Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / গভীর রাতে গুদামে ঢুকছে আ.লীগ নেতাদের ধান

গভীর রাতে গুদামে ঢুকছে আ.লীগ নেতাদের ধান

  • ০৮-০৭-২০১৬
  • লালমনিরহাটের ৭টি সরকারি খাদ্য গুদামে রাতের অন্ধকারে ঢুকানো হচ্ছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও দালালদের ধান। কৃষকরা ধান নিয়ে এসে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকলেও টাকা না দিলে নানা অজুহাতে নেয়া হচ্ছে না তাদের ধান।

    জেলার খাদ্য গুদামগুলোতে নিয়োজিত একাধিক কর্মচারী জানান, কৃষকের নিকট থেকে ধান না নিয়ে গভীর রাতে টাকা নিয়ে ট্রাক ভর্তি ধান এনে গুদামজাত করা হচ্ছে।

    আদিতমারি খাদ্য গুদামের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত রোববার রাতে দুই ট্রাক ভর্তি ধান গুদামের ভিতরে ঢুকানো হয়। বিষয়টি কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমাকে জানালে তিনি তার ওপর চটে যান। এদিকে কৃষক ধান নিয়ে আসলেই ধান চিটা,আদ্রতা কম বলে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে। টন প্রতি ধানের বিপরীতে খাদ্য কর্মকর্তাকে চার হাজার টাকা দিলেই সব চিটা, আর্দ্রতাবিহীন খারাপ ধানও তখন ভালো হয়ে যায়।

    কৃষকের কার্ডেই এ ধান সরবরাহ হচ্ছে এমন দাবি পাটগ্রাম উপজেলার খাদ্য গুদাম ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেনের। তিনি জানান, নিয়ম রয়েছে চাতালে শুকানো ও ফ্যান দিয়ে ঝারা ধান কিনতে হবে। কৃষকের তো চাতাল নেই। তাই দলীয় নেতারা তাদের এ কাজে সহযোগিতা করছেন। তারা কৃষকের কাছ থেকে ধান কিনে গুদামের উপযোগী করে সরবরাহ করছেন।

    এদিকে গত সোমবার সকালে হাতিবান্ধার কয়েকজন কৃষক গুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে আর্দ্রতা কম, চিটাযুক্ত বলে নানা ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করেন খাদ্য কর্মকর্তারা। দাবি অনুযায়ী প্রতি টনে চার হাজার টাকা উৎকোচ দিতে রাজি হওয়ায় পরক্ষণেই ধানগুলো ভালো হয়ে যায়। দুপুরেই ওই ধান জমা হয় গুদামে।

    অভিযোগ উঠেছে, জেলার সরকারদলীয় প্রভাবশালী নেতারা নির্ধারণ করে দিচ্ছেন খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কার কাছ থেকে কী পরিমাণ ধান কিনতে পারবেন।

    জেলা খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, চলমান বাজারদরের চেয়ে কৃষকের কাছ থেকে একটু বেশি দরে ধান কেনে খাদ্যগুদামগুলো। কৃষককে বিশেষ সুবিধা দিতেই বেশি দরে ধান ক্রয় করে সরকার। তবে সরকারের কাছ থেকে কৃষক এ সুবিধা তেমন একটা পান না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা বাজার থেকে কম দামে ধান কিনে তা বেশি দামে গুদামে বিক্রি করেন।

    সরকারি সিদ্ধান্তে পহেলা জুন থেকে কৃষকের কাছ থেকে ধান-সংগ্রহ শুরু করে খাদ্য গুদামগুলো। চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটে ধান কেনার টার্গেট ৭ হাজার ৯শ মে.টন। গত সোমবার পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ৩৯শ ৮০ মে. টন।

    এদিকে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা কার কাছ থেকে ধান কিনবে তা ঠিক করে দেন জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও স্থানীয় এমপির লোকেরা। তারা তাদের পছন্দের ব্যক্তিকে নির্ধারিত টোকেন দিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে পাঠান। তবে ওই টোকেনধারীরা কেউই মাঠ পর্যায়ের কৃষক নন। তারা সবাই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের সরবরাহ করা ধান-নিম্নমানের।

    তবে জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের লাগামহীন দুর্নীতির কারণেই সাধারণ কৃষকরা তাদের ন্যায্য দাবি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অসহায় কৃষকরা যাতে বঞ্চিত না হয় সে চেষ্টাই করছে জেলা আওয়ামী লীগ।

    জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক গোলাম মওলা জানান, রাতে ট্রাকে ধান ঢুকলে দোষের কী? ধান-ক্রয়ে খাদ্য গুদামের কর্মকর্তারা মূলত সংশ্লিষ্ট এলাকার রাজনৈতিক নেতাদের কাছে জিম্মি। তাদের মর্জি অনুযায়ী ধান-কিনতে হয়। এর প্রতিবাদ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। উল্টো জীবন নিয়ে ঝুঁকিতে পড়তে হয়।

    (Visited 7 times, 1 visits today)

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *