Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অন্যান্য / রাজধানীতে উন্নয়নের ‘খোঁড়াখুঁড়িতে’ নাগরিক ভোগান্তি – Songbad Protidin BD

রাজধানীতে উন্নয়নের ‘খোঁড়াখুঁড়িতে’ নাগরিক ভোগান্তি – Songbad Protidin BD

  • ০১-০৭-২০১৭
  • khorakhuriসংবাদ প্রতিদিন বিডি রিপোর্টঃ  রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এ ছাড়াও ভাঙাচোরা রাস্তা মেরামতের কাজ করছে সিটি করপোরেশন। যে কারণে রাজধানীর প্রায় সবগুলো রাস্তাই এখন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে রয়েছে বেহাল দশায়। বৃষ্টির মৌসুমে এই খোঁড়াখুঁড়িতে ভোগান্তি বেড়েছে সীমাহীন। সংশ্লিষ্ট এলাকার অনেকের ব্যবসা লাটে উঠেছে বলেও অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।

    প্রতি বছর ৩১ মের মধ্যে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে। অথচ এই সময়সীমা কখনোই মানা হয় না। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন গত বছর যে উন্নয়ন কাজ শুরু করেছিল, তা এখন পর্যন্ত শেষ করতে পারেনি। তার ওপর চলতি বছরে তারা আরো ৪-৫ শতাধিক সড়ক মেরামতের কাজ একসঙ্গে শুরু করেছে। দুই সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, এ সব কাজ শেষ হতে আরো অন্তত ২-৩ মাস সময় লেগে যেতে পারে।

    ডিএসসিসি সূত্রে জানা যায়, নাগরিকদের যাতায়াতের সুবিধার্থে একযোগে নগরীর ৩০০টি সড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ চলছে। এখন পর্যন্ত ২১৪ দশমিক ৭২ কিলোমিটার রাস্তা, ৪৭ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণ করা হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে ২৩৯ দশমিক ১৫ কিলোমিটার নর্দমা নির্মাণ, ১৩৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং ১৪০ কিলোমিটার ড্রেনের নির্মাণকাজ চলমান। ৩১০ কিলোমিটার নর্দমা পরিষ্কার করা হয়েছে। এ ছাড়া নগরীর ৩০ কিলোমিটার প্রাইমারি সড়ক মিডিয়ানের সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম এবং ২৭ কিলোমিটার ফুটপাত নির্মাণকাজ চলমান। শান্তিনগরেও ড্রেন নির্মাণের কাজও চলমান।

    একই অবস্থা উত্তর সিটিতেও। সংস্থাটির অন্তত চার শতাধিক সড়কে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ চলছে। গুলশান, বনানী, বারিধারা ও মিরপুরের প্রায় প্রতিটি সড়কেই চলছে খোঁড়াখুঁড়ি। এ ছাড়া মালিবাগ-শান্তিনগর, মৌচাক, রামপুরা, বাড্ডা, লিংক রোড, শাহজাদপুর ও নতুন বাজার হয়ে বসুন্ধরা সড়কটির অবস্থা এতই খারাপ যে, সড়কগুলো দিয়ে একই লাইন ছাড়া যান চলাচল করতে পারছে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। এ ছাড়া ডিএনসিসির এক হাজার ৩৫০ কিলোমিটার রাস্তা, এক হাজার ২৫০ কিলোমিটার উন্মুক্ত নর্দমা এবং ৩২৫ কিলোমিটার ফুটপাতের রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে।

    সরেজমিন দেখা গেছে, নগরীর দৈনিক বাংলা থেকে ফকিরাপুল হয়ে রাজারবাগ, রাজারবাগ থেকে শান্তিনগর হয়ে রমনা সড়ক, মালিবাগ থেকে মগবাজার, রামপুরা ব্রিজ থেকে মেরাদিয়া সড়কে চলছে উন্নয়ন যজ্ঞ।

    আগারগাঁও থেকে মিরপুর ১২ নম্বর পর্যন্ত সড়কে চলছে মেট্রোরেল নির্মাণকাজ। এ কারণে ওই সড়কগুলোর আশপাশের মার্কেটগুলো অনেকটা ক্রেতাশূন্য। অন্যান্য বছর ঈদের সময় মিরপুর বেনারসিপল্লীতে কেনাকাটার ধুম পড়ে যেত। এবার দেখা গেছে উল্টা চিত্র। ব্যবসায়ীদের বলছেন, রোজা রেখে মানুষ ভোগান্তি পোহাতে চায় না। তাই খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্রেতারা বিমুখ হয়ে পড়েছে, আর তাদের কপাল পুড়েছে।

    বেনারসিপল্লীর কাপড় ব্যবসায়ী আকাশ বলেন, মেট্রোরেলের খোঁড়াখুঁড়ির কারণে এবার ব্যবসা মন্দা। এলাকার অনেক ভাড়াটিয়া এই ভোগান্তির কারণে এলাকা ছাড়ছে। একই চিত্র লক্ষ করা গেছে, মিরপুর ১০ নম্বর থেকে ২ নম্বর গোলচত্বর পর্যন্ত। ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ লাইন স্থাপনের জন্য এ সড়কে প্রায় তিন মাস ধরে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। রাজধানীর অতি ব্যস্ততম এই সড়কে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত যানজট লেগে থাকে। ৫ মিনিটের দূরত্ব পাড়ি দিতে অনেক সময় এক ঘণ্টা লেগে যায়।

    মিরপুর মাজার রোডের উন্নয়নকাজ চলছে ধীরগতিতে। বড় বড় গর্ত করে ফেলে রাখা হয়েছে প্রায় তিন মাস ধরে। এক দিন কাজ হয় তো দুদিন বন্ধ থাকে। এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গাবতলী-আশুলিয়া রুটে রাতদিন ২৪ ঘণ্টাই যানজট। রাতে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে মালবাহী বিভিন্ন পরিবহন। এখানে অসহনীয় যানজটের পাশাপাশি ঘটে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। মিরপুর-১, চিড়িয়াখানা, উত্তর বিশিল, নবাবের টেক ও গুদারাঘাট এলাকার সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। কোথাও কোথাও পিচ ঢালাই থাকলেও এবড়োখেবড়ো হতে শুরু করেছে। সামান্য বৃষ্টিতে ড্রেনে থেকে উপচে সড়কে উঠেপড়ে ময়লাপানি।

    কুড়িল প্রগতি সরণিতে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় কর্মরত আনোয়ার হোসেন বলেন, মোটরবাইকে প্রতিদিন শ্যামলীর বাসা থেকে মিরপুর হয়ে কুড়িল চৌরাস্তায় চলাচল করতে হয় তাকে। কয়েক মাস ধরে মিরপুর এলাকায় এতই যানজট হচ্ছে যে, মোটরবাইকে চড়েও গন্তব্যে সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

    এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেসবাহুল ইসলাম বলেন, রমজানে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ বন্ধ ছিল। তবে প্রগতি সরণি ও রোকেয়া সরণি এলাকায় কাজ চলছে। এর জন্য আমরা ডিপিডিসি, তিতাস, ওয়াসাসহ সবগুলো সেবাদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বসেছি। তাদের সাত দিনের সময় বেধে দেওয়া হয়েছে। ঈদের পর পরই কাজ শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।

    ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, ঢাকা দক্ষিণাংশের মধ্যে শান্তিনগর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় বড় ধরনের উন্নয়নকাজ চলছে। বড় কাজ হওয়ায় শেষ করতে কিছুটা সময়ও লাগছে। তবে জনগণের ভোগান্তি লাঘবের বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। এ ছাড়া অন্যান্য সংস্থাকে এখন সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে না।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ 

    (Visited 19 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *