Templates by BIGtheme NET
Home / অন্যান্য / বাড়তি পদ হারাচ্ছেন বিএনপির যেসব নেতা

বাড়তি পদ হারাচ্ছেন বিএনপির যেসব নেতা

  • ১৭-০৯-২০১৬
  • 555555ঢাকা: ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি বাস্তবায়ন শুরু করতে যাচ্ছে বিএনপি। বহু দিন ধরে একাধিক পদে আছেন বিএনপির অনেক নেতা। এতে করে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা কাঙ্খিত পদে আসতে পারছেন না। নতুন নেতৃত্বের বিকাশ হয় না। ফলে বিএনপির হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের আলোকে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এক নেতার এক পদ নীতি।

    এটা কার্যকর হলে শতাধিক হেভিওয়েট নেতাকে হারাতে হবে তৃণমূলের রাজত্ব। যদিও ইতোমধ্যে এক ডজন কেন্দ্রীয় নেতা একাধিক পদ ছেড়েছেন। আরো যাদের একাধিক পদ রয়েছে তারাও ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    জানা যায়, নতুন ও তরুণ নেতৃত্ব বিকাশের লক্ষে ষষ্ঠ কাউন্সিলে বিএনপির গঠনতন্ত্রে ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি সংযোজন করা হয়। তা বাস্তবায়নে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান অনড়। তৃণমূল পুনর্গঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানকে এ ব্যাপারে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক নেতার এক পদের কারণে দীর্ঘ দিনের রাজত্ব হারাচ্ছেন অনেক প্রভাবশালী নেতা। যেমন প্রায় ২০ বছর ধরে ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমানউল্লাহ আমান। শেষ পর্যন্ত তাকে জেলার দায়িত্ব ছাড়তে হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা জেলার নতুন কমিটিও ঘোষণা করা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস কর্তৃত্ব হারাচ্ছেন ঢাকা মহানগর বিএনপির। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী পটুয়াখালী জেলার সভাপতি। কেন্দ্রে থাকলে তাকে হারাতে হবে জেলার আধিপত্য। ঝালকাঠি জেলা সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। বরিশাল মহানগরের সভাপতি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার কেন্দ্রের যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। তবে তিনি কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত সহজে মেনে নিতে পারছেন না, চেয়ারপারসনের বিশেষ সুবিধা কাজে লাগাতে এখন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

    ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলনকে হারাতে হচ্ছে গাজীপুর জেলার আধিপত্য। আসাদুল হাবিব দুলু লালমনিরহাট জেলার সভাপতির পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকও। দীর্ঘ দিন ধরে জেলায় তার একক আধিপত্য। দুলুর বিকল্প কোনো নেতা জেলায় তৈরি হয়নি। তবে এবার তাকে নিজ হাতে গড়ে তোলা রাজত্ব ছাড়তে হচ্ছে।

    ইতোমধ্যে তৃণমূলের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কয়েকজন, তাদের সঙ্গে রয়েছেন নোয়াখালী জেলার সভাপতির পদ ছেড়েছেন ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহান, টাঙ্গাইলের সভাপতি আহমেদ আযম খান, সিরাজগঞ্জের সভাপতি ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়া এরআগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কয়েকজন একাধিক পদ ছাড়েন। যুবদলের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক পদ ছেড়ে বিএনপির মহাসচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন বর্তমান কমিটির সহপ্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খানও।

    এ ব্যাপারে বিএনপির বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেন, ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের গঠনতন্ত্রে এক নেতার এক পদ নীতি পাস হয়েছে। তাই শতাধিক নেতাকে একাধিক পদ ছাড়তে হবে। কেননা ৭৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে অন্তত ৭০ জন সভাপতিই কেন্দ্রের পদ পেয়েছেন। সাধারণ সম্পাদকেরও অনেকে পদ পেয়েছেন। সুতরাং শতাধিক নেতাকে বাড়তি পদ ছাড়তে হবে।

    অন্য দিকে দীর্ঘ দিনের আধিপত্য ধরে রাখতে নানা কৌশলের আশ্রয় নিচ্ছেন অনেক নেতা। জেলা বা উপজেলার দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার পর পরিবারের সদস্য অথবা আস্থাভাজন কিংবা অনুগতদের কাউকে ওই পদে বসানোর কৌশল নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে এই কৌশলের বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।

    যেমন সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। পুরো জেলায় তার একক আধিপত্য রয়েছে। কিন্তু এবার তাকে জেলার পদ ছাড়তে হয়। তবে আধিপত্য ঠিকই ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি জেলার সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন বর্তমানে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। জেলার রাজত্ব ধরে রাখতে তার স্ত্রীকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করা হয়। আগামীতে টুকুর স্ত্রীই জেলার সভাপতি হচ্ছেন বলে আলোচনা রয়েছে। ১৯৯১ সাল থেকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার সভাপতি ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। কয়েক দিন আগে তিনি ওই পদ ছেড়ে দেন। পদ ছেড়ে দিলেও উপজেলার আধিপত্য ধরে রাখতে তার মেয়ে তামান্না ফারুককে সভাপতি করা হয়েছে।

     

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ বকুল

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *