Templates by BIGtheme NET
Home / Slide Show / নৌকা যে ডুবে গেছে আওয়ামী লীগ তা বুঝতে পারছেন না: খালেদা জিয়া – Songbad Protidin BD

নৌকা যে ডুবে গেছে আওয়ামী লীগ তা বুঝতে পারছেন না: খালেদা জিয়া – Songbad Protidin BD

  • ১৮-০৬-২০১৭
  • image-39112সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ ‘নৌকা যে ডুবে গেছে আওয়ামী লীগ তা বুঝতে পারছেন না’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানের ইমানুয়েলস হোটেলে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল পূর্ব আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, নিজেরা হেলিকপ্টারে বিভিন্ন জায়গায় উদ্বোধনের নামে যাচ্ছেন, কিছু উদ্বোধন করছেন। আর সেখানে ওরা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের নামে নৌকার পক্ষে ভোট চাচ্ছেন। নৌকা যে ডুবে গেছে- এটা বুঝতে পারছেন না। এই নৌকা ডুবে গেছে, এই নৌকাকে আর আপনার হাজার লোক দিয়ে টেনেও তুলতে পারবে না।

    নৌকার সঙ্গে যাদের রেখেছেন, আশ-পাশে যারা আছে, আপনার ডানে-বায়ে যারা আছে, যারা অন্য দল করে আপনার দলে এসেছে-তারা কী জিনিস। আপনি কিন্তু নিজেই বলে দিয়েছেন তারা কী খায়, কী রকম তাদের লাইফ স্টাইল। এসব লোককে দিয়ে দেশের কিছু হবে না, এরা দেশের কিছু করতে পারে না। আপনিও পারবেন না।

    নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনে দাবি পূনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি বলব একটা নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনুন। সেই নির্বাচন হতে হবে সহায়ক সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। কোনো দল অংশ গ্রহণ করবে না। হাসিনাকে বাদ দিতেই হবে, ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতেই হবে।

    খালেদা জিয়া বলেন, আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার ভোট দিতে যাবে। সকলে এটা চায়, সারা পৃথিবীর মানুষ এটা চায়। ইনশাল্লাহ বাংলাদেশে এই নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনের ফলাফল আপনারা বুঝতে পারবেন, ইনশাল্লাহ বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট জিতে এসে এদেশের মানুষকে যা যা ওয়াদা করেছি আমরা আমাদের ভিশন ২০৩০ এ। সব কিছু করবো, আরো কিছু করার আছে, সেটাও করবো।

    তিনি বলেন, সামনে ঈদ। এই ঈদের মানুষ দেশে যায়। দেখেছেন রাস্তাঘাটের যে দুরাবস্থা। গতকাল পত্রিকায় ছবি দিয়েছে পাঁচ ঘন্টার রাস্তা ১০ ঘন্টায় অতিক্রম করতে হচ্ছে। আর যানজট থাকলে ১৫-২০ ঘন্টা লেগে যায়। মহাসড়কে পাবলিক টয়লেট করা উচিৎ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    পাবর্ত্য জেলায় পাহাড়ধসে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে যেভাবে ভূমিধসে মানুষগুলো মারা গেলো, তাদের উদ্ধার করা, তাদের পূর্ণবাসনে বর্তমান সরকারের কোনো চিন্তাভাবনা আমরা দেখছি না। কোনো দায়িত্ববোধও দেখছি না। জনগণের নয়, আওয়ামী লীগের প্রধানমন্ত্রী বিদেশ ভ্রমনে ব্যস্ত। যেখানে চট্টগ্রামের রাঙামাটিতে ঘটনা ঘটলো ১০টা কত মিনিটে ঘটলো, সেটা জানার পরও বেলা ১২টায় কত মিনিটে হাসিনা দেশ ত্যাগ করলেন। কেন? দেশে এতো বড় ঘটনা, এখন পর্যন্ত ১৫২ জন মারা গেছে, আরো হয়ত মারা যাবে কিংবা অনেকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এতো বড় ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী কিভাবে বিদেশে যান। এটা কী জনগনের প্রতি তার (শেখ হাসিনা) দায়িত্ববোধ? আজকে (শনিবার) তিনি দেশে ফিরেছেন। এসে মায়াকান্না দেখাবেন হয়তো।

    চালের মূ্ল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, চালের দাম যে এতো বৃদ্ধি হয়েছে তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার, কেনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।দেশের মানুষ সবচেয়ে নিম্নমানে মোটা চালের দাম হলো ৫০ টাকা কেজি। এছাড়া সব জিনিসের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির দাম বেড়েছে।

    প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনও করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা‘র প্রয়াত সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়।

    গত ২১ মে প্রধান মারা যান। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা খালেদা জিয়াসহ জোট নেতারা মোনাজাতে অংশ নেন।

    জাগপার সভানেত্রী রেহানা প্রধানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় জোট নেতাদের মধ্যে জাতীয় পার্টি( কাজী জাফর) মোস্তফা জামাল হায়দার, জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, এলডিপির রেদোয়ান আহমেদ, কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, খেলাফত মজলিশের আহমেদ আবদুল কাদের, এনডিপি‘র খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তাজা, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের অ্যাডভোকেট এমএ রকীব, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন বক্তব্য দেন।

    (Visited 16 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *