Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / কর্পোরেট নিউজ / রেকর্ড পরিমাণ মুনাফায় বিপিসি লোকসান গুনছে পিডিবি – Songbad Protidin BD

রেকর্ড পরিমাণ মুনাফায় বিপিসি লোকসান গুনছে পিডিবি – Songbad Protidin BD

  • ০৩-০৬-২০১৭
  • bpc-pdbসংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ  বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসছে না। ফলে রেন্টাল-কুইক রেন্টালের ওপর এখনও নির্ভরশীলতা কমেনি। এতে বেসরকারি খাত থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনে বড় অঙ্কের লোকসান গুনছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। গত সাত বছর ধরে ক্রমাগত বড় অঙ্কের লোকসান গুনেই যাচ্ছে সংস্থাটি। অথচ এর ঠিক বিপরীত চিত্র আরেক রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। গত তিন বছর ধরে রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করছে সংস্থাটি।
    বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ থেকে চলতি অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাত বছরে ৩৯ হাজার ৬৪ কোটি টাকা লোকসান করেছে পিডিবি। আর ২০১৪-১৫ থেকে চলতি অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় তিন বছরে বিপিসি মুনাফা করেছে ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে জুন শেষে পিডিবির লোকসান ৪০ হাজার কোটি ও বিপিসির মুনাফা ২২ হাজার কোটি টাকায় ঠেকতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
    বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের প্রধান দুই সংস্থার বিপরীতমুখী এ অবস্থার জন্য সরকারের ভারসাম্যহীন নীতিকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, গত কয়েক বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর প্রভাবে কয়েক দফা বিদ্যুতের দাম বাড়লেও লোকসানের বৃত্ত থেকে বের হতে পারেনি পিডিবি। আবার জনগণকে বঞ্চিত করে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রিতে তিন বছর ধরে উচ্চ মুনাফা করছে বিপিসি।
    পিডিবির হিসাবে, চলতি অর্থবছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত পিডিবির লোকসান দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ১৪১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে এ লোকসান ছয় হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত অর্থবছরে পিডিবির লোকসান ছিল তিন হাজার ৮৬৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি অর্থবছরে পিডিবির লোকসান বাড়ছে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা।
    এদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সাত হাজার ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা লোকসান করে পিডিবি, যা সংস্থাটির সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ছয় হাজার ৮০৬ কোটি ৫৩ লাখ, ২০১২-১৩ অর্থবছরে পাঁচ হাজার ২৬ কোটি ১১ লাখ, ২০১১-১২ অর্থবছরে ছয় হাজার ৩৫৯ কোটি ৮৬ লাখ ও ২০১০-১১ অর্থবছরে চার হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা লোকসান হয় পিডিবির। এর আগে লোকসান হলেও তা হাজার কোটি টাকার নিচেই ছিল। মূলত রেন্টাল-কুইক রেন্টালের যাত্রা শুরুর পর থেকে সংস্থাটির লোকসান বেড়েছে কয়েকগুণ।
    উচ্চমূল্যের বিদ্যুতের কারণেই লোকসান বাড়ছে বলে জানান পিডিবির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদ। তিনি বলেন, বেসরকারি কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে। আর সরকারি বড় কেন্দ্রগুলো সময়মতো উৎপাদনে আসেনি। কয়লাভিত্তিক বেসরকারি কেন্দ্রগুলোও পিছিয়ে আছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে। ফলে লোকসানের বোঝা বেড়েই চলেছে। তবে এ বাবদ বরাদ্দ ভর্তুকির পরিবর্তে ঋণ হিসেবে দিচ্ছে সরকার। এতে পিডিবির ঋণ দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার কোটি টাকা। এ অর্থ মওকুফ চেয়ে সরকারের কাছে কয়েক দফা আবেদন করা হয়েছে।
    এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী হওয়ার পর থেকে ক্রমাগত মুনাফা করে যাচ্ছে বিপিসি। এজন্য গত অর্থবছরে কিছুটা দাম কমানো হয়। তবে এতে সংস্থাটির মুনাফা খুব বেশি কমেনি। এজন্য চলতি অর্থবছরে দাম আরও কিছুটা কমানোর বিষয়ে আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাতিল করা হয়। এতে চলতি বছর ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিপিসির মুনাফা দাঁড়ায় সাত হাজার ৩৩৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। জুন শেষে তা আট হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া গত অর্থবছর বিপিসি মুনাফা করে ৯ হাজার ৭০ কোটি সাত টাকা। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সংস্থাটির মুনাফার পরিমাণ ছিল চার হাজার ১২৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
    এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমানোর পরও যেহেতু বিপিসি প্রচুর মুনাফা করছে, তাই এটা আরও কমানো উচিত। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ মূল্য নির্ধারণ করা দরকার। পাশাপাশি স্বচ্ছ নিরীক্ষার মাধ্যমে বিপিসির মুনাফার প্রকৃত হিসাব বের করা উচিত। আর সে অর্থ বিপিসির কাছে না রেখে ব্যয় করতে হবে সরকারের উন্নয়ন খাতে।
    এদিকে তিন বছরে সাড়ে ২০ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করলেও সরকারের তহবিলে মাত্র দুই হাজার ২০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে বিপিসি। প্রথম বছর মুনাফার কোনো অংশ সরকারের তহবিলে জমা দেয়নি সংস্থাটি। তবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপের মুখে গত অর্থবছরে এক হাজার কোটি টাকা জমা দেয় সরকারি তহবিলে। যদিও পাঁচ হাজার কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল। আর চলতি অর্থবছরে আড়াই হাজার কোটি টাকা জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হলেও মাত্র এক হাজার ২০০ কোটি টাকা দিয়েছে বিপিসি। তবে সরকারের ঋণ পরিশোধ করেনি সংস্থাটি।
    বিপিসির পরিচালক (অর্থ) শঙ্কর প্রসাদ দেব বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণ পরিশোধ করা হয়নি। এ ঋণ মওকুফে আবেদন করা হয়েছে। আর মুনাফার অর্থ বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা হচ্ছে। তবে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেওয়া হলে সরকারের ঋণ পরিশোধ করা হবে।
    জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম বলেন, বিপিসির যখন লোকসান হয়েছে, জনগণের অর্থে তাদের ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম কমায় বিপিসি এখন মুনাফা করছে। এর অংশীদার জনগণ। কিন্তু তারা এর সুবিধা পাচ্ছে না। আবার পিডিবির লোকসানের অজুহাতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে। তাই বিপিসির মুনাফার অর্থে জ্বালানি উন্নয়ন তহবিল করে সেখানে জমা রাখা উচিত। পরে জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সেটা ব্যয় করা যাবে।
    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 
    (Visited 26 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *