Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / Slide Show / বিয়েতে রাজি, তবে ৫ লাখ টাকা যৌতুক চান বিমান বাহিনীর রাশেদুল

বিয়েতে রাজি, তবে ৫ লাখ টাকা যৌতুক চান বিমান বাহিনীর রাশেদুল

  • ২৬-০৭-২০১৬
  • 20hghgবিয়ের কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে উধাও। এরপর ঘটনা ফাঁস হয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর গলা নরমের সুর। বিষয়টি কিছুটা শান্ত হতেই এবার বিয়ের জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে বসেছেন বিমান বাহিনীতে কর্মরত প্রেমিক রাশেদুল।

    এমনই অভিযোগ করেছে মেয়েটির পরিবার।

    এর আগে গত ১০ জুলাই রাশেদুল কড্ডার মোড় নিজবাড়ীতে আব্দুল আজিজের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আছিয়া খাতুনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বাড়িতে ডেকে আনেন। বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে আছিয়াকে বাসায় রেখে উধাও হয়ে যান রাশেদুল। দীর্ঘ ১০ দিন প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিলেও রাশেদুলের খোঁজ পাননি আছিয়া।

    এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি বিমান বাহিনীর কিছু কর্মকর্তার নজরে পড়েছে। রাশেদুলের কর্মস্থলে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। রাশেদুলও ব্যাপারটি নিয়ে লজ্জিত হোন। এরপর ‘চাকরি বাঁচাতে’ ফের আছিয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিয়ের প্রস্তাবও পাঠান। তবে সঙ্গে জুড়ে দেন ৫ লাখ টাকা যৌতুকের শর্ত।

    আছিয়ার দাদু বলেন, ‘গতকাল রোববার (২৫ জুলাই) রাতে রাশেদুল তার তিনবন্ধু সাগর, রাশিদুল ও সোহাগকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে পাঠান। তারা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসে ৫ লাখ টাকা যৌতুকও দাবি করেন এবং টাকা নগদ পরিশোধ করার কথা উল্লেখ করে।’

    তিনি জানান, মেয়েপক্ষ তাদের প্রস্তাবে সাড়াও দেয়। কিন্তু টাকা চেকের মাধ্যমে পরিশোধ করতে চায়। কিন্তু তাতে রাজি না হয়ে ফেরত চলে যায় রাশেদুলের তিন বন্ধু।

    এদিকে ঘটনার পর গ্রামের মুরুব্বিরা রাশেদুলকে শতাধিকবার ফোন করেও প্রথমে কোনো সাড়া না পেলেও গত শনিবার বিকেলে এ বিষয়ে গ্রামের এক মুরুব্বির সঙ্গে কথা বলেন রাশেদুল। এই মুরুব্বি বলেন, ‘আগে আমি অনেকবার ফোন করেছি কিন্তু রাশেদুল ধরেনি। আজ সে ফোন ধরেই বিনয়ের সাথে কথা বলেছে। সে এও বলেছে, আমাকে নিয়ে অনলাইনে নিউজ হয়েছে। বিষয়টি আমার অফিসের অনেকেই জেনে গেছে। এভাবে জেনে গেলে আমার চাকরি নিয়ে সমস্যা হবে।’

    এরপর রাশেদুল এই মুরুব্বিকে বলেন, ‘আমি অফিস থেকে বের হয়ে আপনার সঙ্গে কথা বলবো শুক্রবার বিকেলে।’ সেই হিসেবেই রাশেদুল তার তিন বন্ধুকে পাঠান মেয়ে পরিবারের এক মুরুব্বির কাছে।

    ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় রাশেদুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগী আছিয়ার পরিবার।

    জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই রফিক বলেন, ঘটনাটি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে, মিমাংসা হতে পারে।

    এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের মুরুব্বিরা সালিশ করে একটি সালিশনামা দিয়েছে আছিয়ার পরিবারকে। তাতে সর্বসম্মতিক্রমে রাশেদুলকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এবং সুপারিশ করা হয়েছে আছিয়ার পরিবার চাইলে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

    রাশেদুল ও আছিয়া সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সায়দাবাদ ইউনিয়নের কড্ডার মোড় এলাকার বাসিন্দা। রাশেদুল বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর ঢাকা কুর্মিটোলা এল. আই. সি ৪০ এ কর্মরত। সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী আছিয়া খাতুনেরে সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেমিকের ছদ্মবেশে রাশেদুল গভীরভাবে মেলামেশা করতো বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

    রাশেদুল ইসলাম প্রতি বছরের নিয়মিত এক মাসের ছুটিতে বাড়ি যান। ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১০ জুলাই কড্ডার মোড় নিজবাড়িতে আব্দুল আজিজের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে আছিয়া খাতুনকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ডেকে আনেন। দু’জনকে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করতে দেখেন স্থানীয়রা। তখন তাদের প্রেমকাহিনিও প্রকাশ পায়। বিষয়টি নিয়ে মাতব্বররা উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু রাশেদুলের পরিবার ছেলের প্রেমকাহিনি অস্বীকার করলে বেঁকে বসে আছিয়া। বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেন গ্রামের মাতব্বররা।

    আছিয়া বলেন, আমার কাছে বেশ কিছু প্রমাণ আছে। ভিডিও কলসহ বিভিন্ন সময়ে মোবাইলে কথা বলার রেকর্ডিং ও ছবি আছে।

    এদিকে, আছিয়ার চাচা আব্দুর রাজ্জাক জানান, বিষয়টি সম্পর্কে সবস্তরের মানুষ এখন ভালোভাবে জানে যে রাশেদুল ইসলাম প্রেমের প্রতারণায় ধরা পড়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে অবস্থান করছে। সরকারি চাকরি করে এ ধরনের এমন অসামাজিক ঘটনা নজিরবিহীন। বিষয়টি মীমাংসার জন্য রাশেদুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ হয়ে কোনো একটি মহল আমাদের ৫ লাখ টাকা দেয়ার কথা মোবাইল ফোনে জানান। আমি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকার করে দেই। এই বিষয়টি আমি প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন মহলের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।

    বিষয়ে বক্তব্যের জন্য একাধিকবার চেষ্টা করেও রাশেদুলের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

    (Visited 1 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *