Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ব্রেকিং নিউজ / ভাস্কর্য অপসারণে ক্ষুব্ধ সরকারের শরীকরা – Songbad Protidin BD

ভাস্কর্য অপসারণে ক্ষুব্ধ সরকারের শরীকরা – Songbad Protidin BD

  • ২৬-০৫-২০১৭
  • 14dolসংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ  সুপ্রিম কোর্টের সামনে থেকে ভাস্কর্য অপসারণের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় জোটের শরীকরা। তারা ঘটনাটিকে হেফাজতকে সরাসরি রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়ার শামিল বলে মনে করছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি আরও কঠিন পরিস্থিতির সুযোগ করে দেবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। ভাস্কর্যটি স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছিল হেফাজতে ইসলাম, ওলামা লীগসহ ইসলামী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলো।

    তবে শুরু থেকেই সরকারের শরীক দলগুলোর মধ্যে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, সাম্যবাদী দলের শীর্ষ নেতারা ভাস্কর্যটি রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। দুই পক্ষের মতবিরোধের মধ্যেই ইসলামী দলগুলোর দাবি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাতে ভাস্কর্যটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

    এর প্রতিবাদে বাম রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বৃহস্পতিবার রাত থেকেই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। আর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন সরকারের জোটসঙ্গীরাও।

    ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া সংবাদ প্রতিদিন বিডিকে বলেন, ভাস্কর্যটি না সরালে ভাল হতো। ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে ভাস্কর্যটি স্থাপনের পর, সেটি না সরানোই ছিল যুক্তিসঙ্গত।

    এ ঘটনায় সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে মন্তব্য করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, এর ফলে সরকারের অহেতুক ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। যাদের জন্য এই কাজটি করা হয়েছে, তারা কোনকালেই সরকারের সঙ্গে ছিল না। এবং ভবিষ্যতেও তারা সরকারের সঙ্গে থাকবে না। এটি ঠিক হয়নি।

    ভাস্কর্য অপসারণে ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৪ দলের আরেক শরীক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর সভাপতি শরীফ নুরুল আম্বিয়া সংবাদ প্রতিদিন বিডিকে বলেন, যে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে, সেটি আমাদের অপছন্দের। এই সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ার সাথে যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়েছে বলে আমরা মনে করি না।

    এই সিদ্ধান্তটি দেশের সংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্য বড় ধরনের আঘাত হিসেবেই দেখছেন আম্বিয়া।

    জোটের অন্যতম শীর্ষ এই নেতা বলেন, এতে মুক্তিযোদ্ধারা কষ্ট পাবে। হেফাজত ও তাদের সঙ্গীদের মাথায় তুলে যে প্রশ্রয় দেওয়া হলো, তা আমাদের কালচারাল ফিল্ডের স্বাধীনতার উপর একটি বড় আঘাত।

    তিনি বলেন, এরা এখানে থেমে থাকবে না। এখন তো বলছে সালাম ফিরাতে অসুবিধা হয়, এই অবস্থাটা এখন অন্যান্য সব জায়গায় বিস্তৃত হবে। এই সিদ্ধান্তটা আসার কারণ হল, তাদের যে রাজনৈতিক প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে; সেটিই এই ডিসিশনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে এসেছে।

    শরীফ নুরুল আম্বিয়া বলেন, আমরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি। কারণ এই সিদ্ধান্তটি ঠিক হয়নি। এর ফলে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যে স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা তা আঘাতপ্রাপ্ত হবে। এর ফলে নতুন যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হল, তা প্রতিরোধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষে যারা আছেন তাদের ঐক্যবদ্ধ ও সতর্ক হয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

    ভাস্কর্য অপসারণের এই সিদ্ধান্ত জনমনে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে বলে মনে করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা।

    ১৪ দলীয় জোটের শীর্ষ এই নেতা সংবাদ প্রতিদিন বিডিকে বলেন, এটি মোটেও যুক্তিসঙ্গত না। এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে এই ধরণের মনোভাব সৃষ্টি করা হলো যে, ভাস্কর্য কোনো ভাল জিনিস না। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

    এ ঘটনায় সরকারের উপর হেফাজতে ইসলামের প্রভাবের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি বলতে চাই না। তবে এ ধরণের কর্মকাণ্ড ঠিক না।

    ভাস্কর্য অপসারণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে জানিয়ে বাদশা বলেন, এটি দেশের ভিতরে যে সংস্কৃতির জন্ম দেবে, সেটা হবে নেতিবাচক। যা কোনো সভ্য জগতে এটা প্রযোজ্য না। এটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না, সংবিধানের সাথেও যায় না।

    তবে এ ঘটনার দায় সুপ্রিম কোর্টের জানিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় কোনো মন্তব্য করতে চাননি গণতান্ত্রিক পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন।

    সরকারদলীয় জোটের এই নেতা সংবাদ প্রতিদিন বিডিকে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ এটি অপসারণ করেছে, আবার হয়তো অন্য কোথাও স্থাপন করবে।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ আহসান আলামিন 

    (Visited 24 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *