Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / সারাবাংলা / খুলনা / বেনাপোল পোর্ট থানার কোটিপতি এসআই নুরে আলম ক্লোজড – Songbad Protidin BD

বেনাপোল পোর্ট থানার কোটিপতি এসআই নুরে আলম ক্লোজড – Songbad Protidin BD

  • ০৬-০৫-২০১৭
  • SI-Nuralom20170506120752যশোর প্রতিনিধিঃ  যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানার এসআই নুরে আলোমকে অবশেষে জেলার পুলিশ লাইনসে ক্লোজড হয়েছে।

    পুলিশের এ কর্মকর্তা দীর্ঘ পাঁচ বছর বেনাপোল পোর্ট থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায় নানা অপারাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। সেখানে দীর্ঘ দিন চাকরি করার সুবাদে তিনি বেনাপোল বন্দরের পাশে বড়আঁচড়ায় দেড়কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল একটি বাড়িও করেছেন।

    বেনাপোল এলাকায় এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে আটক করে ফেনসিডিল, ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়া ও ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ারও অভিযোগ রযেছে।

    এ কর্মকর্তা গত মঙ্গলবার তিন ভারতীয় পাসপোর্টধারী যাত্রীকে আটক করে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা না দিলে তাদের ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার ভয়ভীতি দেখান। এক পর্যায়ে ওই যাত্রীরা নুরে আলমের কাছ থেকে রক্ষা পেতে দুইলাখ ৬০ হাজার টাকা দেন। ছাড়া পাওয়ার পর ওই তিন ভারতীয় নাগরিক বিষয়টি লিখিতভাবে যশোর পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেন এবং বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনারকেও বিষয়টি লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

    একপর্যায়ে যশোর পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে নুরে আলমকে বেনাপোল পোর্ট থানা থেকে জেলার পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয় বলে বিশেষ একটি সূত্র জানিয়েছে।

    নুরে আলমকে ক্লোজ করার বিষয়টি প্রাথমিকভাবে চাপা থাকলেও শুক্রবার রাতে তা পোর্ট থানা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে নুরে আলমের ক্লোজ হওয়ার খবর শুনে মিষ্টি বিতরণ করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

    কলকাতার বাসিন্দা নারায়ণ বিশ্বাস (ভারতীয় পাসপোর্ট নম্বর-জেড-৪০৩৫১৬৪) ও তার স্ত্রী শেফালি বিশ্বাস (পাসপোর্ট নম্বর-জেড-৩৯৯০৭৯৩), বাসুদেব ঘোষ (পাসপোর্ট নম্বর পি-৫১০৪৫০৭) এবং তরুণ রায় (পাসপোর্ট নম্বর জেড-৪০৩৫৭০৩) জানান, মঙ্গলবার দুপুরে তাদের তিনজনকে বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করেন এসআই নুরে আলম। তাদের ইয়াবা দিয়ে চালান দেয়ার ভয় দেখিয়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে জেল-হাজত এড়াতে দুই লাখ ৬০ টাকা দিয়ে নুরে আলমের কাছ থেকে তাদের মুক্তি মেলে।

    কলকাতার রপ্তানিকারক আলী হোসেন কবির (পাসপোর্ট নম্বর জেড-৪০৩৭৮৪২) জানান, বুধবার বেনাপোল বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে আটক করা হয়। তাকের পোর্ট থানায় নিয়ে ইয়াবা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা আদায় করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। এসআই নুরে আলমের হাত থেকে মুক্তি পেয়ে তারা সবাই যশোরে এসে এক আত্মীয়ের কাছে আশ্রয় নেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আলী হোসেন কবির পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর ওই রাতেই তাকে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়।

    এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে নুরে আলমের কোটিপতি হওয়ার বিভিন্ন রহস্য। নুরে আলম ২০১২ সালে বেনাপোল পোর্ট থানায় বদলি হয়ে আসেন। এর পর থেকে বেনাপোলের বিভিন্ন এলাকায় ঢুকে সাধারণ মানুষকে আটক করে কাউকে জঙ্গি, কাউকে ইয়াবা ব্যবসায়ী ও কাউকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি নিজেও বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এর ফলে তিনি রাতারাতি কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যান।

    তিনি বেনাপোলে ১২ কাটা জমির ওপরে বিরাট বাড়ি তৈরি করেছেন। এছাড়া তার নিজ এলাকায় বরিশালে রয়েছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। তার নামে-বেনামে ব্যাংকে রয়েছে কয়েক কোটি টাকা। বেনাপোল পোর্ট থানায় পাঁচবছর অবস্থানকালে তার দ্বারা অত্যাচারিত মানুষ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। বেনাপোল থেকে শুক্রবার রাতে ক্লোজ হওয়ার পর সেই সব অত্যাচারের কথা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে।

    নির্যাতিত সাধারণ মানুষ এ কর্মকর্তার ভয়ে তখন কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। শুক্রবার নুর আলমের ক্লোজের সংবাদে সীমান্তের কাগজপুকুর, ভবারবেড় ও চেকপোস্ট এলাকায় মিষ্টি বিতরণ হয়েছে।

    মুঠোফোনে বিষয়টি জানতে এসআই নুরে আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, দু’দিন আগে তাকে পুলিশ লাইনসে বদলি করা হয়েছে। কিন্তু কী কারণে বদলি হয়েছেন তা জানতে চাইলে তিনি ফোনটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

    বিষয়টি নিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার নিউজবাংলাদেশকে বলেন, “আমি ছুটিতে আছি। তাই বলতে পারবো না। আমি অফিসে আসলে কাগজপত্র দেখে বলতে পারবো তাকে ক্লোজ করা হয়েছে কিনা?

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ বাহারুল আলম 

    (Visited 12 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *