Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / জানুয়ারিতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল

জানুয়ারিতে চালু হচ্ছে দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল

  • ২৪-১০-২০১৬
  • image-3146-1নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সব কিছু পরিকল্পনামাফিক এগিয়ে গেলে আগামী জানুয়ারিতেই বাংলাদেশ তার দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে পারবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের অনলাইন জগত নতুন উচ্চতায় উঠবে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, সাবমেরিন ক্যাবলের চমক এখানেই শেষ নয়। শিগগির তৃতীয় সাবমেরিণ ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার পথেও বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।

    সূত্র মতে, পটুয়াখালীর কলাপাড়ার কুয়াকাটায় দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের অবকাঠামোগত নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে এটি চালু হবে। উপজেলার রাখাইন পল্লী আমখোলা পাড়ায় ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয় এ প্রকল্পটির কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালের শেষদিকে।

    বাংলাদেশকে সাউথইস্ট এশিয়া-মিডল ইস্ট-ওয়েস্টার্ন ইউরোপ-৫ (এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫)-এর সঙ্গে সংযুক্ত করতে ল্যান্ডিং স্টেশন ও সংযোগ লাইন স্থাপন, ফাংশনাল বিল্ডিংসহ প্রায় সকল অবকাঠামোর কাজই শেষ হয়েছে। বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল) এ কাজ করছে। জানুয়ারিতে স্টেশনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হচ্ছে। এরপরে আরও এক হাজার ৪০০ জিবিপিএস (গিগাবাইটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইডথ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জন করবে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানি।

    জানা গেছে, সমুদ্র থেকে ক্যাবল সংযোগের কাজ প্রায় সম্পন্ন করেছে বিএসসিসিএল। ইউরোপ থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে আসা সঞ্চালন লাইন সংযুক্তির জন্য ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে। সম্পন্ন হয়েছে ফাংশনাল বিল্ডিংয়ের মূল স্থাপনার কাজ। ড্রেনেজসহ অবকাঠামোগত অন্যান্য কাজও শেষের দিকে। ডরমিটরি, নিরাপত্তাকর্মীদের ব্যারাক হাউস, রেস্টহাউস নির্মাণ কাজ চলছে। এখন চলছে ভবনের সৌন্দর্যবর্ধন ও স্টাফ কোয়ার্টারের কাজ। সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত নিজস্ব ইলেকট্রিক্যাল কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর জানুয়ারিতে ল্যান্ডিং স্টেশনের সঙ্গে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ এর সংযোগ স্থাপন করবে বিএসসিসিএল।

    এসইএএমই ডব্লিউ-৫ এর প্রকল্প পরিচালক পারভেজ মনন আশরাফ জানান, বীচ ম্যানহোল থেকে ল্যান্ডিং স্টেশন পর্যন্ত ফাইবার অপটিক ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হলে ইন্টারনেটে তাৎক্ষণিকভাবে ২০০ জিবি পিএস সুবিধা পাওয়া যাবে, যা ১৫০০ জিবিপিএস পর্যন্ত সম্প্রসারণযোগ্য।

    জানা গেছে, একটিমাত্র সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করায় বর্তমানে লাইন কাটা পড়লে বিএসসিসিএলের হাতে বিকল্প কোনো ব্যবস্থা নেই। সাবমেরিন ক্যাবল ওয়ানের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। নতুন এ সাবমেরিন ক্যাবলটি চালু হলে এ সমস্যা থাকবে না। দেশীয় টেলিকম কোম্পানিগুলোকে বিদেশ থেকে ব্যান্ডউইডথ কিনতে হবে না। অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত ব্যান্ডউইডথ রফতানির মাধ্যমে বাংলাদেশ বড় অংকের অর্থ উপার্জনের সুযোগ পাবে। বাড়বে বিএসসিসিএলের মুনাফা।

    বিএসসিসিএল সূত্রে জানা গেছে, সাগরের নিচ দিয়ে ফ্রান্স থেকে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলংকা ও মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত ২০ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে। ৬৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্রকল্পটিতে সরকার ১৬৬ কোটি ও বিএসসিসিএল ১৪২ কোটি টাকা ব্যয় করছে। প্রকল্পের বাকি টাকার ঋণসহায়তা দিয়েছে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইডিবি)। এ ল্যান্ডিং স্টেশন থেকে কক্সবাজারের জিলং পর্যন্ত ব্যাকবোন তৈরি করার কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলংকা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, মিসর, ইতালি, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া ও ফ্রান্সসহ এ কেবলের মালিক ১৯টি দেশ।

    এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৫ নামের নতুন কনসোর্টিয়ামটি গঠিত হয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরবসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ নিয়ে। এ কনসোর্টিয়াম দিয়ে ২০ হাজার কিলোমিটার এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ কেবলের ‘আপগ্রেডেশন’ বা উন্নয়নকাজও শেষ হয়েছে। আরও জানা গেছে, দ্বিতীয় সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশনের মাধ্যমে বিশ্বের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে বাংলাদেশের সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থার বহুমুখিকরণ করা হবে। ল্যান্ডিং স্টেশনের সংযুক্তির মাধ্যমে ডাটার পরিধি বৃদ্ধি করা হবে। দেশের তথ্য প্রযুক্তির চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে এর সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে এবং সরকার এ খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ পাবে। প্রকল্পটি চালু হলে বাংলাদেশ নিরিবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেটে সংযুক্ত থাকবে।

    উল্লেখ্য, এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৪ কনসোর্টিয়ামের আওতায় কক্সবাজারে প্রথম সাবমেরিন কেবলের মাধ্যমে ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইডথ সরবরাহ করছে বিএসসিসিএল। এর মাধ্যমে দেশের আইসিটি ও টেলিকম কোম্পানিগুলোর চাহিদার বড় অংশ পূরণ করছে কোম্পানিটি।

     

     

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ হাসান আহমেদ 

    (Visited 30 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *