Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / রাজধানী ঢাকার ভবিষ্যৎ – Songbad Protidin BD

রাজধানী ঢাকার ভবিষ্যৎ – Songbad Protidin BD

  • ০৭-০৮-২০১৭
  • image-45467সংবাদ প্রতিদিন বিডি ডেস্ক: ঢাকার যানজট নিয়ে নানা কথা হয়েছে, হয়েছে গবেষণা আর যানজট কমাতে হয়েছে মহাপরিকল্পনাও। আগে বলা হতো, ফ্লাইওভার নির্মাণ করলেই যানজট কমবে। কিন্তু না, তেমনটা হয়নি। তাই এবার যানজট কমাতে ঢাকার সড়কে করা হচ্ছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা। এ নিয়ে রিপোর্ট করেছে জার্মান বেতার ডয়চে ভেলে। নিচে তার বিস্তারিত :

    গত মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের একটি গবেষণা তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ঢাকায় শুধু যানজটের কারণে প্রতিবছর ক্ষতি হয় অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকা। ঢাকায় এখন যন্ত্রচালিত যানবাহন আর কোনোমতেই ঘণ্টায় গড়ে সাত কিলোমিটারের বেশি গতি পায় না (বিশ্লেষকদের মতে অবশ্য এই গতি গড়ে ছয় কিলোমিটারের বেশি হবে না)। এ অবস্থা চলতে থাকলে ২০২৫ সাল নাগাদ চার কিলোমিটারের বেশি গতিতে ছুটতে পারবে না যানবাহন।

    এই যে গতির হিসাব, তাতে এখনই যানবাহনের চেয়ে হেঁটেই আগে গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের সামনে কি এক স্থবির ঢাকা অপেক্ষা করছে?

    সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকায় যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ প্রাইভেট কার। বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) হিসেবে, চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত ঢাকার রাস্তায় বাস ও মিনিবাসের চেয়ে সাত গুণ বেশি চলেছে প্রাইভেট কার।

    ‘’২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার উন্নয়ন সম্ভাবনা” শীর্ষক বিশ্বব্যাংকের সম্মেলনে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান বলেছেন, ‘‘১০ বছর আগেও ঢাকায় যানবাহনের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার, এখন তা সাত কিলোমিটারেরও কম। যে হারে ঢাকায় যানবাহন বাড়ছে, তাতে আর ক’বছরের মধ্যেই পরিস্থিতি নাগালের বাইরে চলে যাবে।”

    বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ঢাকার এখনকার জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০৩৫ সালে তা দ্বিগুণ হয়ে সাড়ে ৩ কোটি হবে।

    সংসদে যোগাযোগমন্ত্রীর সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে ঢাকায় এক লাখ ১০ হাজার ১৮টি গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দেয়া হয়। গত ৩১ মে পর্যন্ত ঢাকায় মোট গাড়ির সংখ্যা ১১ লাখ ২৫ হাজার।

    ঢাকা শহরে বাস, মিনিবাস, প্রাইভেট কার, হিউম্যান হলার, অটোরিকশা, মটর বাইক ও ট্রাকসহ নানা যান্ত্রিক যানবাহন একসঙ্গে চলে। এর সঙ্গে আছে রিকশা, ভ্যান ও সাইকেলের মতো নানা অযান্ত্রিক যানবাহনও। এমনকি ঢাকার কিছু এলাকায় এখনো চলে ঘোড়ার গাড়ি।
    রাস্তায় নৈরাজ্য, যেন আইন ভাঙার হিড়িক

    একটি শহরে মোট আয়তনের কমপক্ষে ৩০ ভাগ সড়ক থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু ঢাকায় সড়কের পরিমাণ মোট আয়তনের সাত ভাগের বেশি নয়। এর মানে হলো, প্রয়োজনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সড়ক আছে এই শহরে। ঢাকা শহরের মোট এলাকা ১,৩৫৩ বর্গকিলোমিটার আর রাস্তার আয়তন ২,২০০ কিলোমিটার, যার মধ্যে ২১০ কিলোমিটার প্রধান সড়ক।

    তাই চিত্রটি খুবই স্পষ্ট – প্রয়োজনের তুলনায় সড়ক অনেক কম। বিপরীতে গত পাঁচ বছরে যানবাহন বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া যে সড়ক আছে তার কমপক্ষে ১৫ ভাগ নানাভাবে অবৈধ দখলে আছে।

    ঢাকায় ১৫ ভাগ যাত্রী দখল করে আছে মোট সড়কের ৭০ ভাগ৷। স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (এসটিপি) অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় কম-বেশি ১৫ ভাগ যাত্রী প্রাইভেট কারে যাতায়াত করেন। এই প্রাইভেট কারের দখলে থাকে ৭০ ভাগেরও বেশি রাস্তা। বাকি ৮৫ ভাগ যাত্রী অন্য কোনো ধরনের গণপরিবহন ব্যবহার করেন অর্থাৎ তারা সড়কের মাত্র ৩০ ভাগ এলাকা ব্যবহারের সুযোগ পায়। জনসংখ্যার হিসেবে শতকরা এক ভাগের মতো মানুষের প্রাইভেট কার আছে, কিন্তু সড়ক চলে গেছে তাদের দখলে।

    সরকারি গণপরিবহনের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি ৩৩ গুণ বেশি থাকলেও এসব ব্যক্তিগত গাড়িতে মাত্র ১৩ শতাংশ যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা হয়। বাস ৪৯ শতাংশ যাত্রীর দায়িত্ব নেয়।

    ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে এখনো রেলগাড়ি চলাচল করে। ঢাকা শহরের ভেতর দিয়ে রেল লাইন যাওয়ার ফলে ১৭টি পয়েন্টে রাস্তা বন্ধ করে ট্রেন যাওয়ার ব্যবস্থা করায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। এ সব পয়েন্টে দিনে কমপক্ষে ১০ বার যানবাহন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

    এ সব সমস্যা সমাধানে সরকার ২০১৪-১৫ সালে একটি রিভাইজড স্ট্র্যাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যান (আরএসটিপি) অনুমোদন করে, যাতে পাঁচটি পাতাল রেললাইন, দু’টো দ্রুতগতির বাস রুট এবং ১,২০০ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এটা বর্তমান সড়ক নেটওয়ার্কের দ্বিগুণ। এতে ছয়টি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং তিনটি রিং রোড অন্তর্ভুক্ত আছে। আগামী ২০ বছরে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ৩ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা।

    খসড়া পরিবহন পরিকল্পনায় আরো ৩ লাখ ৬০ হাজার অতিরিক্ত গাড়ি রাস্তায় নামানোর কথা বলা হয়েছে, যা অনেক বেশি পরিমাণে জায়গা দখল করবে। এ সব গাড়ি শুধু পার্ক করার জন্যই ৩ দশমিক ৬ বর্গকিলোমিটার জায়গার প্রয়োজন হবে, যা গুলশান ও বনানী আবাসিক এলাকার মিলিত আয়তনের প্রায় সমান।

    বলা বাহুল্য, ঢাকার যে ট্রাফিক চিত্রের কথা বলা হলো, তা স্বাভাবিক পরিস্থিতি। কিন্তু জলাবদ্ধতা, বৃষ্টি বা বিশেষ পরিস্থিতিতে কী হতে পারে বা হয়, তা মনে হয় গবেষণায়ও বোঝা কঠিন।

    (Visited 15 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *