Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / ফেনী / ফেনীর ঈদ বাজার মাতাচ্ছে ‘হুররাম সুলতান ও বাহুবলী – Songbad Protidin BD

ফেনীর ঈদ বাজার মাতাচ্ছে ‘হুররাম সুলতান ও বাহুবলী – Songbad Protidin BD

  • ২১-০৬-২০১৭
  • 1497970071ফেনী বিশেষ প্রতিনিধিঃ  ফেনী জেলায় ঈদের কেনাকাটা বেশ জমে উঠেছে। আর বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতা উপস্থিতি এবং বিক্রি বাড়ায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন বিক্রেতারা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে কিছু শপিং কমপ্লেক্সে লাকি কুপণের আয়োজন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
    ঈদের কেনাকাটার উদ্দেশ্যে প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন বাজারে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ভিড় জমাচ্ছে। বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, ঈদের কেনাকাটায় ব্যস্ত সব শ্রেণির মানুষ। ভীড় জমাচ্ছেন মার্কেটগুলোতে। বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারছেন।
    সবচেয়ে বেশি ভীড় লক্ষ্য করা গেছে গ্র্যান্ড হক টাওয়ারে। এবার ঈদের পোশাক হিসাবে মেয়েদের কাছে বেশি পছন্দ সারারা, বাজিরাও মাস্তানী। ছেলেদের পছন্দ আড়ংয়ের পাঞ্জাবী, সুলতান, কেজুয়াল, কিউজি, বোম্বে শেরওয়ানি, জিন্স প্যান্ট ক্যান্ডি, বাজরাঙ্গি ভাইজান, আরমানি, ওয়েস্টার্ণ, ডেসকট, বার্সেস। শার্টের মধ্যে প্রিন্ট ও বিভিন্ন ডিজাইনের কদর ও রয়েছে। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, গত বছরের চেয়ে এবছর জামাকাপড়ের দাম বেশি। শহরের কলেজ রোডে শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতান (শহীদ মার্কেট), পোস্ট অফিস রোডে ফেনী সেন্টার, মিজান রোডে গ্র্যান্ড হক টাওয়ার, জুম্মা শপিং সেন্টার, তমিজিয়া শপিং কমপ্লেক্স, ট্রাংক রোডে জহিরিয়া টাওয়ার, শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কে এফ রহমান এসি মার্কেট, মহিপাল প্লাজা, ট্রাংক রাডের সুপার মার্কেট, গ্রিন টাওয়ার, ফেনী প্লাজা, রোকেয়া শপিং সেন্টার, ইব্রাহিম হোসেন মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, ফেনী নিউ মার্কেট, লাভ মার্কেট, আলী আহম্মদ টাওয়ার, আলম মার্কেট, জগন্নাত বাড়ী মার্কেট, আহম্মদ প্লাজা, এসকে সুপার মার্কেট, জে.সি টাওয়ার, সওদাগর পট্টি, খদ্দর পট্টি. গুলশান মার্কেটসহ শহরের বিভিন্ন অলিগলি সড়কে রয়েছে রকমারি সাজের দোকানপাট। গ্র্যান্ড হক টাওয়ারের এক ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে রাখা একটি ভারতীয় সারারা নামের মেয়েদের পোশাকের দাম প্রকার ভেদে পাঁচ হাজার টাকা থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তিনি জানান, তার দোকানে দেশিয় পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাকের কদর বেশি।
    অপরদিকে জুম্মা শপিং সেন্টারের এক ব্যবসায়ী বলেন, এবার ভারতীয় পোশাকের তুলনায় দেশিয় হাতের কাজ করা থ্রি-পিস, টাঙ্গাইল শাড়ী, বেনারসী কাতানের কদর বেশি। তাছাড়া গরমের কারণে সুতি কাপড়ের চাহিদা বেশি। বেচাকেনাও বেশ ভালো হচ্ছে।
    এদিকে বিপনী বিতান ও শপিং মলগুলোতে ক্রেতাদের সমাগম বাড়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছে বিক্রেতারা। তবে রোজার মাঝামাঝি ক্রেতা খরা ঘুচেছে মার্কেটে। মানুষ শুধু দেখতে আসছে না। পছন্দ ও দামে মিললে পণ্য কিনে নিচ্ছে। সামনে আরো বিক্রি বাড়বে বলে তাদের আশা। এ অবস্থায় এত দিন অনেকটা অলস সময় কাটালেও বর্তমানে কথা বলারও ফুরসত নেই বিক্রেতাদের।
    এদিকে পাখি, কিরণমালা, বাজিরাও মাস্তানির পর এবারের ঈদে তরুণীদের পোশাকের বাজার মাতাচ্ছে হুররাম সুলতান ও বাহুবলী-২। জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল সুলতান সুলেমানের জনপ্রিয় চরিত্র হুররাম সুলতান ও বাহুবলী-২ বলিউডি সিনেমার নায়িকার পোশাক অনুসারেই এসব নামকরণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঈদের পোশাকের তালিকায় রয়েছে সারারা, সরকার থ্রি-পিস সহ আরো সব বাহারি নাম।
    তবে ক্রেতারা বলছেন, এসব নাম শুধুই ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য। বিশেষ কোনো ডিজাইন অনুসারে এ নামকরণ করা হয়নি। আর বিক্রেতারা বলছেন, সিনেমা, সিরিয়াল দেখে ক্রেতাদের মধ্যে এক ধরণের পোশাকের প্রতি মানুষের দুর্বলতা তৈরি হয়। সেই প্রবণতা থেকেই পোশাক তৈরি ও বিক্রির ক্ষেত্রে নামকরণের বিষয়টি মাথায় রাখা হয়।
    বিক্রেতারা আরো বলেন, এবার ঈদ ফ্যাশন হিসেবে গাউন ধরণের পোশাক মেয়েরা বেশি পছন্দ করছে। বাজারে এ ধরণের  পোশাক হুররাম, বাহুবলী-২ নামেও পরিচিতি পাচ্ছে। গাউনের পাশাপাশি লেহেঙ্গা ধরণের পোশাকেও নজর দিচ্ছে  মেয়েরা। এগুলোকে সারারা বলা হচ্ছে।
    এদিকে ছোটদের পোশাকের দামও বেশ চড়া বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। সজিব চৌধুরী নামের এক ক্রেতা বলেন, দোকানে গিয়ে পোশাকের নাম শুনেই মাথা ঘুরে যায়। একই  পোশাকের নাম একেক দোকানে একেক রকম। ছোটদের আকৃষ্ট করতে বিক্রেতারা এসব নামের আশ্রয় নেয়। কিন্তু এতে ক্ষতি আমাদেরই হয়। আর এ বছর জামার দাম অনেক বেশি। তাই পছন্দসই পোশাক কিনতে অনেক হিমশিম খেতে হচ্ছে।
    গ্র্যান্ড হক টাওয়ারে যুবকদের বেশি ভীড় দেখা গেছে। এ দোকানে পাঞ্জাবী, শার্ট, টিশার্ট, জিন্স প্যান্ট, জুতা-স্যান্ডেল সবই পাওয়া যাচ্ছে। জিনিসপত্র হাতে একাধিক ক্রেতার সাথে কথা বলে জানা যায়-পছন্দ করার মত কোয়ালিটি সম্পন্ন মাল রয়েছে দোকানে। দামও কিছুটা  সহনীয় বলেই মনে হচ্ছে।
    আলী আহম্মদ টাওয়ারের বিক্রেতা আলী আজিম বলেন, গত বছরের মত এ বছর পাখি, কিরণমালা, ফ্লোরটাচ ও গর্জিয়াসের এ বছর তেমন কোনো চাহিদা নেই। পুরানো কাপড়গুলি পড়ে রয়েছে। তবে হাতের কাজ সম্পন্ন পোশাকের চাহিদা ও দাম একটু বেশি বলে জানায় ক্রেতারা।
    ছেলেদের সুলতান, ক্যাজুয়েল, বাহুবলী, বাজরাঙ্গি ভাইজান নামের পাঞ্জাবী এবার ঈদে বেশি চলছে। যার মূল্য প্রকার ভেদে ৭০০ টাকা থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।
    শাড়ী জামাকাপড়সহ পোশাকের পাশাপাশি জুতা সেন্ডেল এবং নানা জাতের প্রসাধনীর দোকানেও ভালো বেচাকেনা চলছে। তবে জুতার দোকানে এখনো তেমন ভীড় নেই বললেই চলে।

    (Visited 12 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *