Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / ৪০ লাখ দেশি গরু কোরবানির জন্য উপযোগী – Songbad Protidin BD

৪০ লাখ দেশি গরু কোরবানির জন্য উপযোগী – Songbad Protidin BD

  • ১১-০৮-২০১৭
  • 1472213516সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  কোরবানি ঈদের বাকি আছে মাত্র তিন সপ্তাহ। তবে এরই মধ্যে গরু বিক্রি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। দেশে এখন কোরবানির উপযোগী গরু আছে ৪০ লাখ মহিষ ১৫ লাখ, আর ছাগল-ভেড়া আছে প্রায় ৭৬ লাখ, যা দেশের মোট চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম বলে মনে করছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, খামারি ও ব্যবসায়ীরা। তবে চাহিদার তুলনায় দেশের জোগানস্বল্পতা রয়েছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীদের ভারত থেকে গরু আমদানির অনুমতি দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এতে লোকসানের মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন দেশি খামারি ও মৌসুমি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।অনুসন্ধানে দেখা যায়, কোরবানি ঈদ ঘিরে প্রতিবছরই বাড়ছে ভারতীয় গরুর ওপর নির্ভরশীলতা। এত দিন অবৈধ পথে ভারতীয় গরু এলেও এরই মধ্যে বিজিবির পক্ষ থেকে বৈধ পথে গরু আনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বছরের পর বছর ভারতীয় গরুর ওপর এই নির্ভরশীলতা বিপাকে ফেলেছে বাংলাদেশকে। একদিকে দেশের অভ্যন্তরে গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অন্যদিকে ভারতীয় গরু আমদানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দেশের ব্যবসায়ীরা।

    সংশ্লিষ্টরা জানায়, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বেপারিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম শুরু করছেন। কিনছেনও অনেকে। তবে গোখাদ্যের দাম বাড়ায় পশু লালন-পালনে এবার খরচ আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। সেই কারণে গতবারের তুলনায় এবার পশুর দামও কিছুটা বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছেন খামারিরা।আর ব্যবসায়ীরা জানান, এত বছর দেশে মোট গরুর চাহিদার ৭০ শতাংশ জোগান দিতেন দেশীয় খামারিরা, বাকি ৩০ শতাংশ আসত ভারত থেকে। বর্তমানে দেশে গরুর খামারির সংখ্যা বাড়ছে।

    তা ছাড়া অনেকে কোরবানি ঈদ টার্গেট করে সীমিত পুঁজি খাটিয়ে লাভের আশায় দুই-একটি করে গরু কিনে লালন-পালন করেন। সব মিলিয়ে দেশে এখন যে পরিমাণ পশু আছে, তা কোরবানির চাহিদা পূরণে সক্ষম বলে মনে করেন তারা। অন্যদিকে ভারতীয় গরুর মূল্য কম ও দেশে লালন-পালনের খরচ বৃদ্ধিতে দুই দেশের গরুর মধ্যে দামের তফাত তৈরি করবে বলেও মনে করেন তারা।রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছের রমজান আলী ও আফজাল, লালমনিরহাটের ফজলুল হক, নীলফামারীর জলঢাকার মাইদুলসহ বেশ কজন খামারি জানান, আসন্ন ঈদ সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করছেন তারা। পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্ষা মৌসুমে পানিতে মাঠ ডুবে যাওয়ায় গোখাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এ জন্য ব্যয়ও বেড়েছে। তার পরও তারা লাভের আশায় কষ্ট করে পশু পালন করছেন। কিন্তু তাদের শঙ্কা ঈদ উপলক্ষে ভারত থেকে গরু আমদানি হলে লাভ তো দূরের কথা, লোকসানের মুখে পড়বেন তারা।
    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, দেশে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রতিবছর ৫.৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। আগামী ২০২১ সাল নাগাদ জাতীয় উৎপাদন থেকে দেশের পুরো চাহিদা মেটাতে হলে উৎপাদন ন্যূনপক্ষে বছরে গড়ে শতকরা ৬ থেকে ৯ ভাগ হারে বাড়াতে হবে।
    প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশে খামারের সংখ্যা প্রায় সোয়া পাঁচ লাখ। দেশে এখন গরু আছে ২ কোটি ৩০ লাখ। এর একটি বড় অংশ গাভী ও কম বয়সী। জবাই উপযোগী গরু আছে প্রায় ৪০ লাখ, ছাগল আছে ২ কোটি ৬০ লাখ, ভেড়া আছে ৩৪ লাখ ও মহিষ আছে ১৫ লাখ।
    এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (সম্প্রসারণ) ড. মো. মেহেদী হাসান বলেন, দেশের আভ্যন্তরীণ উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব। তবে অন্যান্য দেশ থেকে অবৈধভাবে পশু আমদানি বন্ধ করলে দেশীয় খামারিরা লাভবান হবেন।তিনি আরও বলেন, কোরবানির জন্য গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি থাকে। চাহিদা অনুযায়ী দেশের খামারগুলোয় পর্যাপ্তসংখ্যক গরু আছে। তাই ভারত থেকে গরু আমদানির প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।এদিকে সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে গরু আসতে বাধা নেই বলে চলতি মাসের শুরুতে জানান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবুল হোসেন।
    বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে ভারত থেকে গরু আসায় অসুবিধা হবে না।এক প্রশ্নের জবাবে বিজিবির মহাপরিচালক বলেন, দেশে কোরবানি ঈদের সময় গরু আসা বন্ধ করে দিলে অসুবিধা হবে। কারণ এত সংখ্যক (গরু) উৎপাদন করা যাবে না। তাতে সবার অসুবিধা হবে।বিজিবির সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে বৈধভাবে সীমান্ত দিয়ে সাড়ে ৪ লাখ গরু বাংলাদেশে এসেছে।তবে কোরবানির ঈদের সময় ভারত থেকে গরু এলে তাতে দেশের খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে মনে করেন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহ এমরান।
    তিনি বলেন, আমরা সারা বছর গরু পালন করে কোরবানির ঈদের সময় তা বিক্রির প্রস্তুতি নিই। ঠিক তখনই আমাদের সব আশা এলোমেলো হয়ে যায়। এ সময় এমনিতেই গোখাদ্যের দাম বেড়ে যায়, তার ওপর যদি ভারত থেকে অবাধে গরু আসে, তা হলে সেটি দেশের খামারিদের জন্য আত্মঘাতী হবে।তিনি বলেন, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার। এর মধ্যে গরু-মহিষ আছে ৪০ লাখ, আর ছাগল-ভেড়া আছে প্রায় ৭৫ লাখ ৫৫ হাজার, যা দেশের মোট চাহিদা সম্পূর্ণভাবে পূরণ করতে সক্ষম।
    (Visited 7 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *