের সরকারি এক সরকারি তথ্যমতে, দেশটিতে সাম্প্রতিক নির্বাচনে মোট ১৪ নারী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। এরা সবাই সংস্কারপন্থী দলের। গত নির্বাচনে এই সংখ্যা ছিল নয়জন। এর মধ্যে সংস্কারপন্থী এবং রক্ষণশীল- উভয় দলের নারীই ছিলেন। এছাড়া আগামী এপ্রিলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফা নির্বাচনে এগিয়ে রয়েছে আরো সাত নারী। সব মিলিয়ে ধারণা করা যেতে পারে, ইরানের নির্বাচনে মোট ২১টি আসনে জয় পেতে যাচ্ছে নারীরা। দেশটির ইতিহাসে নির্বাচনে নারীদের বিজয়ের এই সংখ্যাটাই সর্বোচ্চ।

    বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের মতো দেশে নির্বাচনে নারীদের এ বিজয় প্রমাণ করে, দেশটি এগিয়ে যাচ্ছে। যদিও নারী অধিকার সংগঠনগুলোর দাবি অনুসারে, নারীদের ৩০ শতাংশ আসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে তেহরানভিত্তিক একটি গণমাধ্যমের এক নারী সাংবাদিক ফাতেমা করিম খান বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে সেখানে (সংসদে) নারীরা আছে। এটা তাদের সংসদে কথা বলার একটি সুযোগ।’

    এছাড়া রাজধানী তেহরানের ৩০টি আসনের সবকটিতে সংস্কারপন্থীরা জয়লাভ করেছে। তবে একক সংখ্যগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে তারা। কারণ তেহরানের বাইরের আসনগুলোতে রক্ষণশীলরা ভালো করেছে। এদিকে দ্বিতীয় দফায় আগামী এপ্রিলে আরো ৬৪টি আসনে নির্বাচন হবে।

    ইরানের মোট আট কোটি ১৮ লাখ জনগণের ৪৯ শতাংশই নারী। তবে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৬ হাজার ২২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে নারীর সংখ্যা মাত্র ৫৮৬ জন, যা মোট অনুপাতে ৯.৪ শতাংশ। করিম খান বলেন, নারীদের এই বিজয় সত্ত্বেও এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় না যে আগের বারের মতো সংসদে রক্ষণশীলদের আধিপত্য থাকবে না। এটা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে, তারা (নারী সাংসদ) কী করতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘আমি খুব বেশি আশাবাদি না। তাদের বেশিরভাগই যুবতী। অনেকের স্পষ্ট কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই। তাই সম্ভবত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে, সামনে কী হয় তা দেখার জন্য।’ সাম্প্রতিক এই নির্বাচনে জয়ী ২৯ বছরের জাহারা সায়েদি ১০ জন পুরুষ প্রার্থীকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন। করিম খানের মতে, সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হচ্ছে, আগামী সংসদে সংস্কারন্থীরা ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে।

    তেহরানে জন্ম নেয়া ইরানী-মার্কিন সাংবাদিক নিগার মোর্তাজাভি বলেন, ইরানের সংসদে নারী হওয়া মানে নারী অধিকারের ব্যাপারে রাতারাতি কোনো সমর্থন পেয়ে যাওয়া নয়। ইরানের সংসদের বর্তমান নারী সদস্যরা এখনো অতি-রক্ষণশীল রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত।

    তবে নির্বাচনে নারীদের এ বিজয়কে তাদের জন্য একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপন সাদেক জিবাকালাম। তিনি স্বীকার করেন, বর্তমান নারী সাংসদেরা রক্ষণশীল এবং নারীদের খুব অল্পই করেছেন। তবে এবারের নির্বাচনে সংস্কারপন্থী নারী প্রার্থীদের বিজয় পরিবর্তনের একটি সুযোগ করে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

    জিবাকালাম বলেন, ‘এটা আসলেই একটা বড় মাপের উন্নতি। আমরা আশা করি বিজয়ীরা নারী অধিকারের ব্যাপারে সামনে এগিয়ে যাবে।’ নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নতির জন্য আইনের সংস্কার করা দরকার বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টিকে ইরানের রাষ্ট্রপতি হাসান রুহানির জন্যও অনুকূল বলে জানান জিবাকালাম।

    সব মিলিয়ে ইরানের নির্বাচনে নারীদের এ বিজয় কতটা ফলপ্রসূ হয় তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরো অনেক দিন। পার্লামেন্টে তাদের ভূমিকা কী হবে এবং নারী অধিকারের পক্ষে তারা কী করতে পারে- এর ওপরেই নির্ভর করে নারীদের এ বিজয়ের আসল তাৎপর্য।

    (Visited 9 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *