Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / অর্থ ও বাণিজ্য / রপ্তানি বাণিজ্যে ওষুধশিল্পের অগ্রগতি বাড়ছে – Songbad Protidin BD

রপ্তানি বাণিজ্যে ওষুধশিল্পের অগ্রগতি বাড়ছে – Songbad Protidin BD

  • ০৭-০৫-২০১৭
  • image-33129-1494124188সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদক: ওষুধশিল্পে বাংলাদেশের অগ্রগতি এখন আর রূপকথা নয়, বাস্তবতা। এটা শুধু দেশের চাহিদাই মেটাচ্ছে না, রপ্তানি বাণিজ্যের পালে দিন দিন হাওয়া জোরদার করছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে ওষুধ শিল্প। উন্নত অনুন্নত সব দেশেই সৃষ্টি হচ্ছে বাংলাদেশি ওষুধের বিশাল বাজার। আমেরিকা, ইউরোপসহ বিশ্বের ১৩০টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশের ওষুধ। প্রায় প্রতিমাসেই তালিকায় যোগ হচ্ছে নতুন নতুন দেশের নাম।

    বলা যায়, অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ওষুধ রপ্তানিতে বাংলাদেশ শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে। পাট চা চামড়া কিংবা হিমায়িত মৎস্য রপ্তানিতে দেখা দেয়া নানা সংকটের মাঝে ওষুধ খাতই দেশের অন্যতম একটি বড় রপ্তানি খাত হয়ে উঠছে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

    আশির দশকের প্রথম দিকে দেশে ওষুধ শিল্পের বিকাশ শুরু হয়। আর মাত্র ক’বছরের মধ্যে তা বিশাল এক সম্ভাবনা তৈরি করে। বর্তমানে দেশের চাহিদার প্রায় ৯৭ শতাংশ ওষুধ দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, পাবনা, খুলনাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ২৬৯টি ছোটবড় ওষুধ কারখানা রয়েছে। কারখানাগুলোর মধ্যে বেশ কিছু কারখানা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। বিশেষ করে স্কয়ার, বেক্সিমকো, গ্লাক্সো, রেনেটা, ইনসেপটা, হেলথ কেয়ার, এসকেএফ, সেনডোজসহ বেশ কিছু কারখানায় আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদিত হয়। এ ধরনের বিশ্বমানের ৪২টি ওষুধ কারখানাতে উৎপাদিত কোটি কোটি টাকার ওষুধ আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, জাপান, ইতালি, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সৌদি আরবসহ বিশ্বের ১৩০টি দেশে রফতানি হচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় আটশ’ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি হয়েছে।

    বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ২৬৯টি এলোপ্যাথিক ওষুধ প্রস্তুতকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ওষুধ কারখানায় বছরে ২৪ হাজার ব্র্যান্ডের বিভিন্ন ধরনের ওষুধ উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে বর্তমানে বছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ওষুধ ও ওষুধ তৈরির কাঁচামাল তৈরি হচ্ছে বলে ওষুধ প্রশাসনের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের বিকাশ খুবই আশাব্যঞ্জক মন্তব্য করে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, বিদেশে বাজার সৃষ্টিতে সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। সরকার বিদেশে ওষুধ রপ্তানির বাজার সম্প্রসারণে দেশীয় ওষুধ উৎপাদনকারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ ও মনিটরিং করছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বৈদেশিক মিশন, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সাথে যৌথভাবে সভা করে কর্মপন্থা নির্ধারণ করে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশ্বের নানা দেশে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ওষুধের বাজার সৃষ্টির কার্যক্রম চলছে। দেশের খ্যাতনামা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি নিজেদের প্রতিনিধিদের বিদেশে পাঠিয়ে ওষুধের বাজার সম্প্রসারণে কাজ করছে। সরকারি বেসরকারি এই উদ্যোগের ফলে প্রতি মাসেই বাড়ছে রপ্তানি। সম্প্রসারিত হচ্ছে রপ্তানি বাজার। বিশ্বের অনুন্নত এবং উন্নয়নশীল ৪৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ওষুধ রপ্তানিতে শীর্ষস্থান দখল করতে যাচ্ছে।

    বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত উল্লেখ করে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, চোখে পড়ার মতো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই খাতে। আগে আমরা ওষুধ আমদানি করতাম। এখন রপ্তানি করি। তাও আবার আমেরিকা ইংল্যান্ডের মতো দেশে আমাদের ওষুধ যাচ্ছে। দেশের বহু কারখানা বিশ্বমানের ওষুধ উৎপাদন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পৃথিবীর বহু দেশের সাথে প্রতিযোগিতা করে আমরা রপ্তানি বাজারে প্রবেশ করছি। ভবিষ্যতে আমাদের এই বাজার আরো সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

    ওষুধ রপ্তানির ব্যাপারে স্কয়ার গ্রুপের পদস্থ একজন কর্মকর্তা জানান, এক সময় পঞ্চাশ শতাংশেরও বেশি জীবনরক্ষাকারী ওষুধ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। এখন আমরাই জীবন রক্ষাকারী প্রয়োজনীয় প্রায় সব ওষুধই উৎপাদন করি। স্কয়ার ফার্মা একটি আন্তর্জাতিক মানের ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওষুধের মানের সাথে আমরা কোন আপোষ করি না। আমাদের উৎপাদিত ওষুধ আমেরিকা ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

    আমেরিকায় নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর ওষুধ প্রবেশের অনুমোদন দেয়া হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবগুলো পরীক্ষাই আমরা সফল। দেশের আরো কয়েকটি কোম্পানির ওষুধও আমেরিকায় যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশে এখন অনেক ভালো মানের ওষুধ উৎপাদিত হচ্ছে। এই খাত দেশের উন্নয়নে অনেক বড় একটি সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ জামাল উদ্দিন আহমেদ 

    (Visited 14 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *