Templates by BIGtheme NET
শিরোনামঃ
Home / বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি / বাংলাদেশে সুপার কম্পিউটার স্থাপনের কাজ করছি : পলক – Songbad Protidin BD

বাংলাদেশে সুপার কম্পিউটার স্থাপনের কাজ করছি : পলক – Songbad Protidin BD

  • ১০-০৫-২০১৭
  • image-33521সংবাদ প্রতিদিন বিডি প্রতিবেদকঃ ‘দেশে নানা ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি গবেষণা বেগবান করতে বাংলাদেশে সুপার কম্পিউটার স্থাপনের ব্যাপারে আমরা কাজ করছি। এর ফলে গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশেই তৈরির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আজকে যারা প্রোগ্রামিংয়ে ভালো করছে তাদের জন্য কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে।’

    মঙ্গলবার বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী ন্যাশনাল গার্লস প্রোগ্রামিং কনটেস্ট ২০১৭ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

    পলক বলেন, ‘দেশে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের সুপার কম্পিউটার নাই। আজকে সকালেই তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী এবং তার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে দু-এক দিনের মধ্যে পরামর্শ করে খুব শিগগিরই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সুপার কম্পিউটার কেনা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘এই কম্পিউটার দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ বিভিন্ন গবেষণার ডেটা অ্যানালিসিস করা হবে। এটি কালিয়াকৈরহাইটেক পার্কে স্থাপন করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনাল করা হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে মোট ১৬ কোটি মানুষ রয়েছে। এর মধ্য থেকে যদি ৮ কোটি মানুষ মূল অর্থনৈকি কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকে আর ৮ কোটি মানুষ যদি সম্পৃক্ত না থাকে তাহলে কী দেশীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হতে পারে? তাহলে দেশকে শক্তিশালী করতে হলে ২০২১ সাল নাগাদ ডিজিটাল মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পরিণত করতে হলে আমাদের নারীদের সব কিছুতে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।’

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এখন তারা কী শ্রমনির্ভর অর্থনীতি না মেধানির্ভর অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করবে? বর্তমানে সারাদেশে চার কোটি ২৬ লাখ ছাত্রছাত্রী পড়ালেখা করছে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, কলেজে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। এখন তাদেরকে আমরা কী শিক্ষা দেব?’

    পলক বলেন, ‘সারাবিশ্বে এখন প্রযুক্তি বিপ্লব চলছে। রোবট, মেশিন লার্নিং, বিগডাটা অ্যানালিসিস, ক্লাউড কম্পিউটিং এসব বিষয় নিয়ে পুরো বিশ্বে একটা বিরাট পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। আমরা বাংলাদেশ কী সেখানে পিছিয়ে থাকবো না খাপ খাইয়ে চলবো।’

    পলক আরও বলেন, ‘আমরা যদি মেধানির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাই তাহলে আমাদের অংক এবং বিজ্ঞানের পাশাপাশি অবশ্যই প্রোগ্রামিংটা শিখতে হবে। প্রোগ্রামিং শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সমস্যা সমাধানের পথই দেখায় না। প্রোগ্রামিং আমাদের তরুণ প্রজন্মের চিন্তা শক্তির প্রসার ঘটায়। তরুণদের একটা সমস্যা সমাধানের ভিন্ন ভিন্ন প্রক্রিয়া দেখায়। এতে তারা নতুন কিছু শিখতে পারে।’

    তিনি বলেন, ‘আগে বাবা-মা, স্কুলের শিক্ষরা বলতেন, তুমি যদি ভালো করে বিজ্ঞান পড়ো, ভালো করে অংক কর তাহলে জীবনে সফল হতে পারবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে আমাদের সন্তানেরা বিজ্ঞান ও অংকের পাশাপাশি যদি কোডিং ভালোভাবে না শেখে, না জানে তাহলে কিন্তু কোনো কিছুতেই সফল হওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা এই প্রোগ্রামিংটাকে সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করেছি।’

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেকচার সজীব ওয়াজেদ জায়ের পরামর্শে আমরা প্রোগ্রামিংকে আইসিটির পলিসিতে সংযুক্ত করেছিলাম যে, ক্লাস সিক্স থেকে টুয়েলভ পর্যন্ত সব শ্রেণিতে প্রোগ্রামিংটা আবশ্যিক বিষয় হিসেবে থাকেবে। এখন সারাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রোগ্রামিংকে গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। সারাদেশের ছাত্রছাত্রীরা যাতে কম্পউটারিং কোডিং হাতে-কলমে শিখতে পারে সেজন্য শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে।’

    সারাদেশের ছাত্রছাত্রীদের প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিষয়ে পলক বলেন, ‘এ বছর সারাদেশে প্রায় ২০ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এই জাতীয় প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছে। গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে। আগামী বছর আরো বাড়বে বলেও আশা করেন তিনি।

    অগামী পাঁচ বছরে সারাবিশ্বে প্রায় ২০ লাখ প্রোগ্রামারের প্রয়োজন হবে ‍উল্লেখ করে পলক বলেন, ‘আশা করছি আমরা বিশ্বের এই প্রয়োজনটা মেটাতে পারবো। সেই মতো করে আমাদের ছেলেমেয়েদেরকে তৈরি করা হচ্ছে।’

    তিনি বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সবাইকে একসাথে নিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই। পুরুষদের পাশাপাশি নারীদেরও সমান অবদান রয়েছে এবং আমরা চাই ২০৩০ সালের মধ্যে অন্যান্য খাতের মতো তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নারী এবং পুরুষের সমতা হবে।’

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড্যাফোডিল আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য অধ্যাপক ড. ইউসুফ এম ইসলাম। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন, ‘বাংলাদেশে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রোগ্রামিংয়ের আন্তর্জাতিক নানা আয়োজনে আমাদের সফলতা রয়েছে। এর ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিশেষ করে মেয়েদের আরো এগিয়ে আসতে হবে যাতে করে বাংলাদেশের মেধাবী মেয়েরাও আন্তর্জাতিক ভাবে সফলতা দেখাতে পারে।’

    প্রতিযোগিতার সহযোগী আয়োজক ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সৈয়দ আখতার হোসেন জানান, ‌‘২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন এরই মধ্যে আইসিটি পড়ুয়া মেয়েদের মধ্যে যথেষ্ঠ আগ্রহ সৃষ্টি করেছে যা আশাব্যঞ্জক।’

    অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জীন বিজ্ঞানী ড. আবেদ চৌধুরী, আইসিটি বিভাগের উপসচিব মাহবুবা পান্না, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সহ-সভাপতি লাফিফা জামাল, সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানসহ অনেকে।

    সারাদেশের ৭৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১১৭ টি দল প্রতিযোগিতার জন্য নির্বাচিত হয়েছে যার মধ্যে ১০২টি দল আজকের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। এখান থেকে ১৫টি দলের মোট ৪৫ জন অংশগ্রহণকারীদের পুরস্কৃত করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের জন্য আগামী ১৭ থেকে ২০ মে ঢাকায় আবাসিক ক্যাম্পের আয়োজন করা হবে।

    বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষনা করা হয়। প্রতিযোগিতায় ৭টি সমস্যার মধ্যে ৬টি সমস্যার সমাধান করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ‘চুয়েট ডায়মন্ড অ্যান্ড রাস্ট’ দল।

    ৬টি সমস্যার সমাধান করে প্রথম রানার আপ হয়েছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ‘এনএসইউ লা লা ল্যান্ড’। ৫টি সমস্যার সমাধান করে দ্বিতীয় রানার আপ হয়েছে ‘চুয়েট গার্লস আর পার্লস’।

    বিজয়ী দলকে ৫০ হাজার টাকা, প্রথম রানার আপ ৩০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানার আপ ২০ হাজার টাকা আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়।

    এছাড়াও সেরা ১০টি দলকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ‘ব্র্যাকুটিএসপি’, রাজশাহী ইউনিভার্সিটি স্কুলের ‘আরইউ স্কুল পোলারাইস’ এবং ঢাকা সিটি কলেজের ‌‘ডিসিসি ফ্লেমিং গার্লস’।

    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আয়োজনে বাস্তবায়ন সহযোগী হিসেবে বিডিওএসএন ও জাজিং প্লাটফর্ম হিসেবে রয়েছে কোড মার্শাল এবং সহযোগী আয়োজক হিসেবে ছিলো ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি।

    সংবাদ প্রতিদিন বিডি/ এ কে আজাদ 

    (Visited 6 times, 1 visits today)

    আরও সংবাদ

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    *