Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ছবির হাট / মসজিদের নামে চাঁদাবাজী!

মসজিদের নামে চাঁদাবাজী!

  • ০৬-০২-২০১৬
  • chadabaji_19471

    নিজস্ব প্রতিবেদক:‘মসজিদ নির্মাণে দান করুন। এই দান বিফলে যাবে না। আল্লাহ’র রাস্তায় দান করিলে পাহাড় হইয়া রইবে। এই দানই কবরে স্বাক্ষী হইবে।’ এভাবে নানা কথা বলে মানুষকে ভুলিয়ে ভালিয়ে রাজধানীতে একটি চক্র মসজিদ নির্মাণের দোহাই দিয়ে চাঁদাবাজী করছে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, শুক্রবার সকাল ৮টায় যাত্রাবাড়ি থেকে তুরাগ পরিবহনে উঠেছেন নাজিম হোসেন নামে এক যুবক। উঠেই তিনি কুরআন শরীফের বিভিন্ন ছুড়া পড়া শুরু করেন। এর পরে নানা কৌশলে মসজিদের জন্য টাকা তোলেন। প্রথমে বলেন, মসজিদ নির্মাণের জন্য দান করুন। এই দান বিফলে যাবে না। কথাগুলো বলে লিফলেট দেন যাত্রীদের। এর পরেই দান করতে শুরু করেন যাত্রীরা। কেউ বেশি টাকা দিলে তাকে রশিদ দেন। বেশির ভাগ যাত্রীদের মসজিদ নির্মাণে দান করতে দেখা যায়।

    কথা হয় নাজিম হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, যাত্রাবাড়ী জামেদিয়া মসজিদ নির্মাণ কাজ চলছে। এই মসজিদ নির্মাণে দরকার দুই কোটি টাকা। নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে দানের টাকায়। শেষও হবে দানের টাকা দিয়ে। দানের টাকা সংগ্রহ করতে একটা টিম রয়েছে। সদস্য সংখ্যা ১০জন। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে অনুদান সংগ্রহের কাজ। দিনে গড়ে ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা অনুদান ওঠে।

    খোঁজ নিয়ে দেখা গেল যাত্রাবাড়ীতে জামেদিয়া মসজিদ নামে কোনো মসজিদ নেই। যাত্রাবাড়ী নুরানী মসজিদ ও মাদ্রাসার মোয়াজ্জেম আলী আহমেদ বলেন, এই চক্র গত কয়েক বছর ধরে প্রতিদিন এভাবে মসজিদের নামে চাঁদা আদায় করছে। তারা যে মসজিদের নাম ব্যবহার করে সেই নামে এ অঞ্চলে কোনো মসজিদ নেই। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে গেলে হয়রানীর শিকার হতে হয়।এ চক্র খুব শক্তিশালী।

    শুধু যাত্রাবাড়ী জামেদিয়া মসজিদ নামে নয়, পোস্তগোলা গিয়ে দেখা গেছে রসুলবাগ জামে মসজিদ ও আজিবপুর মসজিদের নামে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গাড়িতে উঠেই বলছেন মসজিদে দান করেন। এরমধ্যে মসজিদের একতলা নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় তলার কাজ চলছে। আপনাদের দানের টাকায় এই মসজিদ নির্মাণ শেষ করতে পারবো। গত পাঁচ বছর ধরে চাঁদা তুলে আসছে এই চক্র। এ অঞ্চলের নেতৃত্বে আছেন সুলতান আহমেদ ও নুর হোসেন নামে দু’জন। তারা যে মসজিদের কথা বলছেন ওই মসজিদ ১০ বছর আগে থেকেই এক তলা ভবন নির্মাণ করা আছে।

    কথা হয় আজিবপুর মসজিদের ইমাম মাওলানা জয়নাল ব্যাপারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, মসজিদের পক্ষ থেকে কয়েকবার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু এই চক্র থামছে না। তারা প্রতিদিনই চাঁদা আদায় করছে। এই চক্র প্রভাবশালী তাই তাদের কিছু বলাও যাচ্ছে না।

    গত সাত বছর ধরে রসুলবাগ জামে মসজিদের নামে চাঁদা আদায় করছেন এনামুল হক। তিনি বিবার্তাকে বলেন, সাত বছর ধরে চাঁদা তুলছি। যা আদায় হয় তা মসজিদের উন্নয়ন কাজে ব্যবহার করা হয়।

    প্রতিদিন গড়ে ৮হাজার টাকা আয় হয়। তা থেকে শতকরা ১০টাকা পাই। এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। কিন্তু এখনো একতলা কাজ শেষ হয়নি। যে টাকা আয় হয় তা থেকে ৫তলা মসজিদের কাজ শেষ হওয়ার কথা।

    শুধু যাত্রাবাড়ী, পোস্তখোলা নয়, বাড্ডা, গুলশান, হাতিরঝিল, মিরপুর, উত্তরাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মসজিদের নাম ব্যবহার করে প্রতিদিন চাঁদা তোলা হয়।

    (Visited 1 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *