Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ধর্ম / রোজায় অজস্র সাওয়াব হাসিলের আমল – Songbad Protidin BD

রোজায় অজস্র সাওয়াব হাসিলের আমল – Songbad Protidin BD

  • ০৩-০৬-২০১৭
  • NBD20170602235049সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্কঃ  রমযান মহান রাব্বুল আলামিনের এক অনন্য নেয়ামত। বছরের সবচেয়ে সেরা মাস এটি। আল্লার নৈকট্য লাভের এক অনুপম সুযোগ এ মাসেই পাওয়া যায়। তাই এ মাসকে সর্বোত্তম কাজে লাগানো উচিত।

    সিয়াম পালনের কিছু মুস্তাহাব বা সুন্নাত আদব আছে যেগুলো পালন করলে সাওয়াব অনেক বেড়ে যায়। আর তা ছেড়ে দিলে রোযা ভঙ্গ হবে না বা গোনাহও হবে না। তবে পুণ্যে ঘাটতি হবে। কিন্তু তা আদায় করলে সওয়াবের পরিপূর্ণতা আসে। নিচে এসব আদাব উল্লেখ করা হলো।

    ১. সাহরী খাওয়া: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(ক) তোমরা সাহরী খাও, কারণ সাহরীতে বরকত রয়েছে।” (বুখারী-১৯২৩ ও মুসলিম-১০৯৫
    (খ) আমাদের (মুসলিমদের) ও ইয়াহূদী-নাসারাদের সিয়ামের মধ্যে পার্থক্য হল সাহরী খাওয়া। (মুসলিম-১০৯৬)
    অর্থাৎ আমরা সিয়াম পালন করি সাহরী খেয়ে, আর ইয়াহূদী-নাসারারা রোযা রাখে সাহরী না খেয়ে।
    (গ) মু’মিনের সাহরীতে উত্তম খাবার হল খেজুর। (আবূ দাঊদ-২৩৪৫)
    (ঘ) (রোযাদারদের জন্য) সাহরী হল একটি বরকতময় খাবার। তাই কখনো সাহরী খাওয়া বাদ দিও না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সাহরী খেয়ে নাও। কেননা সাহরীর খাবার গ্রহণকারীকে আল্লাহ তা‘আলা ও তার ফেরেশতারা স্মরণ করে থাকেন। (আহামদ-১০৭০২)

    ২. সাহরী দেরি করে খাওয়া: অর্থাৎ তা শেষ ওয়াক্তে খাওয়া উত্তম। রাতের শেষাংশে গ্রহণকৃত খাবারকে সাহরী বলা হয়। অনেকে আগেভাগেই সাহরি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। সেটা না করে বরং একদম শেষ সময়ে এসে সাহরী খাওয়া অধিক উত্তম।

    ৩. সাহরীর সময়কে ইবাদতে কাজে লাগানো: প্রতিরাতের শেষ তৃতীয়াংশ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরশ থেকে প্রথম আসমানে নেমে আসেন। আর বান্দাদেরকে এই বলে আহ্বান করেন, “এখন যে ব্যক্তি আমার কাছে দু‘আ করবে আমি তা কবুল করব, যা কিছু আমার কাছে এখন চাইবে আমি তাকে তা দিব এবং যে আমার কাছে এখন মাফ চাইবে আমি তাকে মাফ করে দিব। (বুখারী-৬৩২১ ও মুসলিম-৭৫৮)।”

    অতএব তখন কুরআন অধ্যয়ন, তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদের সলাত আদায়, তাওবাহ-ইস্তিগফার ও দু‘আ কবূলের জন্য এটা এক উত্তম সময়। তাদের প্রশংসায় আল্লাহ বলেন, “তারা শেষ রাতে জেগে উঠে তাওবাহ-ইস্তিগফার করে। (সূরাহ যারিয়াত-১৮)”

    ৪. সূর্য অস্ত যাওয়া মাত্র ইফতার করা: অর্থাৎ তাড়াতাড়ি ইফতার করা। অতিরঞ্জিত সাবধানতার নামে ইফতার বিলম্ব না করা। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “(ক) অর্থাৎ মানুষ যতদিন পর্যন্ত তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন কল্যাণের মধ্যে থাকবে। (বুখারী-১৯৫৭ ও মুসলিম-১০৯৮)”

    অপর হাসিদে এসেছে, “যতদিন মানুষ তাড়াতাড়ি ইফতার করবে ততদিন দীন ইসলাম বিজয়ী থাকবে। কেননা, ইয়াহূদী ও নাসারাদের অভ্যাস হল ইফাতর দেরীতে করা। (আবূ দাঊদ-২৩৫৩)”

    এছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, তিনটি বিষয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরিত্রের অংশ, “সময় হওয়ামাত্র ইফতার করে ফেলা, সাহরী শেষ ওয়াক্তে খাওয়া এবং সালাতে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা। (তাবরানী)”

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবীগণ সকলের আগে তাড়াতাড়ি ইফতার করতেন এবং সকলের চেয়ে দেরীতে সাহরী খেতেন। (মুসান্নাফ আঃ রাযযাক)

    ৫. মাগরিবের সালাতের পূর্বে ইফতার করা এবং খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা: আনাস রাদিআল্লাহু আনহু বলেছেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মাগরিবের) সলাতের পুর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর পাওয়া না যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। আর যদি শুকনা খেজুর পাওয়া না যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন। (আহমাদ)”

    তবে পেট ভর্তি করে খাওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন “যে ব্যক্তি পেট ভর্তি করে খানা খায় তার ওই পেট (আল্লাহর কাছে) একটি নিকৃষ্ট পাত্র।” (তিরমিযী)সুন্নাত হল পেটের তিন ভাগের একভাগ খাবার খাবে, আর তিনভাগের একভাগ পানি পান করবে। বাকী এক তৃতীয়াংশ শ্বাস প্রশ্বাসের জন্য খালী রেখে দিবে। (তিরমিযী)”

    ৬. ইফতারের সময় দু‘আ করা: এ মুহূর্তটি জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেয়ার সময়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “ইফতারের সময় আল্লাহ রব্বুল ‘আলামীন বহু লোককে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে থাকেন। আর এ মুক্তি দানের পালা রমাযানের প্রতি রাতেই চলতে থাকে। সে সময় সিয়াম পালনকারী প্রত্যেক বান্দার দু‘আ কবুল হয়। (মুসনাদে আহমাদ)”

    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইফতার করতেন তখন বলতেন, “হে আল্লাহ! তোমার জন্য রোযা রেখেছি, আর তোমারই রিযিক দ্বারা ইফতার করছি।
    (ঙ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইফতারের সময় নিুচের এ দুআটি পাঠ করতেন : ذهب الظمأ وابتعلت العروق وثبت الأجر إن شاء الله”

    অর্থ হচ্ছে- “পিপাসা নিবারিত হল, শিরা উপশিরা সিক্ত হল এবং আল্লাহর ইচ্ছায় পুরস্কারও নির্ধারিত হল। (আবূ দাউদ, দারাকুতনী, বাইহাকী)”
    ইফতারের সময় যখন আযান হয় তখন আযানের পরের সময়টা দু‘আ কবূলের সময়। হাদীসে আছে আযান ও ইকামতের মধ্যবর্তী সময়ের দু‘আ কবুল হয়।

    ৭. বেশী বেশী কুরআন পাঠ করা, সালাত আদায়, যিকর ও দু‘আ করা: রমযান যেহেতু কুরআন নাযিলের মাস সেহেতু এ মাসে কুরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন অন্য সময়ের চেয়ে বেশী করা উচিত। রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “সিয়াম ও কুরআন কিয়ামতের দিন (আল্লাহর কাছে) মানুষের জন্য এভাবে সুপারিশ করবে যে, সিয়াম বলবে, হে রব! দিনের বেলায় আমি তাকে পানাহার ও যৌন উপভোগ থেকে বিরত রেখেছি। তাই তার ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ কবূল কর।”

    কুরআনও আল্লাহর কাছে বলবে, “হে রব! (রাতে কুরআন পাঠের কারণে) রাতের নিদ্রা থেকে আমি তাকে বিরত রেখেছি। তাই এ পাঠকের ব্যাপারে তুমি আমার সুপারিশ মঞ্জুর কর। তিনি বলেন, অতঃপর উভয়েরই সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। (মুসনাদে আহমাদ-৬৫৮৯)”

    ৮. ইবাদতের তাওফীক কামনা ও আল্লাহর দয়া অনুধাবন করা: আমরা যে ইবাদত করি তাও আল্লাহর দয়া। তিনি যে এ কাজে আমাদেরকে তাওফীক দিয়েছেন সেজন্য আমরা তার শুকরিয়া আদায় করি। অনেকের ভাল কাজও আবার কবূল হয় না। আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন, “কেবলমাত্র মুত্তাকীদের কাজই আল্লাহ কবূল করেন। (মায়িদাহ : ২৭)”

    ভয় ও আশা নিয়ে যেন আমরা ইবাদত করি। গর্ব-অহঙ্কার ও হিংসা বান্দার ইবাদতকে নষ্ট করে দেয় এবং কুফরী ও শির্ক করলে তার কোন নেকই আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং ইবাদতসমূহ ধ্বংস ও বাতিল হয়ে যায়।

    ৯. দান-খায়রাত করা: ইয়াতীম, বিধবা ও গরীব মিসকীনদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া ও বেশী বেশী দান খয়রাত করা। এ সময়টাতে বেশি বেশি যাকাত, ফিতরা ও সাদাকাহ দেয়ার বিষয়টি হাদিসে এসেছে। হাদীসে পাওয়া যায়, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী দানশীল আর রমাযানে তাঁর এ দানশীলতা আরো বেড়ে যেত। (মুসলিম-২৩০৮)”

    ১০. উত্তম চরিত্র গঠনের অনুশীলন করা: রমযান ধৈর্যধারনের মাস। আর সিয়াম হল এ কার্য প্রশিক্ষণের ইনিষ্টিটিউট। কাজেই এ সময় আমাদেরকে সুন্দর চরিত্র গঠনের অনুশীলন করতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের মধ্যে কেউ যদি রোযা রাখে, সে যেন তখন অশ্লীল কাজ ও শোরগোল থেকে বিরত থাকে। রোযা রাখা অবস্থায় কেউ যদি তার সাথে গালাগালি ও মারামারি করতে আসে সে যেন বলে, “আমি রোযাদার। (মুসলিম-১১৫১)”

    ১১. অপচয় ও অযথা খরচ থেকে বিরত থাকা: খাওয়া দাওয়া, পোষাক-পরিচ্ছদ ও আরাম আয়েশে অনেকেই অপচয় ও অপব্যয় করে থাকে। এটা এক গর্হিত কাজ। এ থেকে বিরত থাকা।

    ১২. রুটিন করে সময়টাকে কাজে লাগানো: অহেতুক কথাবার্তা, আড্ডা বাজি, গল্প-গুজব, বেহুদা তর্কবিতর্ক পরিহার করা। রুটিন করে পরিকল্পনা ভিত্তিক কাজ করা। এতে জীবন অধিকতর ফলপ্রসূ হবে।

    ১৩. দুনিয়াবী ব্যস্ততা কমিয়ে দেয়া: রমাযানের এ বরকতময় মাসে অর্থ উপার্জন ও ব্যবসা বাণিজ্যের ব্যস্ততা কমিয়ে দিয়ে আখিরাতের মুনাফা অর্জনের জন্য অধিকতর বেশী সময় দেয়া আবশ্যক। দুনিয়া ক্ষণস্থায়ী আর আখিরাত চিরস্থায়ী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, “আর আখিরাতের জীবন সর্বোত্তম এবং চিরস্থায়ী।” (সূরা আ‘লা-১৭)”

    ১৪. খাওয়া ও নিদ্রায় ভারসাম্য রক্ষা করা: কেউ কেউ এতো বেশী খাবার খায় যে নাস্তা ও দুপুরের খাবার শুধু ইফাতের এক বেলায়ই তা পুষিয়ে নেয়। আবার তারাবীহ ও সেহরীর ওয়াক্তের দ্বিগুণ দিনের বেলায় ঘুমিয়ে তা কাযা করে। এভাবে চললে খাবার ও ঘুমের কুরবানী হলো কীভাবে? তাই এ বিষয়ে রোযাদারকে ত্যাগ তীতিক্ষা করতে হবে এবং এ দু’এর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে সিয়াম পালন করে যেতে হবে।

    ১৫. ফজর উদয় হওয়ার পূর্বেই রোযার নিয়ত করা: রোজার নিয়ত করা ফরজ। প্রতিদিনই রোজার নিয়ত করতে হবে। বর্তমান সময়ের হিসাবে বেলা ১১টার আগেই রোজার নিয়ত করতে হবে। তবে ফজর উদয় হওয়ার আগে নিয়ত করা অতি উত্তম।

    ১৬. আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা: আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবকিছুতে তার অজস্র নিয়ামত ছড়িয়ে রেখেছেন। আমাদের খাওয়া, ঘুম থেকে শুরু করে সবকিছুতেই তার নিয়ামত বিদ্যমান। তার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করলে তিনি খুশি হন। রমাযানের পবিত্র দিন ও রাতগুলোতে ইবাদত করার তাওফীক দেয়ায় মাবুদের প্রশংসা করাও উচিত আমাদের। সেজন্য তার নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আমাদের কর্তব্য।

    আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এইসব আমল ও রোজার আদাব মেনে চলার তাওফিক দান করুন। আমিন।

    লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া আরাবিয়া, বালিয়াপুর, সাভার, ঢাকা।

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *