Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / আইজিপির সঙ্গে বাবুলের সাক্ষাৎ, কাজে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা

আইজিপির সঙ্গে বাবুলের সাক্ষাৎ, কাজে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা

  • ০৪-০৮-২০১৬
  • mitu-andtএকমাসেরও বেশি সময় পর পুলিশ সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তার। অবস্থান করেছেন এক ঘণ্টারও বেশি সময়। দেখা করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের সঙ্গে। এছাড়া বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসারের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন, যাদের মধ্যে ছিলেন সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) হাবীবুর রহমানও।

    তবে তার কাজে যোগদান নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাবুল আক্তার কাজে যোগ দেয়ার জন্যই পুলিশ সদরদপ্তরে গিয়েছিলেন। যদিও সদরদপ্তরের কোনো সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

    পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানায়, বুধবার প্রধান ফটকের রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে ১টা ১৩ মিনিটে ভেতরে প্রবেশ করেন বাবুল আক্তার। এরপর তিনি প্রথমে আইজিপির দপ্তরে যান। সেখানে প্রায় ১৫ মিনিট অবস্থান করেন। এরপর সোজা চলে যান সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (সংস্থাপন) হাবীবুর রহমানের দপ্তরে। সেখানেও তিনি মিনিট বিশেক ছিলেন। এরপর বেশ কয়েক জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ২টা ১০ মিনিটে হেঁটে সদরদপ্তর ত্যাগ করেন।

    বাবুল আক্তারের প্রবেশ ও বের হয়ে যাওয়ার তথ্যটি জানান প্রধান ফটকের রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কনেস্টেবল হাফিজ।

    এদিকে ৩৮ দিন পর এসপি বাবুল আক্তারের পুলিশ সদরদপ্তরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, উপর মহলের সবুজ সংকেত পেয়ে চাকরিতে যোগদানের জন্যই তিনি সদরদপ্তরে গেছেন। আবার এমনও শোনা যাচ্ছে, গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া একটি প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলতেই বাবুল আক্তারকে সদরদপ্তরে তলব করা হয়েছিল।

    বাবুল আক্তার চাকরিতে যোগ দিচ্ছেন কি না- এমন প্রশ্নে কেউই মুখ খুলছেন না। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সদর দপ্তরের ডিআইজি (মিডিয়া) এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, ‘বাবুল আক্তার হেড কোয়ার্টারে এসেছিলেন এটা ঠিক। কিন্তু তিনি চাকরিতে যোগ দিতে এসেছিলেন কি না সেটা আমি নিশ্চিত নই।’

    পরে এএইজি (মিডিয়া) জালাল উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘বাবুল আক্তার এসেছিলেন, এইটুকুই শুধু জানি। এর বেশি আমি অবগত নই।’

    স্ত্রী মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যার দিনই (৫ জুন) পদোন্নতি পেয়ে সদরদপ্তরে সংযুক্ত হন এসপি বাবুল আক্তার। এরপর গত ২৫ জুন তাকে ঢাকার শ্বশুরবাড়ির থেকে মধ্যরাতে ডেকে নিয়ে টানা ১৫ ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয় ডিবি কার্যালয়ে। পরে তাকে বাসায় ফিরেয়ে দেয়া হলেও তিনি আর স্বপদে যোগদান করেননি।

    এরপর গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছিল, বাবুল আক্তার চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন ওই দিন রাতেই। তবে এনিয়ে নানা খবর বের হলেও সরকার কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনও সুষ্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি এ নিয়ে মুখ খুলেননি বাবুল আক্তার নিজেও।

    অবশ্য, গত ২২ জুলাই চট্টগ্রামের নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকায় পুলিশ অফিসার্স মেস ভবনের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, ‘সে (বাবুল আক্তার) চাকরিতে বহাল আছে। তবে সে অফিস করেনা। আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে না। কোনো অফিসারের সাথেও যোগাযোগ রাখছে না। সে বলছে সে মানসিকভাবে ডিপ্রেসড, চাকরি করার মানসিক অবস্থায় নেই। সে কেনো আমাদের সাথে কথাও বলছে না, যোগাযোগ রাখছে না সে বিষয়ে আমরা বলতে পারব না। এমনকি সে পুলিশ সদর দপ্তরেও যাচ্ছে না।’

    গত ৫ জুন চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি’র মোড় এলাকায় ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলিতে খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। এ ঘটনার পরদিন পাঁচলাইশ থানায় বাবুল আক্তার বাদী হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেন।

    ঘটনার রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিট (সিটিআই)। তবে মামলার মূল তদন্তে আছে চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

    এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততা প্রথমেই উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। এরপর নানা গুজব ছড়িয়ে পড়ে। বাবুল আক্তারেই স্ত্রী হত্যায় জড়িত এমন গুঞ্জনও চলে। তবে এখনো পর্যন্ত আসামিদের দেওয়া স্বীকারোক্তি কিংবা পুলিশের পক্ষ থেকে বাবুল আক্তারই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সেই রকম কোনও কিছু বলা হয়নি।

    (Visited 21 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *