Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফেনী / ফেনী সদর হাসপাতালে যথাসময়ে চিকিৎসকরা আসেন না- songbadprotidinbd.com

ফেনী সদর হাসপাতালে যথাসময়ে চিকিৎসকরা আসেন না- songbadprotidinbd.com

  • ২৫-১১-২০১৬
  • feni-haspatal-2-450x237ফেনী প্রতিনিধিঃ ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে রোগীদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ফেনী ২৫০ শয্যার আধুনিক সদর হাসপাতালে ২৫ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে ১৯টি পদ ও কনসালটেন্ট ১৮টি পদের মধ্যে ছয়টি, নার্স ৮৭ পদের মধ্যে ৩০টি পদ শূন্য রয়েছে। হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ফেনী সিভিল সার্জনের অফিস আদেশে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ১০ জনকে সংযুক্তি দেওয়া হলেও চারজন ট্রেনিংয়ে চলে গেছেন। যে কজন বর্তমানে হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন, তাঁরাও যথাসময়ে নিয়মিত হাসপাতালে আসেন না। কনসালটেন্টরা যার যার ইচ্ছামতো হাসপাতালে আসেন আর যান। ফলে ডাক্তার দেখাতে না পেরে দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মাসের পর মাস এসব অনিয়ম চললেও দেখার কেউ নেই্।

    সদর থানার বালুয়া চৌমুহানীর আজিজুল হক জানান, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আবিদা সুলতানাকে ফেনী সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু জুনিয়র কনসালটেন্ট তাহিরা খাতুন রোজী তাঁকে হাসপাতালে চিকিৎসা না দিয়ে তাঁর প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন এবং সেখানে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করে মোটা অঙ্কের টাকা নেন।

    এ ব্যাপারে আজিজুল হক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তিনি তাঁর অভিযোগে জানান, ডা. তাহিরা খাতুন রোজী একইভাবে প্রতিদিন এভাবে হাসপাতাল থেকে তাঁর প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী ‘ভাগিয়ে’ নিচ্ছেন।

    ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. অসীম কুমার সাহা জানান, তিনি অভিযোগটি পেয়েছেন।

    হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানায়, বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে সংযুক্তি নিয়ে ডা. গোলাম মোস্তফা, ডা. সাজ্জাদ ও ডা. রাজীব বিশ্বাস যথাসময়ে হাসপাতালে আসেন না। সূত্র আরো জানায়, ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে হবিগঞ্জ উপজেলায় বদলি হয়েছেন চিকিৎসক গোলাম মাওলা। কিন্তু তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ আদেশ ২২ মাস গোপন করে ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে বেতন-ভাতা নিচ্ছিলেন। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে বিষয়টি ধরা পড়ে। ফেনী সদর হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. সারওয়ার জাহান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

    একইভাবে ডা. আজিজ উল্লাহর বদলির আদেশ প্রায় দুই মাস হাসপাতালের ফাইল থেকে গায়েব করে ফেলা হয়। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আরএমও ডা. অসীম কুমার সাহা।

    হাসপাতালে চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এবং মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অপেশাদারসুলভ সম্পর্ক রয়েছে। এটিও হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার কারণ। ফেনী ছাড়া কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, নোয়াখালীর বসুরহাট, সেবারহাট, চট্টগ্রামের মীরসরাই, খাগড়াছড়ির রামগড় এলাকার মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।

    চিকিৎসকদের যথাসময়ে উপস্থিত থেকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় লোকজন।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ ইকবাল আহমেদ / 

    (Visited 32 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *